উজানের ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২,   ১৬ আষাঢ় ১৪২৯,   ৩০ জ্বিলকদ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

উজানের ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি 

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:০০ ১৭ মে ২০২২  

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি-ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি-ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

সিলেটে বৃষ্টিপাত কমলেও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। নতুন করে জেলার বিভিন্ন উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। সোমবার গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জকিগঞ্জে অন্তত ১৫টি স্থানে ডাইক ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর অনেক বাসাবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত নগরীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল।

এদিকে উজানের ঢলে সিলেটের সবকটি নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সুরমা, কুশিয়ার ও সারি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় সুরমা নদীর পানি কানাঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১ দশমিক ৫২ সেন্টিমিটার,  কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশীদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্টে শূন্য দশমিক ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সারিগোয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, সোমবার সকাল থেকে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, সারি ও গোয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এই নদনদীগুলোসহ অন্য নদনদীর পানি দ্রুত বেড়ে বন্যার পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করতে পারে। সিলেট, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।

আর আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, সিলেটে রোববার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমেছে। তবে উজানে বৃষ্টি হচ্ছে, এ কারণে ঢল নামছে। ফলে নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উজানে বৃষ্টিপাত না কমলে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হতে পারে।

কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্রথমদিকে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পরে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় নতুন করে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হতে থাকে। জকিগঞ্জে ডাইক ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় পানিতে তলিয়ে গেছে বোরো ফসল ও মাছের খামার। গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টি আর উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধির কারণে সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জকিগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়কগুলো এখন পানির নিচে। শত শত ফসলি জমি ডুবে আছে। এসব জায়গায় নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া সিলেট সদর উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন হাওরের পানিও বেড়েছে।

এদিকে সুরমার পানি ঢুকে সোমবার সকালে নগরের উপশহর, সোবহানিঘাট, কালীঘাট, ছড়ারপাড়, শেখঘাট, তালতলা, মাছিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়। এসব এলাকার বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনায়ও পানি ঢুকে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন মানুষজন। 

আবহাওয়া অধিদফতরের সিলেটের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, সিলেটে রোববার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমেছে। তবে উজানে বৃষ্টি হচ্ছে, এ কারণে ঢল নামছে। ফলে নদ নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটের গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান জানান, গোয়াইনঘাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন করে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

তিনি বলেন, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। ত্রাণের সঙ্গে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পানি পানে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতির দিকে আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। এরই মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় সহায়তা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে আরো পাঠানো হবে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ

English HighlightsREAD MORE »