রোজগারে নামাতে নিষ্ঠুরতা

ঢাকা, বুধবার   ১৮ মে ২০২২,   ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

রোজগারে নামাতে নিষ্ঠুরতা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৯ ২৭ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২০:৫২ ২৭ জানুয়ারি ২০২২

খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হলো টাইগারকে

খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হলো টাইগারকে

চার বছরের টাইগার। শৈশবটা মায়ের সঙ্গে কাটানোর কথা থাকলেও ছোট্ট হাতিটির চার পা বাঁধা। তাও মোটা দড়ি দিয়ে। আর কদিন পরেই টাইগারকে নামতে হবে কামাই-রোজগারে। তবে এর আগে প্রয়োজন প্রশিক্ষণের। এজন্য পোষ মানাতে বাচ্চা হাতিটির চার পা খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হলো।

এভাবেই খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বাচ্চা হাতিটিকে বশে আনার চেষ্টা চলছে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের কাটাগাং গহীন জঙ্গল এলাকায়। পোষ না মানা পর্যন্ত কমপক্ষে তিন মাস এভাবেই দড়ি দিয়ে চার পা বেঁধে খুঁটিতে টানা দিয়ে রাখা হবে। তিন মাসের মধ্যেই শাবকটি পোষ মানবে বলে আশাবাদী প্রশিক্ষকরা।

প্রশিক্ষণ নেয়া শেষ হলেই বাচ্চা হাতি টাইগারকে দিয়ে দেখানো হবে সার্কাস। ঘোরানো হবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে প্রশিক্ষণের নামে প্রাণীটি এভাবে বেঁধে রাখা অমানবিক বলে মনে করছেন পশুপ্রেমীরা। একই সঙ্গে বশে আনার এমন অমানবিক পদ্ধতির পরিবর্তনও চান তারা।

জানা গেছে, ২৪ জানুয়ারি থেকে বাচ্চা হাতিটিকে বেঁধে এ প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়। ২৫ জানুয়ারি বনবিভাগের লোকজনের উপস্থিতিতে সাময়িক বন্ধ হলেও চলে যেতেই ফের শুরু হয়।

স্থানীয়রা জানায়, হাতির বাচ্চাটিকে বাঁধার কৌশলটাও ব্যতিক্রম। আগে থেকেই মাটিতে গাছের চারটি খণ্ড পুঁতে রাখা হয়। নির্ধারিত স্থানে যাওয়া মাত্র প্রথমে দড়ি দিয়ে গলা বাঁধা হয়। একই সঙ্গে বাঁধা হয় সামনের দুই পা। এভাবে বেঁধে দিনের পর দিন শারীরিক আঘাত করে বশে আনার নামে চলে নির্যাতন। এতে হাতি শাবকের পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে পচন ধরে। এরপর চিকিৎসার নামে লাগানো হয় বিভিন্ন গাছের লতাপাতা।

পরিবেশকর্মী মোহাম্মদ ইমরান খান বলেন, প্রশিক্ষণের নামে হাতি শাবককে যেভাবে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে তা অমানবিক। দু-তিন মাস সময় নিয়ে একেকটি হাতিকে এভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে অনেক হাতি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পচন ধরে শরীরে। কিন্তু কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয় না। উল্টো পচন ধরা অংশে লাগানো হয় মরিচের গুঁড়া ও বিভিন্ন লতাপাতার রস।

মাহুত আহমদ আলী পংকী বলেন, প্রশিক্ষক আকবর আলীর নেতৃত্বে রহমত আলী, ইসমাইল আলী, ফুলু মিয়া ও আহমদ আলী পংকীসহ কয়েকজন সহকারী এ প্রশিক্ষণ কাজে অংশ নিয়েছেন। তারা এভাবেই হাতিকে প্রশিক্ষণ দেন।

চার পা বেঁধে রাখা হলো হাতিটির

প্রশিক্ষক আকবর আলী বলেন, তিন মাস পরেও প্রশিক্ষণের আরো কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। তা সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এ হাতিকে দিয়ে যেকোনো কাজ করানো যাবে।

এমন অমানবিক প্রশিক্ষণে হাতির কষ্ট হয় কিনা জানতে চাইলে আকবর আলী বলেন, প্রশিক্ষণের সময় হাতির শরীরে ক্ষত হয়। তবে পাহাড়ি গাছের লতাপাতা পিষে ক্ষতস্থানে লাগালে সেরে যায়।

হাতির মালিক উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের নিপার রেজা জানান, হাতি প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়াটি বাচ্চার জন্য কষ্টদায়ক। তবু পোষ মানানোর এ কাজটি না করলে বন্যহাতির মতো আচরণ করবে। মানুষের জান-মালের ক্ষতি করবে। প্রশিক্ষণের জন্য এর চেয়ে ভালো পদ্ধতি এখনো বাংলাদেশে নেই। প্রশিক্ষণের সময় অসুস্থতার কারণে বাচ্চাকে স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি ১৫-২০ হাজার টাকার ওষুধও খাওয়াতে হয়।

সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী হাতিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে। তবে প্রশিক্ষণের সময় নির্যাতন করা যাবে না। বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য নির্যাতন ছাড়াই হাতিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

English HighlightsREAD MORE »