ডিসির সহযোগিতায় নতুন জীবন পেল সিয়াম

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১৫ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

ডিসির সহযোগিতায় নতুন জীবন পেল সিয়াম

নাটোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৪ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৬:৩৫ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

জেলা প্রশাসকের সঙ্গে হাস্যোৎজ্জ্বল সিয়াম

জেলা প্রশাসকের সঙ্গে হাস্যোৎজ্জ্বল সিয়াম

১০ বছর বয়সী সিয়াম হোসেন। বাবা দিনমজুর। এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার তার। চার বছর বয়সে সিয়ামের মাথায় ধরা পড়ে জটিল ব্রেইন টিউমার। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারটি সর্বত্র হারিয়েছেন। হাস্যোৎজ্জ্বল শিশু সিয়ামকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, সে জটিল ব্রেইন টিউমার রোগে আক্রান্ত। মাঝে মাঝে মাথা যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলত। এ বয়সের শিশুদের খেলাধুলা আর হাসি-খুশি থাকার কথা ছিল কিন্তু সিয়ামের একমাত্র ভরসা ছিল বিছানা। শিশু সিয়ামের সবকিছু শুনে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ।

সিয়াম নাটোর সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া উত্তর পটুয়াপাড়া এলাকার গোলাপ হোসেন ও রানী বেগম দম্পতির ছেলে। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে সিয়াম মেজো। 

জানা যায়, ২০২১ সালে যখন আর সিয়ামের চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না ঠিক তখন  সাহায্যের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে যান বাবা-মা। তাদের মুখে ছেলে সিয়ামের ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার সব কিছু শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন জেলা প্রশাসক। পরে তিনি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত শিশু সিয়ামের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। ছয় মাস আগে ঢাকার পিজি হাসপাতালে তার মাথায় তিনটি অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে সিয়াম সুস্থ রয়েছে।

এদিকে, ছেলের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থানকালে মাথা গোঁজার ঠাঁইটিও চলে যায়। বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘরও প্রদান করেন পরিবারটিকে। তারা শিগগিরই নতুন ঘরে উঠবেন বলে জানান সিয়ামের মা রানী বেগম।

সিয়ামের বাবা গোলাপ হোসেন বলেন, জন্মের সময় সিয়ামের কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। তবে চার বছর বয়সে তার চলাচল দেখে বুঝতে পারি সে স্বাভাবিক নয়। পরে তাকে একাধিক চিকিৎসক দেখাই। চিকিৎসক এটিকে ব্রেইন টিউমার বলে চিহ্নিত করে চিকিৎসা দেন। ইতোমধ্যে চিকিৎসা করে অনেক টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। এতে কোনো উন্নতি না হওয়ায় জেলা প্রশাসকের কাছে হাজির হই এবং তিনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সিয়ামকে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন। থাকার জন্য দিয়েছেন একটি বাড়িও।

শিশু সিয়াম

শিশুটির মা রানী বেগম বলেন, জন্মের পর বেশ ভালোই ছিল। যখন তার বয়স চার বছর, তখন থেকেই রোগের দেখা। সে চোখে ঝাপসা দেখতো। অনেক কষ্টে অপারেশন করার পর চোখ দুটো ফিরে পেয়েছে। কিন্তু ধরা পড়েছে ব্রেইন টিউমার। পাঁচ বছর ছেলেটির চিকিৎসার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সুস্থ হয়নি।

জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার ফেরেশতার মতো আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি না থাকলে হয়তো আমার সিয়াম এখন সুস্থ থাকত না। তিনি আমাদের জন্য যা যা করেছেন তা ভুলবার নয়। তিনি একজন মানবিক মানুষ। তার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করি সব সময়।

জেলা প্রশাসক শামীম হোসেন বলেন, আমি নিজে থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সিয়ামের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা আগেও করা হয়েছিল, এখনো করা হচ্ছে। সিয়ামের পরিপূর্ণ চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন তা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে। অসহায় মানুষের পাশে সব সময় থাকবে জেলা প্রশাসন বলে জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআরএস

English HighlightsREAD MORE »