রফতানিমুখী শিল্পখাতের প্রযুক্তি উন্নয়নে হাজার কোটির তহবিল

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৭ ১৪২৭,   ১৭ রজব ১৪৪২

রফতানিমুখী শিল্পখাতের প্রযুক্তি উন্নয়নে হাজার কোটির তহবিল

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০২ ১৭ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১২:৪৮ ১৮ জানুয়ারি ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রফতানিমুখী শিল্পখাতের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য এক হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। রফতানি নীতির আওতাধীন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া ও বিশেষ উন্নয়নমূলক খাতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে এ তহবিল বিতরণ করা হবে।

রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এটি সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানিমুখী শিল্পখাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া সৃষ্টি, জ্বালানির সাশ্রয় ও দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং উৎপাদন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ইত্যাদি বিষয়ে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিশেষ উন্নয়নমূলক ৩২টি খাতের জন্য এ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়া যাবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট শিল্পের মুখ্য উৎপাদন, জ্বালানি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজনেস প্রসেসিং, রিইঞ্জিনিয়ারিং, অপারেশন ম্যানেজমেন্ট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়ু ব্যবস্থাপনা, তাপ ব্যবস্থাপনা, কর্মপরিবেশ (অগ্নিব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা) ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবহার ব্যবস্থাপনা, মানব সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আধুনিক প্রযুক্তি, হিসাবায়ন, ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনা, বিপণন, বিক্রয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার অটোমেশন সংক্রান্ত আধুনিক মেশিনারিজ/প্রযুক্তি কার্যক্রম/উদ্যোগের আওতায় অগ্রাধিকার পাওয়া খাত এই ঋণের আওতায় থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো এক শতাংশ সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল নিয়ে দুই থেকে তিন শতাংশ সুদে বিনিয়োগ করতে পারবে। ঋণ বিনিয়োগের মূলধনের অনুপাত হবে ন্যূনতম ৭০ঃ৩০ শতাংশ। তিন থেকে ১০ বছর মেয়াদে বিনিয়োগের গ্রেস পিরিয়ড হবে ব্যাংকার গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ এক বছর। শ্রেণিকৃত ঋণ/বিনিয়োগের হার ১০ শতাংশের বেশি হবে না।

এদিকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা মঞ্জুর করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও দলিলাদি বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শন করবে। পুনঃঅর্থায়নের মেয়াদ পর্যন্ত পরবর্তী ছয় মাস পর পর বাংলাদেশ ব্যাংক ওই প্রকল্প পরিদর্শন অব্যাহত রাখবে।

আরো বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো ভুল তথ্য প্রদান পূর্বক পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করলে কিংবা ঋণ বিনিয়োগের অর্থ সদ্ব্যবহার হয়নি মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরেজমিন পরিদর্শনে উদঘাটন হলে কিংবা স্কিমের আওতায় সুবিধা পাওয়া গ্রাহক বিরূপমানে শ্রেণিকৃত হওয়ার পরও তা বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত না করলে অংশগ্রহণ চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে পুনঃঅর্থায়ন বাবদ প্রদত্ত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক ধার্যকৃত সুদ/মুনাফাসহ অতিরিক্ত পাঁচ শতাংশ হারে সুদ/মুনাফাসহ এককালীন চলতি হিসাব থেকে কর্তন করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এইচএন