‘ধামাকা’র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৯ সফর ১৪৪৩

‘ধামাকা’র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৬ ২৭ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৬:০৩ ২৭ জুলাই ২০২১

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ইভ্যালির মতো গাড়ি, বাইকসহ বিভিন্ন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অফার দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রীম টাকা নেয়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ধামাকা’র সংশ্লিষ্ট ১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

এরমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জসিম উদ্দিন চিশতির ব্যক্তিগতসহ ছয়টি, তার মালিকানাধীন ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের সাতটি এবং মাইক্রো ট্রেড ও মাইক্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজের একটি করে অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধাকামা শপিং ডটকমের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া অর্থ পাচারের তথ্য পাওয়ার পরই অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করা হয়। 

সিআইডির তদন্ত সূত্র জানায়, নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত গ্রাহকের থেকে নেয়া প্রায় ৫০ কোটি টাকা পাচার করে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকা। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি বাংলাদেশ ব্যাংককে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করে দেওয়ার অনুরোধ জানায়।

সোমবার (২৬ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার সিরাজুল ইসলাম রানাসহ পাঁচ কর্মকর্তার জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার ব্লক করা হয়।  এছাড়া তাদের ওপর বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞাও আরোপিত করা হয়েছে। এ পাঁচ কর্মকর্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করতেও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে সিআইডি। তবে কোম্পানিটির এমডি জসিম উদ্দিন আগে থেকেই বিদেশে রয়েছেন। আপাতত ৩০ দিনের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সিআইডিকে জানায়, অ্যাকাউন্টগুলো দীর্ঘ মেয়াদে জব্দ করার প্রয়োজন হলে আদালতের রায় লাগবে। রায়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টগুলো জব্দের কার্যকর করা হবে।

এ ব্যাপারে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অর্থপাচারের তথ্য পাওয়ার পর ধামাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছিলাম। তার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিষ্ঠানটির ১৪টি অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, ধামাকা শপিংয়ের নামে ই-কমার্স ব্যবসার কোনো লাইসেন্স নেই। ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের নামে অবৈধভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে চলছিল প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ইনভেরিয়েন্ট টেলিকমের লাইসেন্সে ই-কমার্স ব্যবসার অনুমতি নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ইভ্যালির মতো বিজনেস মডেল ও নানা অভিযোগ থাকায় এরই মধ্যে ‘ধামাকা’র বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। অর্থপাচারের বিষয়ে নিশ্চিত হলে ধামাকার মেম্বারশিপ বাতিল করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে যাত্রা শুরু করে ধামাকা। ইভ্যালির মতো গাড়ি, বাইকসহ বিভিন্ন পণ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অফার দিয়ে গ্রাহকদের থেকে মোটা অংকের টাকা অগ্রিম হিসেবে তুলে নিয়েছে ধামাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/আরএইচ