হাসপাতালের সিঁড়িতে পাওয়া সেই নবজাতক ওয়ার্ড থেকে চুরি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১৪ আশ্বিন ১৪২৯,   ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

হাসপাতালের সিঁড়িতে পাওয়া সেই নবজাতক ওয়ার্ড থেকে চুরি

নওগাঁ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:০৮ ১৭ আগস্ট ২০২২  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

নওগাঁয় ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিঁড়িঘর থেকে উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতকটি চুরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ঐ শিশুটিকে শেষবারের মতো হাসপাতালে দেখা গেছে। তবে সেদিন বিকেল থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি।

এদিকে মাত্র ৪০ ঘণ্টার ব্যবধানে শিশু ওয়ার্ড থেকে শিশু চুরির ঘটনা ঘটলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রাখেন। এই ঘটনা প্রকাশের পর এলাকার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। 

বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরের দিকে গণমাধ্যম কর্মিরা শিশুটির খোঁজ-খবর নিতে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কৌশলে দায় এড়িয়ে যান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে হাসপাতালের সিঁড়িতে মানুষের চেঁচামেচি শুনে এগিয়ে যান ওয়ার্ড বয় রাজু হোসেন। সেখানে দেখতে পান সিঁড়িতে এক নবজাতক কান্না করছে। লোকজন তাকে ঘিরে রেখেছে, এমন অবস্থায় কোলে তুলে নিয়ে শিশু ওয়ার্ডে অজ্ঞাত শিশু হওয়ায় ওয়ার্ডবয়ের নামেই ভর্তি করান।

হাসতালের শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. মুনিরা জান্নাত বলেন, ওয়ার্ডবয় রাজু শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। তার অক্সিজেন স্বল্পতা ছিল, আমরা দ্রুত অক্সিজেনের ব্যবস্থা গ্রহণ করি এবং শিশু ডাক্তার এসে তাৎক্ষণিক শিশুটির চিকিৎসাসেবা দেন।

নিরাপত্তার জন্য ঐ রাতেই এক নারী পুলিশকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।  দেখভালের জন্য হাসপাতালে শিশুটির সঙ্গেই ছিলেন ঐ নারী কনস্টেবল। ঐ রাতে অক্সিজেনের ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ দিয়ে শিশুটিকে সুস্থ করে তোলা হয়। পরে শিশুটিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কেএমসি ইউনিটে রাখা হয়েছিল। পরদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জিম্মায় শিশুটিকে রেখে চলে আসেন ওই নারী কনস্টেবল। 

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিশুটিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কেএমসি ইউনিটে দেখা গেলেও দুপুর ১টার পর আর দেখা যায়নি। 

শিশু ওয়ার্ডে তৎকালীন সময়ে দায়িত্বরত ইন্টার্ন নার্স আকলিমা খাতুন বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে বাচ্চার অভিভাবক পরিচয়ে দুইজন নারী কেএমসি ইউনিটে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করেছিলেন। সেই সময়ে পাশের কক্ষে রোগী দেখতে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে দরজা বন্ধ রেখে তারা আমাকে কিছুক্ষণ পর আসতে বলেন। একটু পর এসে দেখি শিশুটি এবং ওই দুই নারী কোথাও নেই।’

শিশু বিভাগের প্রধান ডা. রতন কুমার সিংহ গণমাধ্যমে বলেন, মঙ্গলবার সকালে রাউন্ডে ৪-৫ দিনের বয়সী ওই নবজাতক শিশু কন্যাটিকে দেখার পর একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। তারপর বাচ্চাটি কীভাবে চুরি হলো তা জানা নেই। 

নওগাঁ সদর মডেল থানার (ওসি তদন্ত) রাজিবুল ইসলাম বলেন, ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে অভিভাবক প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগতভাবে বাচ্চাটি তারা হস্তান্তর করবে এমন লিখিত দিলে বাচ্চাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হেফাজতে বুঝিয়ে দেওয়ার পর নারী কনস্টেবল চলে আসেন। শিশুটি চুরি হওয়ার বিষয়ে পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানান ওসি।

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, ‘শিশুটিকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ্য করে তোলার পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বুঝে দেওয়া হয়। আমরা শুধু নিজেদের হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। পরে বাচ্চাটিকে ছাড়পত্র ছাড়াই কে-কীভাবে নিয়ে গেছে আমার জানা নেই।’

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »