তাঁত, বস্ত্র ও কারু শিল্পকে বিস্তৃত করতে হবে: শিল্পমন্ত্রী

ঢাকা, বুধবার   ২৫ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১১ ১৪২৭,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

তাঁত, বস্ত্র ও কারু শিল্পকে বিস্তৃত করতে হবে: শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ২৯ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৮:৫৭ ২৯ অক্টোবর ২০২০

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন- ফাইল ফটো

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন- ফাইল ফটো

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় তাঁত, বস্ত্র ও কারু শিল্প বিকশিত হয়েছে, দেশীয় বাজারের ক্রেতাদের নিকট সেগুলোকে আরো বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স অব বাংলাদেশ (এএফডিবি) আয়োজিত হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল ২০২০’র সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

‘আমার পণ্য আমার দেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্লোগানে অনলাইনে চলে মাসব্যাপী এই ফেস্টিভ্যাল।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, বস্ত্র ও পাট সচিব লোকমান হোসেন মিয়া। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম এবং ফেস্টিভ্যালের নানা দিক তুলে ধরেন অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স বাংলাদেশ (এএফডিবি) সভাপতি মানতাশা আহমেদ।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে শিল্প মন্ত্রণালয় দেশের বৈচিত্র্যময় বস্ত্র ও কারু শিল্প পণ্য উন্নয়নে কাজ করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনে (বিসিক) সব পণ্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কাজ করছে। পটুয়া কামরুল হাসান, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের মত প্রথিতযশা শিল্পীরা বিসিকের মাধ্যমে নকশা তৈরি ও উন্নয়নে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে রুচিশীল ও উন্নত মানসমপন্ন পণ্যের চাহিদা শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও বেড়েছে। তিনি বৈচিত্র্যময় দেশীয় তাঁত ও বস্ত্রের বাজার সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দেশীয় বাজারের প্রতি আরো মনোযোগী হওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দেন। 

শিল্পমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সম্ভাবনাময় বিভিন্ন দেশীয় তাঁত ও বস্ত্র পণ্যের মান উন্নয়নে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিসুবিধা পৌঁছে দিতে এএফডিবি’র পক্ষ হতে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, গ্রামবাংলার  হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী বটতলার মেলা, মাজার ও স্থানীয় বিভিন্ন আয়োজন ও উৎসবকেন্দ্রিক মেলাগুলোকে পুনরায় চালু করা হবে। তিনি কোভিড-১৯’র প্রাদুর্ভাবকালে দেশি তাঁতিদের উৎপাদিত পণ্য অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স অব বাংলাদেশের ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘দেশি ভালোবাসি’র মাধ্যমে ক্রেতাদের নিকট পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করায় তাদের ধন্যবাদ জানান।
 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ দেশীয় বস্ত্রের ঐতিহ্য সংরক্ষণে ও পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়কে সব ধরনের সহায়তা প্রদান আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি ঢাকার পাশাপাশি অন্যান্য জেলাসমূহে বিস্তৃত আকারে তাঁত বস্ত্র মেলা আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, করোনার বিস্তার রোধে এবার ভিন্ন আঙ্গিকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘আমার পণ্য আমার দেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্লোগানে হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা মেলার অনলাইন পেজ Heritage Handloom Festival Bangladesh দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। মেলায় বয়নশিল্প প্রদর্শন, লাইভ ফ্যাশন শো’র পাশাপাশি ৭০টিরও বেশি অনলাইন স্টলে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হবে শাড়ি-লুঙ্গি-গামছা, খাদি, নকশিকাঁথা, বেনারসি শাড়ি, টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানি শাড়ি, মনিপুরী কাপড়, রাঙ্গামাটির চাকমাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কাপড় ও হস্তশিল্পসহ ১৪ ক্যাটগরির পণ্য। 

মেলায় খাতভিত্তিক পণ্যের ইতিহাস নিয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন, পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের ধারণা প্রদান ও অনলাইন সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, লোকজ শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, দেশি পোশাক বিষয়ে কুইজ ও ফটো কনটেস্ট, ক্রেতা-বিক্রেতা ম্যাচমেকিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন, ডিজাইনার, শিল্পী, তাঁতীসহ ঐতিহ্যবাহী পণ্যের উদ্যোক্তারা এ মেলায় অংশ নেবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে