পানি নামলেও কাটেনি শঙ্কা
15-august

ঢাকা, শনিবার   ১৩ আগস্ট ২০২২,   ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯,   ১৪ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

পানি নামলেও কাটেনি শঙ্কা

মাসুম হোসেন, বগুড়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫১ ২৬ জুন ২০২২  

ঘরবাড়ি থেকে নামছে পানি

ঘরবাড়ি থেকে নামছে পানি

বিপদসীমা অতিক্রম করার পর কমতে শুরু করেছে যমুনা নদীর পানি। বর্তমানে বিপদসীমার নিচে রয়েছে। তবে বগুড়ায় আরো দুই দফা বন্যা হওয়ার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে জুলাই মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে একবার ও আগস্টে আরেকবার যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, যমুনা নদীর পাশাপাশি বাঙালি নদী পানিও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে, জুন মাসের শুরু থেকে যমুনার পানি বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে ১৭ জুন সন্ধ্যা থেকে যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে।

যমুনার পানি বাড়ায় জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার প্রায় ৮৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় ফসলি জমি। কিন্তু বাড়িঘর থেকে পানি নেমে গেলেও বানভাসিদের দুর্ভোগ পুরোপুরিভাবে কাটতে সময় লাগবে আরো কিছুদিন। দুর্ভোগ কাটিয়ে উঠতেই তারা দ্বিতীয় দফায় বন্যার কবলে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

যমুনার পানিতে সারিয়াকান্দির যমুনা চরাঞ্চলের কাজলা, চালুয়াবাড়ি, হাটশেরপুর ও সদরসহ কুতুবপুর ইউনিয়নের আংশিক, চন্দনবাইশা, কর্ণিবাড়ী, বোহাইল ও কামালপুর ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এসব ইউনিয়নের ৭৭টি গ্রামে ৫৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। উপজেলার মানিকদাইড় চরে পানি বাড়ার সঙ্গে শুরু হয়েছিল নদী ভাঙনও। সেখানে নদী ভাঙনের ফলে দেড় শতাধিক বাড়িঘর ভেঙে পড়ে। যমুনার পানিতে সোনাতলাতেও তিন ইউনিয়নের প্রায় ২১ হাজার মানুষ পানিবন্দি পড়েছিলেন। ওই উপজেলার পাকুল্লা ও মধুপুর ইউনিয়নের ২৫ গ্রামে ঢুকেছিল যমুনার পানি।

এছাড়া ধুনট উপজেলার আট গ্রামে যমুনার পানি ঢুকেছিল। এতে প্রায় এক হাজার মানুষ পানিবন্দি জীবন-যাপন করেন। ওই উপজেলার যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শিমুলবাড়ি, সহড়াবাড়ি, আটরচর, ভুতবাড়ি, পুখুরিয়া, রঘুনাথপুর, ভান্ডাবাড়ি ও কচুগাড়ি গ্রামে পানি ঢোকায় দুর্ভোগে পড়েন। বর্তমানে বাড়িঘর থেকে পানি নেমে গেছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার যমুনার চরাঞ্চলের বাসিন্দারা ৯ দিন পানিবন্দি ছিলেন।

সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের চরবাটিয়ার মোখলেছুর রহমান জানান, বাড়িঘর থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে তাদের দুভোর্গ পুরোপুরি কাটতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।

বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, বন্যার পানিতে বগুড়ার তিন হাজার ৪৬৫ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সারিয়াকান্দিতে দুই হাজার ৭৮৯ হেক্টর, ধুনটে ৩৩ হেক্টর ও সোনাতলায় ৬৪৩ হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান ও ধানের বীজতলা, পাট, শাক-সবজি, ভুট্টা ও আখের আবাদি জমি।

রোববার দুপুরে বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত যমুনার পানি বিপদসীমার নিচেই রয়েছে। একই সময়ে বাঙালি নদীর পানি বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বাঙালি নদীর পানিও এখন পর্যন্ত বিপদসীমার নিচে রয়েছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের বাড়িঘর থেকে পানি নেমে গেছে। সবমিলে তারা ৯ দিন পানিবন্দি ছিলেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, যমুনা নদীর বিপদসীমা ধরা হয় ১৬ দশমিক ৭০ মিটার। আর বাঙালি নদীর বিপদসীমা নির্ধারণ করা হয় ১৫ দশমিক ৮৫ মিটার।

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, জেলায় আরো দুই দফা বন্যা হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জুলাই মাসের প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যে যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে। পরবর্তীতে আগস্ট মাসে যমুনার পানি আরেকবার বিপদসীমা অতিক্রম করবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, বর্তমানে যমুনার পানি বিপদসীমার নিচে নেমে গেছে। এরপরও জুন মাস পর্যন্ত আমাদের কাছে বন্যার্তদের সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য যথেষ্ট টাকা ও খাবার মজুত রয়েছে। তবে নতুন অর্থবছরের সরকারি বরাদ্দ এলে জুলাই ও আগস্ট মাসে বন্যা হলে বন্যার্তদের সাহায্য করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

English HighlightsREAD MORE »