সাড়ে তিন কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিল ফুডপান্ডা!

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৭,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

সাড়ে তিন কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিল ফুডপান্ডা!

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫৭ ২৮ অক্টোবর ২০২০  

সাড়ে তিন কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিল ফুডপান্ডা- ফাইল ছবি।

সাড়ে তিন কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিল ফুডপান্ডা- ফাইল ছবি।

দেশে অনলাইন খাবার সরবরাহকারী অন্যতম প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে তিন কোটি ৪০ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকিসহ কয়েকটি অভিযোগ এনে মামলাটি করে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতর।

ফুডপান্ডা প্রায় পাঁচ হাজার ফুডস্টোর থেকে খাবার সংগ্রহ করে ভোক্তাদের কাছে বাইকারদের মাধ্যমে সরবরাহ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফুডপান্ডার চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় ফুডপান্ডা কমিশন পায়।

গত ১৫ অক্টোবর ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ফুডপান্ডার অফিসে অভিযান চালায় ভ্যাট গোয়েন্দারা। এতে ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মেলে। ওই অভিযানটি পরিচালনা করেন ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পরিচালক নাজমুন্নাহার কায়সার ও সহকারী পরিচালক মো. মহিউদ্দীন।

অভিযানের সময় ভ্যাট সংক্রান্ত নথিপত্র দেখাতে পারেননি ফুডপান্ডার কর্মকর্তারা। তল্লাশির একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ল্যাপটপে মাসভিত্তিক বিক্রয়ের কিছু গোপন তথ্য মেলে। ওই সময় কিছু বাণিজ্যিক দলিল জব্দ করা হয়।

ফুডপান্ডা প্রতিষ্ঠানটি মূলত ইলেকট্রনিক নেটওয়ার্ক (অনলাইন প্ল্যাটফর্ম) ব্যবহার করে পণ্য বিক্রয় করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত সেবার কোড এস-০৯৯.৬০। এই কোডের আওতায় ভ্যাট ৫ শতাংশ এবং বাড়ি ভাড়ার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। কিন্তু  তথ্যপ্রযুক্তি সেবা অর্থাৎ সেবার কোড এস-০৯৯.১০-এর আওতায় নিবন্ধন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে ফুডপান্ডা। এই কোড কোনোভাবেই তাদের ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে জানান কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটি বাড়ি ভাড়ার ওপর অবৈধভাবে শূন্য হারে ভ্যাট সুবিধা নেয়ার উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করে আসছে।

দাখিলপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি লিমিটেড কোম্পানি হওয়া সত্ত্বেও পণ্য ক্রয়ের ওপর কোনো উৎসে মূসক পরিশোধ করেনি।

ভুল সেবা কোড ব্যবহার, প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন এবং উৎসে ভ্যাট না দেয়ায় ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে করা মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে পাঠানো হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ