শুক্কুর আলীর কথায় সিনেমার বিনোদন
বাংলা সিনেমার হল ভাঙা দর্শকদের জোয়ারের সেই যুগ এখন আর নেই। যতই দিন যাচ্ছে এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্প যেন ততই ধুঁকছে। এত ক্রান্তির পরও এ শিল্পকে অন্যভাবে বুকে ধারণ করে রেখেছেন নরসিংদীর সদর উপজেলার বানিয়াছলের শুক্কুর। তার সঙ্গে কথা বললেই সিনেমাপ্রেমীরা ফিরে যান হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোতে।
পুরো নাম শুক্কুর আলী, বাবা মৃত আমীর আলী, মায়ের নাম হাজেরা বেগম। পৈতৃক বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার বানিয়াছল এলাকায়। বর্তমানে বসবাস করেন সদর উপজেলা মোড়ে একটি ভাড়া বাসায়। ছোট্টবেলায় সেই ১৯৭০ সালে বাবা মারা যান। বাবা মারা যাওয়ার পর মা-ও পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। তার ভাই বোন বলতে কেউ নেই। জন্ম থেকেই একটি চোখে দেখতে পান না। আর বাবা মায়ের অনুপস্থিতি ও অর্থাভাব এই দুইয়ে মিলে পড়াশোনা হয়নি। এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম তিনি হলেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শুক্কুর আলী।
সারাদিনে মানুষের সহায়তা পেয়ে যা পান তা দিয়েই চলে তার দিনাতিপাত। এছাড়া মানুষের সহায়তা থেকে যে কয় পয়সা পান তার একটি অংশ তিনি তুলে দেন অসহায় মানুষের হাতে। এই অবস্থায় তিনি একবার চিনিশপুর ইউনিয়ন পরিষদে সদস্য পদে পয়সা খরচ ছাড়াই নির্বাচন করে মাত্র ৩২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
সংসার ও বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে শুক্কুর আলী জানান, একদিন বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যান কুমিল্লা। সেখানে রাস্তায় পিপাসা লাগলে এক বাড়িতে যান পানি পানে পিপাসা মেটাতে। সেই বাড়িরই এক মেয়েকে মাত্র ৬০ টাকায় বিয়ে করে নরসিংদী চলে আসেন। তাকে নিয়ে ঘর সংসার শুরু করেন। তাদের সংসারে রয়েছে এক ছেলে সন্তান। ছেলেটির বয়স যখন ৬ বছর, তখন বাবার বাড়ি কুমিল্লাতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি স্ত্রী ও ছেলে। এরপর আর বিয়ে করেননি শুক্কুর আলী।
কিন্তু এ শুক্কুর আলী রয়েছে এক বিরল প্রতিভা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক জায়গায় বসে পানি ছাড়া খেতে পারেন এক কেজির পোলাও, ঘণ্টায় ১২ কিলোমিটার হাঁটতে পারেন, সব নায়ক নায়িকার অভিনয়, কোন সিনেমা হল কোন এলাকায় স্থাপিত, কোন নায়ক কোন নায়িকার সঙ্গে কি কি ছবি করেছেন, নরসিংদী জেলার মৃত ও জীবিত সিনিয়র নেতাদের নাম বলতে পারাসহ আরো বেশ কিছু বিষয়। বিভিন্ন দেশের নাম ও রাজধানীর নাম, কোন দেশে কি অবস্থা।
কিভাবে এগুলো শিখেছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, কোনোদিন স্কুলে যাননি, তবুও তিনি এগুলো জানেন এটা আল্লাহর দেওয়া দান জিনিস। শুক্কুর আলী এমন সব কার্যক্রমে এক প্রকার বিনোদন দিয়ে থাকেন বলা যায়। কোনো কাজকর্ম না থাকায় নরসিংদী শহরের উপজেলা মোড়, রেলস্টেশন ও কলেজপাড়ায় তিনি সারাদিন ঘোরাফেরা করেন। পথে ঘাটে শিক্ষার্থী ও পথিকদের বিনোদন দিয়ে যা পান তা দিয়ে চালিয়ে দেন তার দৈনন্দিন চাহিদা। জীবনে আর কি চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত কোনো সরকারি সাহায্য তার জীবনে জুটেনি। তিনি যাতে ভাড়া বাসায় থাকতে না হয়। আর দুবেলা যাতে খেতে পারেন এমন একটা ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান।