বেগুন গাছে শোভা পাচ্ছে থোকা থোকা টমেটো

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১৪ আশ্বিন ১৪২৯,   ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

বেগুন গাছে শোভা পাচ্ছে থোকা থোকা টমেটো

মেহেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫৬ ১৪ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ২১:৫৯ ১৪ আগস্ট ২০২২

বেগুন গাছে চাষ করা টমেটোর যত্ন নিচ্ছেন কৃষক- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বেগুন গাছে চাষ করা টমেটোর যত্ন নিচ্ছেন কৃষক- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বেগুন গাছে ঝুলছে থোকা থোকা টমেটো। একই গাছে টমেটো আর বেগুন এ যেন অন্য রকম এক ফসলের আবাদ। এতে কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

মেহেরপুরে সদর উপজেলার হিজুলী গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন গ্রাফটিং পদ্ধতিতে বেগুন গাছে টমেটোর আবাদ করে সাড়া ফেলেছেন। ফারুক হোসেনের বেগুন গাছে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের সফলতা দেখে অনেক কৃষক উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন এ জেলার কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফারুক হোসেন পাঁচ কাঠা জমিতে বারি হাইব্রিড-৮ জাতের টমেটো চাষ করেছেন গ্রাফটিং পদ্ধতিতে। বেগুন গাছের নিচে বেগুন ঝুলে থাকলেও গাছের উপরে টমেটোর সমারোহ। কাঁচা-পাকা টমেটোয় ভরে গেছে গাছ।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় ১৫ কাঠা জমিতে ৩ জন চাষি গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চাষ করছেন। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। গ্রাফটিং পদ্ধতিতে বারি-৮ জাতের টমেটো চাষ করেছেন এই তিন কৃষক।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে ফারুক হোসেন এ বছর প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচ কাঠা জমিতে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষের সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেন। এতে মোট ১০ হাজার টাকা খরচ হলেও এরই মধ্যে ৩০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। এছাড়া এখনো ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করার আশা করেছেন তিনি।

বেগুন গাছে চাষ করা টমেটো- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কৃষক ফারুকক হোসেন বলেন, একই গাছে দুইটি ফল, এটা আমার কাছে প্রথম দিকে অসম্ভব মনে হয়েছিল। তবে আমি হাল ছাড়িনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রথমে পাঁচ কাঠা জমি নির্বাচিত করি। এরপর শুরু করি বীজতলা তৈরির কাজ। প্রথমে বেগুন গাছ বড় হওয়ার পর ডালপালা কেটে টমেটোর গ্রাফটিং করি। বেগুন গাছ অনেক দিন ফল দেয়। এছাড়া বেগুন গাছ পানি সহনশীল। তাই এই পদ্ধতিতে অনেকদিন টমেটো পাওয়া যাবে। এই চাষটিতে তেমন কীটনাশক ব্যবহার করা লাগেনা। তাই অল্প খরচ বেশি লাভ হয়। এই পদ্ধতির চাষে ফলন ও পর্যাপ্ত দাম পাচ্ছি। আগামীতে আরো এক বিঘা চাষের পরিকল্পনা করছি।

সদর উপজেলার উজুলপুর গ্রামের সমসের আলী বলেন, এটা একটা নতুন পদ্ধতির চাষ। একই খরচ ও সময়ে দুইটি ফসল পাওয়া যাবে। খবরটি জানার পরে এখানে এসেছি দেখতে। পদ্ধতিটা আমার ভালো লেগেছে। আমি বিভিন্ন সবজি চাষ করে থাকি। অন্যান্য সবজি চাষের সঙ্গে দুই বিঘা গ্রাফটিং পদ্ধতিতে বেগুন গাছে টমেটোর আবাদ করবো।

গাংনীর শুকুর আলী বলেন, আমি আর আমার এক বন্ধু বিষয়টি দেখে এসেছি। এই পদ্ধতিতে চাষ করলে কৃষকরা লাভবান হবেন। আমি এবার পরীক্ষামূলকভাবে ১০ কাঠা জমিতে চাষটি করার পরিকল্পনা করছি।

মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, বেগুন চারার গোড়ার দিকের অংশের সঙ্গে টমেটোর চারার ওপরের দিকের অংশ জোড়া দিয়ে করা হয় গ্রাফটিং। এভাবে লাগানো টমেটোর চারা বড় হয়ে ঢলে পড়ে না, রোগ বালাইও তেমন হয় না। এতে ফলনও হয় বেশি। সাধারণ একটি গাছে পাঁচ থেকে ১০ কেজি টমেটো পাওয়া যায়। তবে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে চাষ করা প্রতিটি গাছে মেলে ১৫ থেকে ২০ কেজি টমেটো। গ্রাফটিং করা টমেটো গাছ পানি সহনীয়। ফলে ভারী বৃষ্টিতেও এ টমেটো গাছ নষ্ট হয় না।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সামসুল আলম বলেন, আমরা গ্রাফটিং পদ্ধতির চাষের জন্য সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছি। এ পদ্ধতি নতুন হলেও এটি লাভজনক হবে বলে প্রত্যাশা করছি। এ জেলার মাটি ও আবহাওয়া কৃষির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সব ধরনের ফসল গ্রাফটিং পদ্ধতিতে চাষ করা সম্ভব হবে বলে মনে করে কৃষি বিভাগ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এইচএন

English HighlightsREAD MORE »