গরিব-মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভরসা সাজিদের পুরোনো বই

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১৫ আশ্বিন ১৪২৯,   ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

গরিব-মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভরসা সাজিদের পুরোনো বই

আহমেদ জামিল, সিলেট ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫১ ৮ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১৭:৫৯ ৮ আগস্ট ২০২২

সাজিদ ইসলামের বইয়ের দোকান- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সাজিদ ইসলামের বইয়ের দোকান- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিলেটে প্রায় ১৯ বছর ধরে ফুটপাতে বসে পুরোনো বই বিক্রি করে আসছেন সাজিদ ইসলাম। বইপ্রেমী এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ইসলাম নামেই বেশি পরিচিতি। স্বল্পমূল্যে পুরোনো বই বিক্রেতা হিসেবে অসংখ্য গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভরসা সাজিদ ইসলাম।

তার কাছ থেকে বই কিনে কলেজ পর্যায় থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও অনেক। শুধু তাই নয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুরোনো বই ক্রয়ও করে থাকেন তিনি। বই বেচাকেনার ফলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে সাজিদের।

সিলেট নগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে ফুটপাতের উপর ২০০৩ সাল থেকে বই বিক্রি করে আসছেন সাজিদ। প্রতিদিন সকালে শতশত পুরোনো বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেন তিনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক বই ছাড়াও দেশি-বিদেশি ম্যাগাজিন, উপন্যাস, রিসার্চ পেপার, জার্নাল, রেফারেন্স বইসহ নামিদামি লেখকের বইয়ের বিশাল সম্ভার রয়েছে সাজিদের কাছে।

তার সংগ্রহশালায় নতুন বইয়ের সংখ্যাও কম নয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, এমসি কলেজ, সিলেট সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা স্বল্পমূল্যে পুরোনো বই ক্রয় করে থাকেন তার কাছ থেকে। বিশেষ করে শাবিপ্রবির অসংখ্য শিক্ষার্থী বিকেল হলেই বই কিনতে আসেন সাজিদের কাছে। সে সুবাদে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠেছে তার। এছাড়াও এমসি কলেজ, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ, মদন মোহন কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা স্বল্পমূল্যে পুরোনো বই ক্রয় করেন এখান থেকে। অনেকে কলেজ পর্যায় থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন সাজিদের পুরোনো বই পড়ে।

পুরোনো বই বিক্রেতা সাজিদ ইসলামের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার সুনেশ্বর গ্রামে। মা-বাবা ও স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে থাকেন সিলেটের শেখঘাট এলাকায়। বড় ছেলে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। বই বিক্রি করেই চলে তার সংসার।

এ ব্যবসার শুরুটা হয়েছিল কীভাবে জানতে চাইলে পুরোনো বই বিক্রেতা সাজিদ ইসলাম বলেন, এক সময় ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে পুরোনো বই পাইকারি মূল্যে কেনার জন্য ব্যবসায়ীরা সিলেটে আসতেন। তাদেরকে পুরোনো বই সরবরাহ করতাম আমি। এরপর নিজেই এ ব্যবসায় নামার চিন্তা করি। ২০০২ সালে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে ঢাকার নীলক্ষেতে গিয়ে ভালোভাবে ব্যবসা বুঝে নিই। এরপর ২০০৩ সালে সিলেটে এসে ব্যবসা শুরু করি। শুরু থেকেই চৌহাট্টা পয়েন্টে ফুটপাতের উপর বই বিক্রি করে আসছি।

সাজিদ বলেন, প্রথম দিকে ঢাকা থেকে বই সংগ্রহ করতাম। এখন সিলেটের বাইরে থেকে বই কিনতে হয় না। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুরোনো কিনে থাকি। এছাড়া ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও পুরোনো বই সংগ্রহ করা যায়। এরপর সেগুলো গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছে অল্প মুনাফায় বিক্রি করি। এর বাইরে অনেক বইপ্রেমীর কাছে গল্প, উপন্যাস ও নামিদামি দেশি-বিদেশি লেখকের বই বিক্রি করে থাকি। এছাড়া চাকরি প্রত্যাশীরাও কম দামে বিভিন্ন ধরনের চাকরির প্রস্তুতির বই কিনে থাকেন। অ্যাকাডেমিক বইগুলো গড়ে ১০০ থেকে শুরু করে ২৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়। অন্যান্য বই লেখক ও মানের উপর দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করি।

তিনি আরো বলেন, বেশিরভাগ ক্রেতা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের। বছরের প্রথম ছয়মাস অ্যাকাডেমিক বই বেশি বিক্রি হয়। বাকি সময় তুলনামূলক কম। তবে গল্প, উপন্যাস ও নামিদামি লেখকের বই সারাবছরই বিক্রি হয়। বই বিক্রির সুবাদে অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তারা এখন অনেক ভালো অবস্থানে আছেন। কেউ কেউ বিদেশেও আছেন। আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।

সাজিদের কাছে রোববার বিকেলে আইইএলটিএস এর বই কিনতে আসেন এমসি কলেজের শিক্ষার্থী হাসান শাহরিয়ার। দর কষাকষি করে পর্যায়ে ২০০ টাকা দিয়ে পাঁচটি বই ক্রয় করেন তিনি। হাসান শাহরিয়ার বলেন, এ বইগুলো লাইব্রেরি থেকে কিনলে অন্তত এক হাজার টাকা লাগতো। কিন্তু এখান থেকে মাত্র ২০০ টাকায় কিনতে পেরেছি।

একই সময়ে বই কিনতে আসা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল মুহিত বলেন, এখানে অনেক অ্যাকাডেমিক বই কম টাকায় পাওয়া যায়। এছাড়া গল্প উপন্যাসের বইও মেলে অল্প দামে। ক্যাম্পাসের বড় ভাইদের মাধ্যমে সাজিদ ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। এখন প্রায় সময় তার কাছ থেকে বই কিনে থাকি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এইচএন/আরএম

English HighlightsREAD MORE »