রাতের অন্ধকারে ১০০ বস্তা সার পাচার, হাতেনাতে ধরা

ঢাকা, বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২,   ২০ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

রাতের অন্ধকারে ১০০ বস্তা সার পাচার, হাতেনাতে ধরা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৬ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২০:৩৮ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২

পাচারকালে ১০০ বস্তা সার ১০ কার্টন কীটনাশক উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী।  ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাচারকালে ১০০ বস্তা সার ১০ কার্টন কীটনাশক উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী।  ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বারদী ইউপির শান্তিরবাজার এলাকা থেকে পার্শ্ববর্তী আড়াইহাজার উপজেলায় সার পাচারকালে ১০০ বস্তা সার ১০ কার্টন কীটনাশক উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। 

সোমবার রাতে উপজেলার বারদী ইউপির চেঙ্গাকান্দি এলাকায় থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ট্রলার চালক ইসমাইল ও হেলপার জয়নালকে আটক করা হয়।  

মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তৌহিদ এলাহী ও বারদী ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান।

জানা যায়, উপজেলার বারদী ইউনিয়নে নাসিরউদ্দিন ভূঁইয়ার মালিকানাধীন ‘মেসার্স ভূঁইয়া টেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সরকারিভাবে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়। নাসিরউদ্দিন ওই ইউনিয়নের কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সংগ্রহ করেন। সার সংগ্রহ করা হলেও স্থানীয় কৃষকরা তার দোকান থেকে চাহিদা মতো সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সপ্তাহে তিন চার দফায় তার দোকানে সার আসলেও এ সার উধাও হয়ে যায়। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। কৃষকরা সার উধাও হওয়ার রহস্য উদঘাটন করতে তৎপর হয়ে পড়েন। গত সোমবার রাতে সারের ডিলার নাসিরউদ্দিন ভূঁইয়ার দোকান থেকে ১০০ বস্তা সার ও ১০ কার্টন কীটনাশাক ট্রলারে উঠানোর সময় কৃষকরা দেখতে পান। 

পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন সরকারকে অবগত করে ট্রলারটি আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া যাওয়ার পথে অর্ধশতাধিক কৃষক একত্রিত হয়ে চেঙ্গাকান্দি এলাকায় ট্রলারসহ দুজনকে আটক করে। ঘটনার পর রাতেই বারদী ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রিয়াদ হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো তার জিম্মায় নেন।

চেঙ্গাকান্দি গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন জানান, নাসিরের দোকানে সার আনতে গেলে সার পাওয়া যায় না। মাঝে মধ্যে খারাপ ব্যবহার করে। সারের অভাবে আমাদের ইরি ধান গাছ মরে যাচ্ছে। এ সার অন্য জায়গায় এভাবে রাতের অন্ধকারে পাচার করে দিলে আমরা সার তো পাবোই না।  

বারদী ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রিয়াদ হাসান জানান, এ ইউপির ডিলার শুধুমাত্র এ ইউপির কৃষকের সার ও কীটনাশকের চাহিদা পূরণ করবেন। এ সার পার্শ্ববর্তী কোনো ইউপির কৃষকের কাছে বিক্রি করতে পারবেন না। এ সার যেহেতু অন্য উপজেলার যাচ্ছে সেহেতু এটাকে পাচার বলা যায়। এটা অন্যায়। কোনোভাবেই এমন কাজ করা যাবে না। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কৃষকদের সার না পাওয়ার অভিযোগ আমাদের কাছে রয়েছে।

বারদী ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুল বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এ স্লোগান প্রধানমন্ত্রী। এ কৃষকের ফসল বাঁচাতে হলে সঠিক সময়ে তাদের কাছে সার ও কীটনাশক পৌঁছাতে হবে। চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই এ এলাকার কৃষকরা সার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি করছি।

অভিযুক্ত নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে যারা বক্তব্য দিয়েছে এগুলো আমার লেবার না। এ সার আমার দোকান থেকে যায়নি।  

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তৌহিদ এলাহী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনা সত্যতা পেয়েছি। সার গুলো উদ্ধার করে উপজেলা নেয়া হয়েছে। এ পাচারের সঙ্গে জড়িত ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।     

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »