দুর্নীতিতে বাধা দেয়ায় দুর্ধর্ষ চুরি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৫ ১৪২৭,   ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

দুর্নীতিতে বাধা দেয়ায় দুর্ধর্ষ চুরি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:১৩ ১৫ জানুয়ারি ২০২১  

গ্রেফতারকৃত সংঘবদ্ধ চোরচক্র

গ্রেফতারকৃত সংঘবদ্ধ চোরচক্র

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসারের সরকারি কোয়ার্টারে প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র প্রকাশ্য দিবালোকে কোয়াটারের দরজার তালা কেটে টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ছয় লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। 

বুধবার দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ ওইদিনই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার একাব্বর আলীসহ চার কর্মচারীকে গ্রেফতার করে। পরে বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ফুলবাড়ী থানার ওসি রাজীব কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে সদ্যবিদায়ী ইউএইচএফপিও ডা. শামছুন্নাহার দাবি করেছেন, অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার একাব্বরের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে বাধা দেয়ায় তাকে হত্যা করাসহ তার বাসার জিনিসপত্র চুরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তিনি ওই সময় বাসায় না থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছেন।

পুলিশ ও ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১১টায় ইউএইচএফপিও ডা. শামছুন্নাহার ও আরএমও ডা.ফজিলাতুন্নেছা বর্ণা কোয়ার্টারের দরজায় তালা দিয়ে অফিসে যান। দুপুর ২টায় আরএমও ডা. বর্ণা কোয়ার্টারে ফিরে দেখতে পান দুই রুমের দরজার তালা কাটা, জিনিসপত্র এলোমেলো। 

খবর পেয়ে ডা. শামছুন্নাহার তার কোয়ার্টারে গিয়ে দেখতে পান তার ঘরের শো-কেচের ড্রয়ারে রাখা টাকা ও তার ব্যবহৃত স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ছয় লাখ টাকার মালামাল গায়েব। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। পুলিশ এসে হাসপাতাল চত্বরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বুধবার রাতেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার একাব্বর আলীসহ চারজনকে আটক করে। 

আটক অন্যরা হলো অ্যাম্বুলেন্স চালক একাব্বরের ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্সের সহকারী শাহ আলম, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রদীপ চন্দ্র দাস এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বেচ্ছাসেবী রফিকুল ইসলাম অপি।

ডা. শামছুন্নাহার জানান, এই চুরি ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। অ্যাম্বুলেন্স চালক একাব্বর মূলত ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে তার অপরাধের রাজ্য বানিয়েছিল। সে বিভিন্ন অপকর্মের হোতা। বিভিন্ন অনিয়ম করে উপার্জন করে সে নিজের মালিকানাধীন একটি অ্যাম্বুলেন্স ও দুটি মাইক্রোবাসের মালিক হয়েছে। হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট দেখিয়ে তা মেরামতের নামে সে লুটপাট চালাচ্ছিল। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বিকলের কথা বলে সে রোগীদের নিজের অ্যাম্বুলেন্সে করে পরিবহন করতো। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় সে এসব অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।

এই চিকিৎসা কর্মকর্তা বলেন, তার (একাব্বরের) এসব অনিয়মে বাধা দেয়ায় সে আমাকে হত্যা করার পরিকল্পনাসহ আমার বাসার জিনিসপত্র চুরি করিয়েছে। চুরিতে অংশ নেয়া প্রত্যেকেই তার সহযোগী।

অ্যাম্বুলেন্স চালক একাব্বরের নিজস্ব মালিকানাধীন মাইক্রোবাসের চালক রফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগী রাশেদুল ইসলাম এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএলএসএস  মতিয়ারসহ আরো কয়েকজন এই পরিকল্পনায় জড়িত রয়েছে দাবি করে ডা. শামছুন্নাহার আরো বলেন, আমি সদ্য ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে বদলি হয়ে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেছি। বুধবার ফুলবাড়ীতে আমার শেষ কর্মদিবস ছিল। গত ৭ জানুয়ারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের একটি ওষুধের দোকানে বসে একাব্বর ও তার সহযোগীরা আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে জানতে পেরেছি। আমি এরই মধ্যে ফুলবাড়ী থানায় একটি চুরির মামলা করেছি। তবে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করায় আমি আমার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।

সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, নবনিযুক্ত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওসি রাজীব কুমার রায় জানান, প্রাথমিকভাবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আটক শাহ আলম ও প্রদীপকে চিহ্নিত করা গেছে। ওই দুজনসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে চার দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ