ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন, হবে আদালতে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪৩, ৮ আগস্ট ২০২২
ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন, হবে আদালতে
ফাইল ছবি

বর-কনে ও স্বজনের উপস্থিতিতে হবে বিয়ে। কিন্তু বাজবে না সানাই, থাকবে না রঙিন আলোর ঝলকানি; এমনকি বরযাত্রীর আনন্দ মিছিলও। এমনই এক ভিন্ন আয়োজনের বিয়ে হতে চলেছে চট্টগ্রামে। তবে সেটি কোনো ক্লাব, পাড়া-মহল্লা কিংবা বাড়িতে নয়; হবে আদালতে। 

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমেদ ভূঞার আদালতে এ বিয়ের কথা রয়েছে।

বর মোহাম্মদ সাগর নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কৃষ্ণ ছায়া আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। কনে ফারহানা ইসলাম শারমিন হাটহাজারী উপজেলার।

জানা গেছে, এর আগেও হুজুর ডেকে বিয়ে হয়েছিল দুজনের। কিন্তু করা হয়নি কাবিননামা রেজিস্ট্রি। পরে তাদের ঘর আলোকিত করে আসে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। যার বয়স এখন ১৬ মাস। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে নানাকিছু নেন সাগর। কিন্তু কাবিননামা রেজিস্ট্রির চাপ দিতেই করে বসেন বিয়ে অস্বীকার। এ অবস্থায় উপায় না পেয়ে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন শারমিন। সেই মামলায় ২০ জুলাই থেকে কারাগারে আছেন সাগর।

স্বজনরা জানায়, চাকরি সূত্রে পরিচয় দুজনের। সেখান থেকে সু-সম্পর্ক। আর সেটিই একসময় গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে। একপর্যায়ে শারমিনকে বিয়ের প্রস্তাব দেন সাগর। শারমিনও সেই প্রস্তাবে সাড়া দেন। পরে সাগরের কথামত ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করেন তারা। 

বর্তমানেও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন দুজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাবিননামা রেজিস্ট্রি না করায় সাগরকে চাপ দিলে একপর্যায়ে বিয়ের বিষয় অস্বীকার করেন তিনি। পরে এ ঘটনায় শারমিন চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার আবেদন করলে হাটহাজারী থানাকে মামলা নেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। সাগরকে প্রধান অভিযুক্ত করে তার বাবা ও ভাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলার পিপি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেছেন তারা। কিন্তু বিয়ে রেজিস্ট্রি করেননি। সোমবার চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হবে। বিয়ের পরে আদালতে জামিন শুনানি হবে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার শাহাদাত চৌধুরী নয়ন বলেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করলেও বিয়ে রেজিস্ট্রি করেননি তারা। তাদের ১৬ মাসের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। রোববার চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন শুনানি হয়েছিল। সোমবার বিয়ে রেজিস্ট্রি করার পর আবার জামিন শুনানি হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস/জেএইচ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!