ছিনতাইকারীর হাতে থানার ওয়াকিটকি, রহস্যের জট খুলছে না 

ঢাকা, সোমবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১২ আশ্বিন ১৪২৯,   ২৮ সফর ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

ছিনতাইকারীর হাতে থানার ওয়াকিটকি, রহস্যের জট খুলছে না 

রাজশাহী প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৪ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

ওয়াকিটকি (ফাইল ছবি)

ওয়াকিটকি (ফাইল ছবি)

রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানার একটি ওয়াকিটকি খোয়া যায়। এটি ব্যবহার করে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে নগরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের কারবার চালানো হয়েছে।

গত ২৯ জানুয়ারি রাজশাহী নগরের শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তল্লাশির নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন এক ছিনতাইকারী। তখন তার কাছে পাওয়া যায় ওয়াকিটকিও। এই নিয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। এখন জানা যাচ্ছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর এই ওয়াকিটকিই বোয়ালিয়া থানা থেকে খোয়া যায়।

ছিনতাইকারী মাভেল ইসলাম ও তার ভাই নেহাল ইসলাম ওরফে নিরো পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তাদের বাড়ি রাজশাহী নগরের শাহমখদুম থানার বড়বনগ্রাম বাগানপাড়া এলাকায়। পুলিশ বলছে, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি গ্রেফতারের পর তারা এখনো কারাগারে।

৩০ জানুয়ারি তাদের আদালতে পাঠিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এই রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে তা হয়নি।

ছিনতাইকারীর হাতে ওয়াকিটকি সেট পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতে রাজশাহী নগর পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মজিদ আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ওয়াকিটকি সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তের জন্য বোয়ালিয়া থানার সাবেক ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

ওয়াকিটকি সেট খোয়া যাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলেও এ নিয়ে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়নি। ওসি নিবারনকে সম্প্রতি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়। তার পোস্টিং এখন এপিবিএনের ৬ ব্যাটালিয়ন, খাগড়াছড়ির মহলছড়িতে। সেখান থেকেই বুধবার রাজশাহীতে তদন্ত কমিটির কাছে হাজির হওয়ার কথা তার। তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নিবারন চন্দ্র বর্মন বললেন, ‘আমি কোনো চিঠি পাইনি, জানি না।’

জানা গেছে, ওয়াকিটকি সেটটি যেদিন খোয়া যায়, সেদিন সকাল আটটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এটি বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ফেরদৌসের নামে বরাদ্দ ছিল। তিনি ডিউটি শেষে ওয়ারলেস অপারেটর আবদুল আউয়ালের কাছে বুঝিয়ে দেন।

একই সময় ডিউটি বদলের সময় আউয়াল সেটি বুঝিয়ে দেন আরেক অপারেটর মো. আমানের কাছে। তারপর ওয়াকিটকি কীভাবে ছিনতাইকারীর কাছে গেছে, সে রহস্যেরই জট খুলছে না।

আমান বলেন, তিনি রাত আটটায় ডিউটি শেষ করে ঐ ওয়াকিটকি সেট আবার আওয়ালের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কি না, তা মনে করতে পারছেন না।

পুলিশ ধারণা, এসআই মনিরুল সেটটি বেলা দুইটায় আওয়ালের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে থাকলে তারপর থেকে রাত আটটার মধ্যে সেটটি খোয়া যেতে পারে। বোয়ালিয়া থানার করিডরের ঐ সময়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এ ক্ষেত্রে তদন্তে কাজে আসতে পারে।

আমান আরো বলেন, যার কাছে সেট পাওয়া গেছে, তিনি একজনের নাম বলেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্ত হলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

বোয়ালিয়ার সাবেক এসআই মনিরুল এখন আরএমপির মতিহার থানায়। তিনি জানান, ১১ সেপ্টেম্বর গণটিকার ডিউটি শেষ করে এসে তিনি ওয়ারলেস অপারেটর আউয়ালের কাছে ওয়াকিটকি সেট বুঝিয়ে দেন। এরপর আউয়াল আরেক অপারেটর আমানের কাছে ডিউটি হস্তান্তর করেন।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »