সবজি চাষেই গাংনীর কৃষকদের ভাগ্যবদল

ঢাকা, বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২,   ২০ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

সবজি চাষেই গাংনীর কৃষকদের ভাগ্যবদল

মেহেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৫ ১৫ জুলাই ২০২২   আপডেট: ১৮:০৩ ১৫ জুলাই ২০২২

গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের কৃষকরা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের কৃষকরা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সবজি চাষে পাল্টে গেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের মানুষের ভাগ্য। এ গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে এখন নানাজাতের সবজির সমাহার। ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, পুঁইশাক, লালশাক, লাউ, বেগুন, চালকুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষ হচ্ছে। মেহেরপুরের বাজারগুলোতে সারাবছরই পাওয়া যায় টাটকা শাক-সবজি।

সারাবছর এ গ্রামের কৃষকরা বিভিন্ন জাতের সবজির আবাদ করে নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতা এনেছেন। এতে তাদের ভাগ্যবদল হয়েছে। শুধু সাহারবাটি থেকেই প্রতিদিন অর্ধশত ট্রাকে বিভিন্ন জাতের সবজি যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, মেহেরপুর জেলায় এবার গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ হয়েছে প্রায় তিন হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে।

সাহারবাটি গ্রামের সবজি চাষি মোশাররফ হোসেনের তিন বিঘা, গোলাম কিবরিয়ার দুই বিঘা, শফিকুল ইসলামের ছয় বিঘা, বাবলু হোসেনের নয় বিঘা, রহেল উদ্দীনের দুই বিঘা, পলাশ হোসেনের পাঁচ বিঘা স্বপন আলীর তিন বিঘা জমিতে ফুলকপি রয়েছে। তাদের মতো এ গ্রামের শতাধিক কৃষক ফুলকপি চাষ করেছেন।

মোশাররফ হোসেন ও বাবলু হোসেন জানান, প্রতিবিঘা ফুলকপি চাষ করতে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। সবজির বাজার ভালো হলে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় এসব সবজি বিক্রি হয়।

একই গ্রামের প্রায় শতাধিক সবজি চাষি বাঁধাকপি চাষ করেছেন। বাঁধাকপি চাষি হোসেন মহসিন আলী বলেন, মাঠে বাঁধাকপির অবস্থা ভালো। আবহাওয়া ভালো থাকলে বাঁধাকপি থেকে লাভ করা যাবে। বর্তমানে বাঁধাকপি জমি থেকে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি বাঁধাকপি জমি থেকে ২২ থেকে ২৫ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবিঘায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হলেও চাষিরা ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বাঁধাকপি বিক্রি করতে পারছেন।

সাহারবাটি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য রাহেদুল ইসলাম জানান, এ গ্রামের সবজি চাষের ইতিহাস প্রায় ৩৫ বছরের। ভালো লাভ পাওয়ায় গ্রামের মানুষ আস্তে আস্তে অন্যান্য আবাদ বাদ দিয়ে সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

সাহারবাটি গ্রামের বীজ ব্যবসায়ী অতুল বিশ্বাস জানান, সবজি চাষের ফলে কৃষকের জীবনমান বদলে গেছে। এক সময় এই এলাকার মানুষ অর্থকষ্ট আর দরিদ্রতার মধ্য দিয়ে জীবন ধারণ করতেন। সবজি চাষ করে এখন প্রতিটি কৃষকই ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। গ্রামের প্রতিটি কৃষকই এখন আর্থিকভাবে সচ্ছল।

সাহারবাটি গ্রামের শ্রমিক সর্দার শাহাদৎ হোসেন বলেন, সাহারবাটি থেকে সারা বছরই ট্রাকে সবজি বোঝাই হয়। বিশেষ করে শীতকালীন সবজির সময়ে এখান থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি ট্রাকে সবজি বোঝাই হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। শীতকালীন সবজির সময় প্রতিদিন প্রায় ৪০০ শ্রমিক ট্রাক বোঝাইয়ের কাজ করে থাকেন।

কৃষকের পাশাপাশি লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। সবজি ব্যবসায়ী ফরমান আলী জানান, এ বছর এখান থেকে ২২ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে এক একটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি কিনে ঢাকার বাজারে নিয়ে গিয়ে ২৮ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এতে আমরা যেমন লাভবান হচ্ছি তেমনি কৃষকরাও সরাসরি তাদের জমি থেকে নগদ মূল্যে তাদের সবজি বিক্রি করতে পারছেন।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ স্বপন কুমার বলেন, সময় ও বাজার বুঝে ফসল আবাদে সাফল্য পেয়েছেন এখানকার চাষিরা। জেলার মাটি উর্বর হওয়ায় সব ফসলই ভালো উৎপাদন হয়ে থকে। জেলায় বর্তমানে সবজি চাষিরা শুধু শীতকালেই নয়, তারা গরম কালেও শীতকালীন সবজি চাষ করছেন। এর ফলে তারা দামটাও ভালো পাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, এলাকার সবজি চাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। সবজি চাষে শুধু চাষিদের নয়, জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এইচএন/এমআরকে

English HighlightsREAD MORE »