কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা চুরি: নিউ ইয়র্কে আরেকটি মামলা

ঢাকা, সোমবার   ০৬ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২২ ১৪২৭,   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা চুরি: নিউ ইয়র্কে আরেকটি মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৫৮ ৩ জুন ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনায় নিউ ইয়র্কের আদালতে আরেকটি  মামলা করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি) ও সেদেশের অভিযুক্ত ক্যাসিনোসহ মোট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সিএনএন এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকটি সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সিএনএন জানায়, সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে চুরি, অপব্যবহার এবং এ জাতীয় কাজকে সহায়তা ও জালিয়াতি করা, প্রতারণা করার ষড়যন্ত্রসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের এটি দ্বিতীয় মামলা। এর আগে গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নিউ ইয়র্কে মার্কিন ফেডারেল আদালতে প্রথম মামলা করেছিল বাংলাদেশ। সেই মামলায় বাংলাদেশের উত্থাপিত মোট নয়টি অভিযোগের মধ্যে আটটি আমলে নিয়ে নিউ ইয়র্ক রাজ্য আদালতে মামলা করতে বাংলাদেশকে নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন ওই ফেডারেল আদালত।

এদিকে, অর্থ চুরির ঘটনায় জড়িত রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপকসহ কয়েকজনকে সাজাও দিয়েছে ফিলিপাইনের আদালত।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সেই তদন্ত এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। এরইমধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৭ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করতে পেরেছে বাংলাদেশ। অবশিষ্ট ৬৪ মিলিয়ন ডলারের কোনো হদিস এখনো পাওয়া যায়নি। 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছুটির দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার হামলা চালায় হ্যাকাররা। তারা এক বিলিয়ন ডলার চুরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভুয়া আদেশ দিতে থাকে। সেই আদেশের বেশ কিছু বাস্তবায়ন করে ১০১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক। সেই টাকা পার করা হয় ফিলিপাইনের আরসিবিসি’র কয়েকটি হিসাবে। ৮১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর হয় ফিলিপাইনের আরসিবিসিতে। ফেডারেল রিজার্ভ এবং বাংলাদেশে ব্যাংকের পক্ষথেকে টাকা ছাড় করতে নিষেধ করা হলেও খুব দ্রুততার সঙ্গে চুরি যাওয়া সেই অর্থ দিয়ে দেয় আরসিবিসি।

আর ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয় শ্রীলঙ্কার একটি বেসরকারি সংস্থার হিসাবে। তবে সন্দেহ হওয়ার টাকা আটকে দেয় শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তরিত করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএস/আরএ