সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করায় প্রাণ হারান ইমাম 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২,   ১৪ আষাঢ় ১৪২৯,   ২৮ জ্বিলকদ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করায় প্রাণ হারান ইমাম 

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪২ ২৩ জুন ২০২২   আপডেট: ১৬:৪৭ ২৩ জুন ২০২২

গ্রেফতার শাহীন। ছবি: সংগৃহীত

গ্রেফতার শাহীন। ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় মহসীন আলী হত্যা মামলায় শাহীনুর রহমান শাহীন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

গ্রেফতার শাহীন নিহতের স্ত্রী শারমীন সুলতানা শাকিলার সাবেক স্বামী। আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

নিহত মহসীন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বেলগাড়ী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি বেলগাড়ী মণ্ডলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন। শাহীন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল গ্রামের নঈম উদ্দিনের ছেলে। শাকিলাও একই গ্রামের বাসিন্দা।

গত ৭ জুন লোহার পাত দিয়ে আঘাত করে মহসীনকে হত্যা করা হয়। ৮ জুন কালাইয়ের বামন গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মহসীনের লাশ উদ্ধার করা হয়। একই দিন নিহতের বাবা কালাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন। 

২১ জুন গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা থানার ছয়দানা হাজীপুকুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়। ঐ সময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়ার পিবিআইয়ের এসআই মো. সবুজ আলী। গতকাল শাহীনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বগুড়ার পিবিআইয়ের এসপি মো. আকরামুল হোসেন।

এসপি জানান, শাকিলা শাহীনের সাবেক স্ত্রী। তাদের ১২ বছরের সংসার ছিল। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা নামে এক মেয়ে সন্তান নিয়ে সুখেই কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। তবে পারিবারিক কলহের কারণে বছর খানেক আগে শাহীনকে ডিভোর্স দেন শাকিলা। এরপর থেকে তাদের মেয়ে ওয়াসিফা শাহীনের কাছেই থাকতো। তিন মাস আগে মহসীনের সঙ্গে নতুন ঘর বাঁধেন শাকিলা। বিষয়টি জানার পরই ক্ষিপ্ত হন শাহীন। এর মধ্যে সম্প্রতি শাহীন-শাকিলার মেয়ে ওয়াসিফার উপবৃত্তির জন্য বাবা-মায়ের এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়। শাহীন তার সাবেক স্ত্রী শাকিলার কাছে এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধন কপি প্রয়োজনের কথা জানান। কিন্তু শাকিলাসহ তার পরিবার শাহীনকে এসব দিতে রাজি হয়নি। এতে শাহীন অনেক রেগে গেলেও নীরব থাকেন।

তিনি আরো জানান, এক পর্যায়ে কৌশলে শাকিলার বর্তমার স্বামী মহসীনের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন শাহীন। নিজের পরিচয় গোপন রেখে মহসীনের সঙ্গে গড়ে তোলেন সখ্যতা। পরিকল্পনা মোতাবেক গত ৭ জুন মহসীনকে কালাই উপজেলার মোলামগাড়ী বাজারে দেখা করতে বলেন শাহীন। মহসীনও সেখানে আসেন। তারা একসঙ্গে ওই বাজার এলাকায় চা পান করেন। পরে মহসীনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে মোলামগাড়ীবাজার ও করিমগাড়ী এলাকার মাঝামাঝি স্থান বামন গ্রামে যান শাহীন। সেখানে একটি ধানক্ষেতের কাছে যাওয়ার পরপরই নিজের পরিচয় মহসীনের কাছে প্রকাশ করেন শাহীন। একই সঙ্গে মেয়ের উপবৃত্তির জন্য শাকিলার এনআইডি ও জন্ম নিববন্ধনের সনদ চান। ওই সময় এসব কাগজ শাহীনকে দিতে রাজি হননি মহসীন। এক পর্যায়ে শাহীন লোহার পাত দিয়ে মহসীনের মাথায় আঘাত করেন। এ সময় মহসীন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এসপি আকরামুল জানান, মহসীন মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর শাহীন লোহার পাত দিয়ে মহসীনের মাথায় আরো দুই-তিনবার আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মহসীনের মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ ধানক্ষেতে ফেলে ঘটনাস্থল দ্রুত ত্যাগ করেন শাহীন এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোন, সিম ও ধারালো অস্ত্র ফেলে দেন। শাহীন নতুন মুঠোফোন ও সিম কেনেন শুধুমাত্র মহসীনের সঙ্গে যোগাযোগ ও তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের করার জন্য। সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করায় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পাওয়ায় মহসীনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে শাহীন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »