মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির প্রবণতা কমে গেছে: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭,   ১৫ রজব ১৪৪২

মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির প্রবণতা কমে গেছে: অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৬ ২৬ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৯:০২ ২৭ জানুয়ারি ২০২১

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, শুল্ক ব্যবস্থাপনা আধুনিক হওয়ায় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানির প্রবণতা এখন কমে এসেছে। তবে শুল্ক পদ্ধতিকে আরো আধুনিকায়নে বন্দরগুলোতে স্ক্যানার মেশিনের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।

রাজধানীর সেগুন বাগিচায় রাজস্ব ভবন সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার ও ডব্লিউসিও সার্টিফিকেট অব মেরিট প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, এনবিআরের সদস্য খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান, মো. আলমগীর হোসেন, আব্দুল মান্নান সিকদার ও মাসুদ সাদিক বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনবিআরের সদস্য (কাস্টমস নীতি ও আইসিটি) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমদানি-রফতানি বাণিজ্য অধিক নিরাপদ ও ব্যবসা সহজীকরণে বন্দরের শুল্ক ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অটোমেশন করা জরুরি। তাহলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কেউ পণ্য আমদানি-রফতানির সুযোগ পাবে না। কাজগপত্র বা ডকুমেন্টস যাচাই করা সহজ হবে।

তিনি বলেন, শিপমেন্টগুলোতে আমদানি-রফতানি পণ্যের ঘোষণা যদি ঠিকমতো যাচাই করা যায়, তাহলে রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে তেমনি ব্যবসার পরিবেশ আরো সহজ হবে। একইসাথে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি লাভবান হবে।

মুস্তফা কামাল বলেন, শুল্ক কর্তৃপক্ষ বা এনবিআর আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবসাবান্ধব। তবে কোভিড মহামারি মোকাবেলায় সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজস্ব কর্মকর্তাদের আরো বেশি আন্তরিক হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি জানান, রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি এনবিআর ব্যবসা সহজীকরণের প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে শুল্ক ও ভ্যাট কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা প্রদান করে সরবরাহ কাঠামো ঠিক রেখেছে, যা এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে দরকার ছিল। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সচল রাখতে শুল্ক কর্তৃপক্ষ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবে কর জিডিপির অনুপাত কত, তার সঠিক হিসাব নির্ণয় করতে এনবিআর সরকারি প্রকল্পগুলোতে যে কর, ভ্যাট বা শুল্ক ডিউটি অব্যাহতি দিচ্ছে সেটা জানা দরকার। সরকারি প্রকল্পে অব্যাহতি দেয়া রাজস্বের পরিমাণ রেকর্ড থাকলে, কত টাকার কর ছাড় দেয়া হলো সেটা যেমন জানা থাকবে, পাশাপাশি অব্যাহতি না দিলে মোট রাজস্বের পরিমাণ কত দাঁড়াতো সেটাও জানা যাবে।

অনুষ্ঠানে করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণকারী সাত রাজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মরণোত্তর ডব্লিউসিও সার্টিফিকেট অব মেরিট প্রদান করা হয়। এছাড়া আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বিশেষ অবদান রাখায় এনবিআরের দশ কর্মকর্তা এবং তিন প্রতিষ্ঠান ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস এবং বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনকে (বিএমএ) ডব্লিউসিও সার্টিফিকেট অব মেরিট প্রদান করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইকেডি/এইচএন