বাড়লো আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার সময়সীমা

ঢাকা, বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৬ ১৪২৭,   ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বাড়লো আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার সময়সীমা

অর্থনীতি ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪২ ৩০ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৪৩ ৩০ নভেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নভেম্বর মাস আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার মাস। চলতি করবর্ষের নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার শেষ সময় থাকে ৩০ নভেম্বর। এই দিনটিকে আয়কর দিবস হিসেবে পালন করা হয়। 

‘স্বচ্ছ ও আধুনিক করসেবা প্রদানের মাধ্যমে করদাতাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ এই স্লোগানে দেশে উদযাপিত হচ্ছে জাতীয় আয়কর দিবস-২০২০। এই দিনে অন্যান্য বছরে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার সময় শেষ হলেও এবার তা বাড়ানো হয়েছে আরো একমাস। অর্থাৎ যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেননি তাদের হাতে আরো কিছুটা সময় থাকছে।   

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাবে। সোমবার বিকেলে এ সময় বাড়ানো হয়েছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ সোমবার ছিল রিটার্ন জমা দেয়ার শেষ দিন। তাই কর অঞ্চলগুলোতে সকাল থেকেই উপচেপড়া ভিড় ছিল করদাতাদের।

আরো পড়ুন: সময়মতো আয়কর রিটার্ন না দিলে যেসব সমস্যায় পড়তে পারেন

সকালে রাজস্ব ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম জানিয়েছিলেন, আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার সময়সীমা বাড়ছে না। কিন্তু বিকালে সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

২০০৮ সাল থেকে দেশে উদযাপিত হচ্ছে আয়কর দিবস। যদিও আগে প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর আয়কর দিবস উদযাপিত হতো। তবে ২০১৬ সাল থেকে ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস পালন করছে এনবিআর। বর্তমানে দেশে ৪৬ লাখ কর শনাক্তকারী নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। তাদের মধ্যে ২২ লাখের মতো টিআইএনধারী রিটার্ন দেন।

যারা আয়কর রিটার্ন জমা না দেন তারা পড়তে পারেন নানান ঝামেলায়। আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে যে কত রকমের ঝামেলা হতে পারে তা অনেকেই জানেন না। এমনকি আগে করযোগ্য ছিলেন কিন্তু পরে সেরকম আয় আর নেই এমন ব্যক্তিকেও বিপাকে পড়তে হতে পারে।

নাম পরিচয় প্রকাশ না করে একজনের অভিজ্ঞতা এমন যে- ঢাকার ওই চাকুরিজীবী নিয়মিত কর দিতেন এবং সময়মত রিটার্নও জমা দিতেন। এক পর্যায়ে বেশ কিছুদিন তার চাকরি ছিল না। বেশ কিছুদিন পর তিনি খুব অল্প বেতনে নতুন যে চাকরি পেলেন তখন আর তিনি করযোগ্য ছিলেন না।

আরো পড়ুন: জাতীয় আয়কর দিবস আজ

প্রথমত আয় নেই, তারপর আর করযোগ্য নন চিন্তা করে পরপর তিন বছর রিটার্ন জমা দেননি তিনি। কিন্তু সমস্যা শুরু হল যখন তিনি একটা ব্যবসা দাঁড় করানোর জন্য ট্রেড লাইসেন্স করাতে গেলেন। ‘টিন (টিআইএন) নম্বর যেহেতু ছিল, সেটা হালনাগাদ হতে হবে, তা না হলে লাইসেন্স পাওয়া যাবে না। কিন্তু ব্যবসা চালু করতে অনেক সমস্যা দেখে সিদ্ধান্ত বদল করে বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করলেন। সেখানে আরেক ঝামেলা। ভিসার জন্য সর্বশেষ তিন বছরের ট্যাক্স ফাইল চাওয়া হল। তখন আয়কর বিষয়ক প্রফেশনাল কারো কাছে না গিয়ে উপায় ছিল না। 

একজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে, শুনানি করে, একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা দিয়ে তবেই তিনি রিটার্ন জমা দেয়ার ঝামেলা মেটাতে পরেছেন। কিন্তু তারপরও ঝামেলা শেষ হয়নি। সনদ নিতে গিয়ে তাকে দফায় দফায় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর অফিসে যেতে হয়েছে।

এমন একজনকে পাওয়া গেল যিনি নির্ধারিত সময়ের মাস চারেক পর রিটার্ন দাখিল করতে গিয়ে জানলেন কেন তিনি সময়মত কাজটি করেননি তার জবাব দিতে শুনানি হবে। শুনানির নোটিশ পেয়েছেন, কিন্তু এরপর আট মাস পার হয়ে নতুন বছরের রিটার্ন জমা দেয়ার সময় চলে এসেছে তবুও তিনি নোটিশেরই জবাব দেননি।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে