কমেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ

ঢাকা, রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১০ ১৪২৭,   ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কমেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:২৫ ১ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:০৯ ১ ডিসেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিশেষ সুবিধা এবং ছাড় দেয়ায় তিন মাসের ব্যবধানে কমে এসেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। জুনের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে তা কমে দাঁড়ায় ৯৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৪৭ লাখ টাকায়, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। গত জুনের শেষে এই পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।

চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। ভাইরাসটির প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের নানা খাতে সংকট সৃষ্টি হয়। এই সংকটকালে ঋণখেলাপিদের আরো সুবিধা দেয় সরকার। সরকারি সুবিধার ফলে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তি না দিলেও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না।

২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তি না দিলেও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না বলে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। 

সেই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো কিস্তি পরিশোধ না করলেও গ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন না। এ সময়ের মধ্যে ঋণ অথবা বিনিয়োগের ওপর কোনোরকম দণ্ড, সুদ বা অতিরিক্ত ফি আরোপ করা যাবে না।

২০১৯ সালের ১৬ মে ঋণখেলাপিদের মোট ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয় সরকার। সরকারের প্রদানকৃত ‘বিশেষ’ ওই সুবিধার আওতায় জুন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলো নবায়ন করে, যার অর্ধেকই করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েও গত বছর বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, যার পরিমাণ ৭৫ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে জুন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) করেছে ব্যাংকগুলো। অর্থাৎ এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে এই অর্থ বাদ যাবে, যদিও তা ব্যাংকগুলোর কাছে সহসাই ফেরত আসছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, গত তিন মাসে মোট খেলাপি ঋণ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা কমে এসেছে, সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জন ঋণগ্রহীতা আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে রেখেছেন। ফলে ঋণ খেলাপি হিসাবে তাদের নাম বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) উল্লেখ করা হচ্ছে না। এ রকম ঋণের পরিমাণ এখন ৮০ হাজার কোটি টাকার মতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে তিন মাসে মাত্র দুই হাজার কোটি কমাটা খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না। তবে কমে আসাটা ইতিবাচক। হয়তো নতুন ঋণে শর্ত যোগ হওয়ায় বড় খেলাপিরা খেলাপি ঋণ কমিয়ে দিচ্ছে। আবার ব্যাংকারদের কড়াকড়ি আরোপও কমে আসার আরেকটি কারণ হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, এখন খেলাপিদের অনেকেই ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নতুন করে প্রণোদনার ঋণ নিতে চান। ফলে ডাউন পেমেন্ট হিসেবে কিছু টাকা আদায় হয়েছে, এটা খুব বেশি বলা যাবে না। তাছাড়া চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের ঋণ আদায়ে শিথিলতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/এইচএন