বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, মানতে হবে ৭ শর্ত

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ মে ২০২২,   ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, মানতে হবে ৭ শর্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৮ ২৮ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৯:০৯ ২৮ জানুয়ারি ২০২২

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের যেসব কোম্পানি বিদেশে পণ্য রফতানি করে তারা চাইলে এখন বিদেশেও তাদের অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলছেন সাতটি শর্তে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ অনুমতি দেয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অধিশাখা সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে যা এরই মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এখন বিদেশে তাদের অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবেন।

এ বিনিয়োগের জন্য সরকারের কাছ থেকে ব্যবসায়ীদের অনুমতি নিতে হবে আর ব্যবসায়ীদের আবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগের অনুমতি দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি। তবে অনুমতি পাওয়ার পর কোনো কারণে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত না হলে প্রদত্ত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বলা হয়েছে এই নীতিমালায়।

আরো পড়ুন: এনবিআরের প্রাক-বাজেট আলোচনা ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু 

অর্থনীতিবিদ ও গবেষক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এ নীতিমালার ফলে এখন বাংলাদেশি রফতানি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে অফিস স্থাপন করে সরাসরি তাদের ব্রান্ডকে প্রমোট করতে পারবেন। তবে সঠিকভাবে মনিটর না করা গেলে অর্থ পাচারের ঝুঁকির শঙ্কা তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও মানবসম্পদ না থাকা এবং বাজারের আকারের জন্য যেসব উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে পারছেন না তাদের জন্য এটি একটি সুযোগ তৈরি করবে। তারা অব্যবহৃত অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং বিনিয়োগ থেকে যে রিটার্ন পাবে তার একটি অংশ দেশে আসলে সরকার রাজস্ব পাবে। তারা অব্যবহৃত অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং বিনিয়োগ থেকে যে রিটার্ন পাবে তার একটি অংশ দেশে আসলে সরকার রাজস্ব পাবে।

ড. মোয়াজ্জেম বলেন, এ বিধিমালার আওতায় বিনিয়োগ হলে সেখানে থাকা বাংলাদেশি পেশাদারদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি হবে। আবার বাংলাদেশ থেকেও তারা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ দিতে পারবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা তাদের পরিকল্পনা মতো ব্যবসার একটি অংশ বিদেশে স্থানান্তর করতে পারবে।

আরো পড়ুন: আগামী বছর উৎপাদনে যাচ্ছে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অর্থ পাচার এবং কালো টাকা তৈরি ঠেকাতে সরকারের এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তারা আশা করছেন। আবার প্রচুর অর্থ পাচারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। সে কারণে বিনিয়োগের সীমার সবটুকু বিনিয়োগের অনুমতি না দিয়ে ধীরে ধীরে অনুমতি দেয়া উচিত। অল্প বিনিয়োগ করে অভিজ্ঞতা অর্জনের পরে বেশি বিনিয়োগ করতে দেয়া উচিত হবে।

প্রসঙ্গত, এতদিন কিছু বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বিদেশে বিনিয়োগ করলেও এ বিষয়ে কোন নীতিমালা বা বিধিমালা দেশে ছিল না। সাধারণত কোন প্রতিষ্ঠান আবেদন করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটি যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত জানাতো।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিনিয়োগের গন্তব্য হতে পারবে এমন দেশ যেখানে বাংলাদেশের নাগরিকদের কাজ করার এবং তাদের অর্জিত অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনতে কোন বিধিনিষেধ নেই।

বিনিয়োগের গন্তব্য নিয়ে আর যে যে শর্ত রয়েছে :

১. যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি আছে।

২. যেসব দেশে বাংলাদেশি বিনিয়োগ এবং তা থেকে লাভসহ মূলধন, মুনাফা, লভ্যাংশ, সুদ, শেয়ার বিক্রয়লব্ধ অর্থ, বিনিয়োগ বিলুপ্তির ফলে অবশিষ্ট অর্থ এবং কারিগরি প্রজ্ঞান ফি, রয়্যালটি, পরামর্শক ফি, কমিশন বা অন্যান্য প্রাপ্য বা পাওনা বাংলাদেশে ফেরত আনার অনুমোদন আছে।

৩. যেসব দেশের সাথে বাংলাদেশ সরকারের দ্বিপাক্ষিক পুঁজি-বিনিয়োগ, উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণ চুক্তি আছে। তবে কোন বিনিয়োগকারী বিনিয়োগের আয় ও লভ্যাংশ দেশে আনতে ব্যর্থ হলে তা অর্থ পাচার ও মানি লন্ডারিং হিসেবে বিবেচিত হবে।


প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কিছু দেশে ব্যবসায়ীরা চাইলেই বিনিয়োগ করতে পারবেন না। সেগুলো হলো:

১. জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল যেসব দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেবে।

২. ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (এফএটিএফ) এর আওতায় যেসব দেশের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্স কর্তৃক প্রতিব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা আছে।

৩. যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

প্রজ্ঞাপনে কারা বিদেশে বিনিয়োগ করতে পারবে তার বৈশিষ্ট্য দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো:

১. রফতানিকারকের সংরক্ষিত কোটা হিসেবে পর্যাপ্ত স্থিতি আছে এমন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান

২.আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী সচ্ছল হতে হবে।

৩. আবেদনকারীর ক্রেডিট রেটিং অন্তত দুই হতে হবে।

৪. যে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হবে সেটি বাংলাদেশে আবেদনকারীর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অনুরূপ বা সহায়ক বা সম্পূরক হতে হবে।

৫. বিনিয়োগ প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে টেকসহ হতে হবে।

৬. বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় আয় অর্জনের সম্ভাবনাময় উৎস এবং বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি বৃদ্ধিসহ অন্য সুযোগ সুবিধা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব থাকতে হবে।

৭. আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা, অর্থায়ন ও বিনিয়োগে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল থাকতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে বিনিয়োগের জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান তার বিগত পাঁচ বছরের বার্ষিক গড় রপ্তানি আয়ের অনধিক ২০ শতাংশ বা সর্বশেষ নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো নিট সম্পদের ২৫ শতাংশ হবে বিনিয়োগের সীমা। তবে এ দুটির মধ্যে যেটি কম সেটুকুই বিনিয়োগের আবেদন করা যাবে।

নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো বিদেশে তাদের শাখা অফিস স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে।

অর্থবছর শেষের ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে পাঠাতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএডি

English HighlightsREAD MORE »