নীলফামারীতে দুর্ধর্ষ জিনের বাদশাহ আটক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২,   ১৬ আষাঢ় ১৪২৯,   ৩০ জ্বিলকদ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

নীলফামারীতে দুর্ধর্ষ জিনের বাদশাহ আটক

নীলফামারী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৫ ২৬ মে ২০২২  

দুর্ধর্ষ জিনের বাদশাখ্যাত আফজাল করিম ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দুর্ধর্ষ জিনের বাদশাখ্যাত আফজাল করিম ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রতারণার শিকার আশরাফ আলী। গুপ্তধন পাওয়ার লোভে আবাদি জমি, গোয়াল ঘরের গরুসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা তুলে দেয় দুর্ধর্ষ জিনের বাদশাখ্যাত আফজাল করিমের হাতে। অবশেষে গ্রেফতার  হলেন সেই জিনের বাদশাহ। সেই সঙ্গে উদ্ধার হলো কথিত জিনের সঙ্গে চুক্তি করার কাজে ব্যবহৃত  নন-জুডিসিয়াল  ষ্ট্যাম্প। 

কথিত জিনের বাদশাহ আফজাল করীম নীলফামারী সদরের টুপামারি ইউপির কিসামত দোগাছি এলাকার মৃত জন মামুদের ছেলে।
 
জানা যায়, কথিত জিনের বাদশাহ গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর আশরাফ আলীর বাড়িতে গিয়ে সাহায্য চায়। সাহায্য হিসেবে এক কেজি চাল দেয়া হলেও প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পায়নি পরিবারটি। নিজেকে জিনের বাদশাহ দাবি করা ওই প্রতারক একটি কোরআন শরীফও চান তাদের কাছ থেকে। কিন্তু কোরআন শরীফ বাড়িতে না থাকায় আরো ১৫০ টাকা দেয়া হয় তাকে। 

ফন্দি বের করে আফজাল করিম ভুক্তভোগী পরিবারটিকে বলেন, তোমার বাসায় বদ জিন বাসা বেঁধেছে। তাড়ানো না হলে তোমার স্ত্রী-সন্তানের ক্ষতি করার পরে তোমার ক্ষতি করবে। এই বলে আশরাফ আলীর ফোন নম্বর নিয়ে যায় ওই প্রতারক। একদিন পরেই ফোন দিয়ে বদ জিন তাড়ানোর জন্য দাবি করেন ৩০ হাজার টাকা। আর খুব তাড়াতাড়ি তাড়ানো না হলে নানান ভয়ভীতি দেখিয়ে আতঙ্কে রাখে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে। 

আতঙ্কে সপ্তাহ জুড়ে টাকার সন্ধানে ছুটে অসহায় পরিবারটি ১৫ হাজার টাকা প্রতারকের বিকাশে দিতে সক্ষম হয়। টাকা হাতে পেয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে জিনের বাদশাহ আসেন জিন তাড়াতে। এক পর্যায়ে বাড়ির সবাইকে বের করে দিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বাক্সে রাখেন লাল কাপড়ে মোড়ানো একটি পুঁটলি। তারপর সবাইকে বাড়িতে আসতে বলেন ওই প্রতারক। আশার বাণী শুনিয়ে চলে যাওয়া প্রতারকের প্রতারণা শুরু হয় দু'দিন যেতে না যেতেই। 

জিনের গুপ্তধনের সন্ধানের হুদিস মিলেছে বলেই বাক্সে তালা দিয়ে রাখার পরামর্শ ও চাবিটি চান ওই প্রতারক। এমনকি অনুমতি ছাড়া বাক্সটি খুলতেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এর পর কৌশলে আশরাফ আলীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর তার ভাতিজি রাশিদা বেগমের কাছ থেকে নেয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে আরো টাকা চেয়ে ভয়ভীতি দেখানো হলে ৩০ হাজার টাকা জিনের বাদশাহর বাড়িতে গিয়ে দেয়া হয়। 
 
ভুক্তভোগী আশরাফ আলী বলেন, বদ জিন তাড়ানোসহ নানান কৌশলে আমাদের ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জিনের বাদশাহ পরিচয়ধারী ওই প্রতারক। এমনকি জিনের গুপ্তধন দেয়ার কথা বলে পূর্বে ক্রয়কৃত ১০০ টাকা মূল্যের ৩টি ও ৫০ টাকা মূল্যের ৩ টি নন-জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর‌ও নিয়ে রেখেছেন। যাতে আমার স্ত্রী আছফুল বেগম, ভাতিজি রশিদা বেগম ও আমার স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়। স্বাক্ষর নেয়ার সময় বলা হয়েছিলো জিনের বাদশাহর সম্পত্তির সঙ্গে স্ট্যাম্পগুলো ফিরিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু আমরা তার প্রতারণার শিকার হয়ে আবাদি জমি, গরু-ছাগল গহনা বিক্রি করা ৮ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন ওই প্রতারক আমাদের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা দাবি করে। না হলে মামলার বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। যখন বুঝতে পারছি জিনের বাদশাহ আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তখন থানায় একটা মামলা করি।  

নীলফামারী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ উন নবী জানান, তাথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয় । পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের নির্দেশনায় কথিত জিনের বাদশাহর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে আসামির বাড়ি থেকে মামলার বাদী পক্ষের কাছ থেকে নেয়া নন-জুডিসিয়াল ৩ সেট স্ট্যাম্পসহ বিপুল পরিমাণ স্বাক্ষরিত নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়।  আসামি এবং আলামত সংক্রান্তে আইনগত বিষয়সমুহ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »