ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যা, চারজনের যাবজ্জীবন

ঢাকা, শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২,   ১৬ আষাঢ় ১৪২৯,   ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যা, চারজনের যাবজ্জীবন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৬ ১৮ মে ২০২২  

আসামিদের কারাগারে পাঠায় আদালত

আসামিদের কারাগারে পাঠায় আদালত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদরাসাছাত্রী রোজিনা আক্তার হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিতরা হলেন- রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর এলাকার হানিফ মিয়ার ছেলে কইলা, একই এলাকার আব্দুল মতিনের মেয়ে আখি, দেনায়েতপুর এলাকার আবুল কালামের ছেলে হুমায়ুন কবির ও উপজেলার বামনী ইউনিয়নের বামনী গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে মো. বাহার। এর মধ্যে হুমায়ুন ও বাহার পলাতক রয়েছেন।

নিহত রোজিনা রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর এলাকার বয়াতি বাড়ির শফিক মিয়ার মেয়ে ও হযরত খাদিজাতুল কোবরা নুরানী মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলেন।

আদালতের পিপি জসিম উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়৷ এতে ব্যর্থ হয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আসামিরা। ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেয় আদালত।

মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী শাকিল পাটওয়ারী বলেন, মামলার রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। ঘটনার প্রত্যক্ষ কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শেষে ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর বিকেলে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় সাবেক পৌরসভা কার্যালয় ভবনের সামনের সড়কে কথিত প্রেমিক আনোয়ার হোসেন কইলার সোর্স আখি অপেক্ষা করছিলেন। একপর্যায়ে ফুসলিয়ে তাকে বাগানের দিকে নিয়ে যান আখি।

কইলার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে আখি এ সহযোগিতা করেন। সেখানে কইলাসহ আরো তিন সহযোগী ছিলেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কইলা। এতে রাজি না হওয়ায় ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। পরে অন্যদের সহযোগিতায় গাছের সঙ্গে গলার ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে বাগানে মরদেহ ফেলে রাখা হয়। পরদিন দুপুরে স্থানীয় লোকজন মরদেহটি দেখে পুলিশকে খবর দেন। তার পরিবারের লোকজন এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় হত্যা মামলা করেন ছাত্রীর মা মনোয়ারা বেগম। অভিযান চালিয়ে ১৭ ডিসেম্বর পশ্চিম কেরোয়া এলাকা থেকে আখি ও হুমায়ুন নামে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৮ ডিসেম্বর ঘটনা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট মো. দাঊদ হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারা। ২০১৬ সালের ১৮ জুন আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

English HighlightsREAD MORE »