ভুয়া এলসি, ২১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেন বিএনপি নেতা আইয়ুব 
15-august

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২,   ১ ভাদ্র ১৪২৯,   ১৭ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

ভুয়া এলসি, ২১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেন বিএনপি নেতা আইয়ুব 

যশোর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৪ ৫ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১৮:৫২ ৬ আগস্ট ২০২২

বিএনপি নেতা তালহা শাহরিয়ার আইয়ুব- ফাইল ফটো

বিএনপি নেতা তালহা শাহরিয়ার আইয়ুব- ফাইল ফটো

ভুয়া এলসির মাধ্যমে ২১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তালহা শাহরিয়ার আইয়ুব (ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব)।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আইয়ুব জেলার বাঘাপাড়ার কয়ালখালী গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল বারী বিশ্বাসের ছেলে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৭ সালে সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের এমডি টিএস আইয়ুব ও পরিচালক তার স্ত্রী তানিয়া রহমান ঢাকা ব্যাংক ধানমন্ডি মডেল শাখায় যৌথভাবে একটি চলতি হিসাব খোলেন। পরবর্তীতে ক্ষুদ্রাকার ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশি তিন বায়ারের নামে ১৯টি পণ্য রফতানি করা হবে মর্মে ঐ ব্যাংকে এলসি খোলেন। কোনো পণ্য বিদেশে রফতানি না করে যাবতীয় কাগজপত্র তৈরি করে ২৬টি রফতানি বিল ঢাকা ব্যাংক ধানমন্ডি মডেল শাখায় জমা দেন। 

এরমধ্যে ১৭টি বিলের বিপরীতে ২৬ কোটি ৮৫ লাখ ৯৮ হাজার ১২৬ টাকা ট্রান্সফার করেন। ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত রফতানিকারক ঐ টাকা উত্তোলন করেন। তার মধ্যে তিনটি বিলের মূল্যসহ ৪র্থ বিলের আংশিক পাঁচ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ৭০৮ টাকা ব্যাংকে ফেরত দিয়ে বাকি ১৪টি বিলের ২১ কোটি ২৪ লাখ ৯১ হাজার ৪১৭ টাকা ব্যাংকে ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের এমডি টিএস আইয়ুব ও তার স্ত্রীসহ নয়জনকে আসামি করে মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি দমন ও দণ্ডবিধি আইনে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন। মামলা তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় এমডি, পরিচালক, ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নয়জনকে অভিযুক্ত করে ২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন দুদকের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন। 

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা আনিমুল ইসলামের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে চার্জশিটে।

অপর আসামিরা হলেন- ব্যাংক কর্মকর্তা সুলতানা ফাহমিদা, ব্যাংক কর্মকর্তা মঈমুল ইসলাম, ব্যাংক কর্মকর্তা জুম্মা খান, এস এন্ড এস এজিন্সির মালিক বিভূতি ভূষণ বালা, মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজের মালিক শেখ আসাদুজ্জামান মিন্টু, মেসার্স সাদত এন্টারপ্রাইজের মালিক আমিনুল ইসলাম, মেসার্স হেরা এন্টারপ্রাইজের মালিক আসমত আরা জামান।

গত ২৯ জুলাই মামলার শুনানি শেষে সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের এমডি তালহা শাহরিয়ার আইয়ুব (ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব) ও তার স্ত্রী পরিচালক তানিয়া রহমানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮। তবে নাশকতার পরিকল্পনা ও বিস্ফোরক মামলায় বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন শাহরিয়ার আইয়ুব। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এমআরকে

English HighlightsREAD MORE »