চাকরি দেওয়ার নামে ধর্ষণ, মামলা থেকে বাঁচতে বিয়ে করে মামুন

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২,   ২০ আষাঢ় ১৪২৯,   ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

বাড়িতে স্ত্রী ও তিন মেয়ে

চাকরি দেওয়ার নামে ধর্ষণ, মামলা থেকে বাঁচতে বিয়ে করে মামুন

নরসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪৪ ২১ মে ২০২২  

অভিযুক্ত মামুন হোসেন পাঠান, বিয়ের কাবিননামা, ঘোষণাপত্র, তালাকনামা ও নির্যাতিত আসমানি- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অভিযুক্ত মামুন হোসেন পাঠান, বিয়ের কাবিননামা, ঘোষণাপত্র, তালাকনামা ও নির্যাতিত আসমানি- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নরসিংদীর মাধবদী থানা এলাকায় আসমানির (ছদ্দনাম) বাড়ি। অভাবের মধ্যেও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিল সে। একদিন ঘটক বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে বাড়িতে হাজির। ছেলে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক। ঘটকের প্রস্তাবে সহজেই রাজি হয়ে যায় আসমানির পরিবার। ঘটক পাত্রপক্ষের মোবাইল নম্বর দিয়ে আসে।

একদিন-দুইদিন করে ধনী পাত্রের সঙ্গে কথা বলতে থাকে আসমানি। এক পর্যায়ে সংসারের অভাব দূর করতে একটি চাকরি ম্যানেজ করে দিতে বলে। ধনী-ব্যবসায়ী পাত্র সুযোগটি কাজে লাগায়। সে আসামনিকে ঢাকায় তার কারখানায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই মিরপুরের শাহ আলী মাজার সংলগ্ন একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরদিন (১৭ জুলাই) হোটেল থেকে বের হয়ে আসমানি কান্নাকাটি শুরু করলে আশপাশের মানুষ জড়ো হয়।

সেই পরিস্থিতিতে ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে ৫০ হাজার টাকা কাবিনে আসমানিকে বিয়ে করে সেই ধনী ব্যবসায়ী। বিয়ের পাত্র সেজে তরুণী আসমানিকে ধর্ষণ করা মামুন হোসেন পাঠান নরসিংদী সদর উপজেলার বাগহাটা মিয়াপাড়া গ্রামের সফি মাহমুদের ছেলে। ঘরে তার স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে। মামুন হোসেন পাঠান এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবেই পরিচিত, সেখেরচরে তিন্নি থ্রি-পিচ কোম্পানির নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। নিজ বাড়ির নিচতলায় কারখানা এবং উপরতলায় মহিলা মাদরাসা গড়ে তুলেন। মাদরাসা ও কারখানার আড়ালে মামুন বিয়ে ও চাকরি দেওয়ার নামে নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে।

মামুনের কাছে ধর্ষণের শিকার আসমানির দেওয়া তথ্য মতে, কিছুদিন আগে বাগহাটা এলাকার পিতৃহীন এক শিশু মামুনের কারখানায় কাজ করতে আসে। এক পর্যায়ে তার ওপর কুনজর পড়ে মামুনের। আসমানির মতো তার সঙ্গেও বিয়ে করার আশ্বাসে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে সে। কিছুদিন পর স্থানীয়দের চাপের মুখে ঐ শিশুকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে আসমানিকে বিয়ে করে ভেলানগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠে মামুন। সেখানে নিয়মিত একত্রে বসবাস করতে থাকে তারা। কিছুদিন যাওয়ার পর মারধর করে আসমানিকে তাড়িয়ে দেয় মামুন। পরে বাবার বাড়ি চলে যায় আসমানি। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর ঠিকানাবিহীন একটি তালাকনামা পাঠানো হয় আসমানির বাড়িতে।

মামুনের কুকীর্তি এখানেই শেষ নয়, নারীদেহের প্রতি আসক্তি কমাতে না পেরে তালাকের পরও আসমানিদের বাড়িতে যাওয়া-আসার চেষ্টা করে সে। স্থানীয়রা নিষেধ করলে পুনরায় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় মামুন। নরসিংদীর নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ঘোষণাপত্র দিয়ে ভবিষ্যতে আসামানিকে সামাজিক মর্যাদা দিয়ে ভরণ-পোষণ দেবে ও মারধর করবে না মর্মে অঙ্গীকার করে সে। ২০২১ সালের ৩০ জুন ৫ লাখ টাকা কাবিনে তারা পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

বিয়ের পর মামুন ও আসমানি ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকে। সেখানে কিছুদিন যাওয়ার পর আসমানির বাবার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় মামুন, তার ভাই মনির হোসেন পাঠান ও স্ত্রী আমেনা খাতুন কিল, ঘুষি, লাথি মেরে আসমানিকে গুরুতর আহত করে। এমনকি তাকে গলা টিপে হত্যারও চেষ্টা চালায়। পরে ৩ লাখ টাকা নিয়ে আসার জন্য আসমানিকে বাসা থেকে বের করে দেয় তারা।

ঐ ঘটনায় স্বামী মামুন হোসেন পাঠান, তার ভাই মনির হোসেন পাঠান ও স্ত্রী আমেনা বেগমের নামে ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন আসমানি। স্বামী মামুন হোসেন পাঠানের কাছ থেকে কাবিনের সমুদয় অর্থ পাওয়ার জন্য নরসিংদীর পারিবারিক আদলতে আরেকটি মামলা করেন তিনি। এরপর আসমানির পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার জন্য একটি মিথ্যা মামলা করেন মামুন হোসেন পাঠানের স্ত্রী আমেনা খাতুন। এ অবস্থায় আদালতের কাছে নিরাপত্তা ও সুবিচার দাবি করেছে ভুক্তভোগী আসমানির পরিবার।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর

English HighlightsREAD MORE »