৮ মাসেই কলেজছাত্র-শিক্ষিকার ভালোবাসার পরিসমাপ্তি

ঢাকা, সোমবার   ০৩ অক্টোবর ২০২২,   ১৯ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

৮ মাসেই কলেজছাত্র-শিক্ষিকার ভালোবাসার পরিসমাপ্তি

নাটোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫২ ১৪ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১৪:৪৯ ১৪ আগস্ট ২০২২

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফেসবুকে পরিচয় হয় তাদের। এরপর জড়ান প্রেমের সম্পর্কে। একপর্যায়ে ভালোবাসা প্রণয়ে রূপ পায় গত ১২ ডিসেম্বর। কাজী অফিসে গিয়ে দুইজন গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের ছয় মাস পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

বলছি কলেজছাত্র মামুন হোসেন  ও নাটোরের খুবজীপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খায়রুন নাহার দম্পতির কথা। বিয়ের বিষয় জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বেশ ভালোই চলছিল তাদের সংসার। হঠাৎ সেখানে নেমে এলো অন্ধকার। আট মাস না যেতেই ভালোবাসার পরিসমাপ্তি ঘটল। নিভে গেল শিক্ষিকার জীবন প্রদীপ।

রোববার সকালে নাটোর শহরের বলারিপাড়া এলাকার ভাড়াবাসা থেকে শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের লাশ উদ্ধার করা হয়। খায়রুন নাহার গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় পৌর এলাকার মো.খয়ের উদ্দিনের মেয়ে এবং উপজেলার খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৩টার দিকে মামুন প্রতিবেশীদের ডেকে বলেন, তার স্ত্রী খায়রুন নাহার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। প্রতিবেশীরা তার ঘরে গিয়ে দেখতে পান, খায়রুন নাহারের নিথর দেহ ঘরের মেঝেতে শোয়ানো রয়েছে। এতে তাদের সন্দেহ হলে মামুনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।

নাটোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া মামুনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

নাটোর থানার ওসি নাছিম আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অন্য বাহিনীর সদস্যরাও তদন্ত করবে। লাশের ময়নাতদন্ত হলে এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে হত্যা আর আত্মহত্যা যাই হোক না কেন, এমনটা ঘটল কেনো তা পুলিশ খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে।

জানা যায়, এক বছর আগে ফেসবুকে শিক্ষিকা নাহারের সঙ্গে একই উপজেলার ধারাবারিষা ইউপির পাটপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র মামুনের পরিচয় হয়। পরে তাদের দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুইজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের ৬ মাস পর তাদের সম্পর্ক জানাজানি হলে ছেলের পরিবার মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার থেকে বিয়ে মেনে নেয়নি। এর আগে ওই শিক্ষিকা বিয়ে করেছিলেন রাজশাহী বাঘা উপজেলার একজনকে। পারিবারিক কলহে সেই সংসার বেশি দিন টেকেনি। প্রথম স্বামীর ঘরে এক সন্তান রয়েছে।

সে সময় খায়রুন নাহার জানান, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। আত্মহত্যা করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ওই সময় ফেসবুকে পরিচয় হয় মামুনের সঙ্গে। মামুন আমার খারাপ সময় পাশে থেকে উৎসাহ দিয়েছে এবং নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছে। পরে দুইজন বিয়ের সিদ্ধান্ত  নেই।

মামুন বলেছিলেন, মন্তব্য কখনো গন্তব্য ঠেকাতে পারে না। কে কী বলল, সেগুলো মাথায় না নিয়ে নিজেদের মতো সংসার গুছিয়ে নিয়ে জীবন শুরু করেছি। ওই সময় সবার কাছে দোয়া চেয়েছিলেন মামুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআরএস/আরআই

English HighlightsREAD MORE »