ধানে গজাচ্ছে চারা, ফসল নিয়ে শঙ্কা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২,   ২২ আষাঢ় ১৪২৯,   ০৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

সিলেটে বন্যা 

ধানে গজাচ্ছে চারা, ফসল নিয়ে শঙ্কা

আহমেদ জামিল, সিলেট ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৩ ১৮ মে ২০২২   আপডেট: ২১:৫৬ ১৮ মে ২০২২

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অকাল বন্যার শঙ্কায় হাওর থেকে তড়িঘড়ি করে কিছু পাকা-আধা পাকা ধান কেটে ঘরে তুলেন কৃষকরা। তাতে কিছুটা শঙ্কা কাটলেও নতুন করে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকের পরিবারে। টানা বৃষ্টির কারণে রোদে শুকাতে না পারায় ঘরে তোলা ভেজা ধানে চারা গজাতে শুরু করেছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। 

বন্যার পানিতে হাওরে তলিয়ে যাওয়া ফসলের আশা ছেড়ে ঘরে তোলা ফসল নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেটিও এখন অনিশ্চিত। দুয়েকদিনের মধ্যে রোদের দেখা না পেলে নষ্ট হয়ে যাবে ঘরে তোলা কাচা ধান। ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বন্যা দুর্গতরা। 

জানা গেছে, ঘুর্ণিঝড় ‘অশনি’র প্রভাবে সিলেটে বৃষ্টিপাত শুরু হলে বন্যার শঙ্কার দেখা দেয়। তড়িঘড়ি করে দুয়েকদিনের মধ্যেই হাওর থেকে পাকা-আধাপাকা ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে আসেন কৃষকরা। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ার কারণে গত এক সপ্তাহ থেকে শুকাতে পারেননি জমি থেকে কেটে আনা ধান। তার উপর অকাল বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকের ঘরবাড়ি। ফলে ভেজা অবস্থায় ঢাকা থাকার কারণে কাচা ধানে গজাচ্ছে চারা। এমন অবস্থায় ফসল রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। 

এদিকে বিভিন্ন জায়গায় কৃষকরা ভেজা ধান বাঁচাতে প্রাচীন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। ভেজা ধান বস্তা বন্দি করে পানিতে ভিজিয়ে রাখছেন কৃষকরা। যদিও এটি বিজ্ঞান সম্মত না তবুও ব্যাপক ক্ষতি থেকে বাঁচতে এ পথে হাটছেন কৃষকরা। আবার অনেকে টিনের শেড কিংবা পাকা ঘরের মেঝেতে পালা করে শুকানোর চেষ্টা করছেন। 

কৃষকরা বলছেন, অকাল বন্যায় বেশিরভাগ ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তড়িঘড়ি করে কিছু ধান জমি থেকে কেটে আনা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলোও রক্ষা করা যাচ্ছে না। শুকাতে না পারায় কাচা ধানে চারা গজাতে শুরু করেছে। আর তিন চারদিন গেলে সব ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। প্রাচীন পদ্ধতি অবলম্বন করে কিছু ধান বাঁচানোর চেষ্ঠা করা হচ্ছে। 

এদিকে কাচা ধান ছাড়াও গোলায় ভরা শুকনো ধান রক্ষায়ও হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। বন্যায় ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শুকনো ধান নিয়েও বিপাকে কৃষকরা। ফলে কৃষকদের কপাল থেকে চিন্তার ভাজ কাটছে না। একের পর এক দুর্যোগে দিশেহারা হাজার হাজার কৃষক পরিবার। 

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার শাহগলি এলাকার কৃষক খলু মিয়া জানান, পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ায় সব কাচা ধান বস্তাবন্দি করে পানিতে ভিজিয়ে রেখেছি। যদি বেশি দিন এভাবে থাকে তাহলে সেগুলো আর রক্ষা যাবে না। যাদের বড় নৌকা আছে তারা খোলা অবস্থায় নৌকায় ভরে রেখে হালকা আলো বাতাসে রাখছেন। 

জুবেল আহমেদ নামে এক কৃষক জানান, বন্যার কারণে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহ থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না। কাচা ধানে চারা গজাচ্ছে। এগুলো রক্ষা করা যাবে না কী না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। 

কৃষক আব্দুল্লাহ বলেন, আগেরকার সময়ে বৃষ্টি-বাদল হলে আগে আমরা ধান বস্তাবন্দি করে পুকুর, ডোবা অথবা নদীতে ভিজিয়ে রাখতাম। দিন না উঠা পর্যন্ত ধান তুলতাম না। কষ্ট একটু বেশি হতো, কিন্তু একটা ধানও নষ্ট হতো না। চালও খুব ভালো হতো। এখনও হবে। চাল নষ্ট হবে না।

সিলেটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. কাজী মুজিবুর রহমান জানান, রোদে শুকাতে না পারলে বিকল্প হিসেবে ড্রায়ার মেশিন (ধান শুকানোর যন্ত্র বিশেষ) দিয়ে ধান শুকানো যায়। কিন্তু মেশিনটা একটু দামি। আমাদের ধান গম পাট নিয়ে একটি প্রকল্প আছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় মেশিনটি ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি আমার ড্রায়ার মেশিনের ব্যবহার উন্মুক্ত করে দিতে পারছি না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »