‘ভূমি ও গৃহহীন মুক্ত’ হতে যাচ্ছে মাগুরা সদর উপজেলা
15-august

ঢাকা, শনিবার   ১৩ আগস্ট ২০২২,   ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯,   ১৪ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

‘ভূমি ও গৃহহীন মুক্ত’ হতে যাচ্ছে মাগুরা সদর উপজেলা

মাগুরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৭ ২ জুলাই ২০২২   আপডেট: ২২:৫০ ২ জুলাই ২০২২

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মাগুরা সদর উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন হতে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১২৩ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। 

মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ গৃহ প্রদান কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাগুরায়ও ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে জমিসহ এসব ঘর দেওয়া হয়।

সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন মাগুরা সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. ইয়াছিন কবীর। 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ২০২০২-২১ অর্থবছরে ‘ভূমিহীন ও গৃহহীন অর্থাৎ ‘ক’ শ্রেণির পরিবার প্রতি ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্তসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমি পাকা ঘর নির্মাণ’ কাজ বাস্তবায়নের জন্য গৃহ নির্মাণ খাতের আওতায় মাগুরা সদর উপজেলাধীন ‘ক’ তালিকার মোট ৬৮ জনের তালিকা পাঠানো হয়। পরর্তীতে নতুনভাবে ১৩টি ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক যাচাই-বাছাই করে মূল তালিকার বাইরে অতিরিক্ত ৫৫টি ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাওয়া যায়। অতিরিক্ত চাহিদার ভিত্তিতে মূল তালিকার ৬৮ জনের বাইরে অতিরিক্ত ৫৫টি ঘরসহ ১২৩টি ঘরের বরাদ্দ পাওয়া যায়। প্রথম পর্যায়ে ১৫টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৫টি এবং তৃতীয় পর্যায়ের ৭৩টি পরিবারসহ ১২৩টি পরিবারকে এরইমধ্যে জমিসহ ঘর দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়েছে। গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ উপলক্ষ্যে মাগুরা সদর উপজেলায় সর্বমোট ৯ দশমিক ৯০ একর খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য আনুমানিক তিন কোটি সতের লাখ ২৫ হাজার টাকা।

মাগুরা সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. ইয়াছিন কবীরের প্রেস ব্রিফিং

মাগুরা সদর উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ১৫টি ঘরের মধ্যে পৌরসভায় ২টি, হাজরাপুরে ৬টি, জগদলে ১টি এবং কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নে ৬টি ঘর দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ৩৫টি ঘরের মধ্যে পৌরসভায় ১টি, জগদলে ১০টি, রাঘবদাইড়ে ১০টি, হাজীপুরে ৪টি, হাজরাপুরে ১টি, চাউলিয়ায় ৩টি এবং মঘী ইউনিয়নে ৬টি ঘর দেওয়া হয়। ৩য় পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ৭৩টি ঘরের মধ্যে হাজরাপুরে ৭টি, জগদলে ১১টি, হাজীপুরের ২২টি, মঘীতে ৫টি, বগিয়াতে ৫টি, চাউলিয়াতে ১৫টি, কছুন্দিতে ৩টি এবং সত্রুজিৎপুর ইউনিয়নে ৫টি ঘর দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, মাগুরা সদর উপজেলায় ‘ক’ শ্রেণির মোট ১২৩টি পরিবারকে ঘর দেওয়ায় বর্তমানে এ উপজেলায় আর কোনো ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার নেই। ‘ক’ শ্রেণির যোগ্য আর কোনো ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার না থাকায় মাগুরা সদর উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত উপজেলা ঘোষণার লক্ষ্যে সব স্টেকহোল্ডার নিয়ে একটি পর্যালাচোনা সভা হয়। এতে উপস্থিত সবার সম্মতিক্রমে এ ঘোষণা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে কিংবা অন্য কোনোভাবে কোনো পরিবার গৃহহীন ও ভূমিহীন হলে তাকে পরবর্তীতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির অধীনে এ বাজেট প্রদান করা হয়। ১ম পর্যায়ে প্রতিটি গৃহ নির্মাণ বাবদ এক লাখ ৭১ হাজার টাকা হারে ১৫টি গৃহ নির্মাণের ব্যয় বাবদ বরাদ্দ ছিল ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ২য় পর্যায়ে ২০টি গৃহের জন্য প্রতিটি গৃহ নির্মাণ বাবদ এক লাখ ৯০ হাজার টাকা হারে নির্মাণের ব্যয় বাবদ বরাদ্দ ছিল ৩৮ লাখ টাকা এবং ১৫টি গৃহের জন্য প্রতিটি গৃহ নির্মাণ বাবদ দুই লাখ টাকা হারে নির্মাণের ব্যয় বাবদ বরাদ্দ ছিল ৩০ লাখ টাকা। ৩য় পর্যায়ে প্রতিটি গৃহ নির্মাণ বাবদ দুই লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা হারে ৭৩টি গৃহ নির্মাণের ব্যয় বাবদ বরাদ্দ ছিল এক কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা। 

দুই শতক জমির উপর দুইটি সেমি পাকা ঘরসহ সংযুক্ত শৌচাগার এবং রান্নাঘর রয়েছে। ইউটিলিটি স্পেসসহ প্রত্যেক পরিবারের ব্যবহারের জন্যে ঘরের সামনে এবং পাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখাসহ চলাচলের জন্য রাস্তা এবং খাবার পানির জন্য টিউবওয়েল এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/টিএএস

English HighlightsREAD MORE »