পুলিশের সাহসিকতায় বাঁচল ‘ডাকাতকবলিত’ বাসের যাত্রীরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২,   ১৬ আষাঢ় ১৪২৯,   ৩০ জ্বিলকদ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

পুলিশের সাহসিকতায় বাঁচল ‘ডাকাতকবলিত’ বাসের যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:০৭ ১৭ মে ২০২২   আপডেট: ০১:১১ ১৭ মে ২০২২

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সাভারে চলন্ত বাসে যাত্রীবেশে অস্ত্র ধরে ডাকাতির অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ডাকাতের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন এক যুবক। এছাড়া বাস থেকে লাথি দিয়ে ফেলা দিলে আরেক নারীও আহত হন। পরে আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া পুলিশের এক সদস্যও ওই ডাকাতকে আটক করতে গিয়ে সামান্য আহত হয়েছেন।

সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আশুলিয়ার নবীনগর এলাকায় সেনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ঘটনাটি ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত ও ডাকাত সন্দেহে আটক ব্যক্তির পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

বাসের যাত্রী মনির হোসেন জানান, বাসের যাত্রী ছিল ২০-২৫ জন। যাত্রীদের মধ্যে এক নারীকে লাথি দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেয়া হয়। আরেকজনকে পায়ে ছুরিকাঘাত করা হয়।

মনির বলেন, পরে এক পুলিশ চলতি বাসে উইঠা এক ডাকাতরে ধইরা ফেলে। পরে সবাই তারে মারধর করে। বাসটা তখন পলায় গেছে। বাসের স্টাফরা ডাকাতির সাথে জড়িত। না হইলে বাস পলায় গেল ক্যা?

বাসের আরেক যাত্রী বলেন, সাভার পরিবহনের বাসটা সাভার যাবে। আমি বাইপাইলে উঠছি। সাভার থানা স্ট্যান্ড নামবো। দেখি যে, কয়েকজন লোক একসাথে উঠছে। ওঠার পরে বাস নবীনগরে সেনা মার্কেটের সামনে গেলে একজন লাফ দিয়া ছুরি নিয়া ড্রাইভারের কাছে গিয়া বসে। ড্রাইভারকে বলে, ওস্তাদ গাড়ি দাঁড় করাবেন না। দাঁড় করাইলে একদম মাইরা দিমু। পরে আমি ভাব-ভঙ্গি দেইখা বাস থাইকা লাফ দিছি। এই সময় এক মহিলা নাইমা যাইতে চাইছিল, তারে একটা জোরে লাথি মারসে। বেটি মনে হয়, বাস থাইকা ২০-২৫ ফুট নিচে গিয়া পড়ছে। তার পা ভাইঙ্গা গেছে। আরেক যাত্রীর পায়ের রগ কাইটা দিছে। তাগো হাসপাতালে নিয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ইমরান খান বলেন, আমি সেনা মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন এক মহিলাকে বাস থেকে ফেলা দেয়া হয়। এ সময় বাসের যাত্রীরা ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করছিল। মার্কেটের সামনে ট্রাফিক পুলিশের এসআই হেলাল ডিউটি করছিলেন। তিনি মহিলাকে ফেলে দেয়া দেখে দৌড়ে একাই বাসে গিয়ে ওঠেন। পরে ছুরি হাতে থাকা একজনকে জাপটে ধরে আটক করে ফেলেন।

ডাকাতের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় এসআই হেলাল সামান্য আহতও হন। এ সময় বাকি ডাকাত সদস্যরা তখন দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে উপস্থিত জনতা ওই ডাকাত সদস্যকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের এসআই আসলাম তাকে আটক করে নিয়ে যান। তবে এ বিষয়ে সাভার ট্রাফিক পুলিশের এসআই হেলালের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

আশুলিয়া থানার এসআই আসলামুজ্জামান বলেন, আমরা ওখানে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার একজনকে পাই। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। যাত্রীরা বলেছে, ছুরি হাতে ছিনতাইকারী বা ডাকাত সদস্যরা তাদের আক্রমণ করেছিল। এখনও ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারিনি। এ ঘটনায় বাসটিও জব্দ করা সম্ভব হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ

English HighlightsREAD MORE »