সেই গেঞ্জি আর জুতার সূত্র ধরে হত্যা রহস্য উন্মোচন 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ মে ২০২২,   ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২৪ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

সেই গেঞ্জি আর জুতার সূত্র ধরে হত্যা রহস্য উন্মোচন 

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৩২ ২৫ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২২:৩৫ ২৫ জানুয়ারি ২০২২

গ্রেফতার চারজন হলেন নান্দাইলের তারাপাশা গ্রামের মো. শাহ জালাল সিকদার, বারোগড়িয়া গ্রামের মো. শান্ত মন্ডল, উত্তর জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম মানিক ও রহিমপুর গ্রামের মো. মনির উদ্দিন।  ছবি: সংগৃহীত

গ্রেফতার চারজন হলেন নান্দাইলের তারাপাশা গ্রামের মো. শাহ জালাল সিকদার, বারোগড়িয়া গ্রামের মো. শান্ত মন্ডল, উত্তর জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম মানিক ও রহিমপুর গ্রামের মো. মনির উদ্দিন।  ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে গেঞ্জি ও জুতার সূত্র ধরে অটোরিকশা চালককে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। চালককে ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশা নিয়ে পালানোর সময় স্থানীয়দের ধাওয়ায় একটি গেঞ্জি ও এক জোড়া জুতা ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।  

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার চার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন মোশারফ হোসেন। ঐ গ্রামের সুলতা উদ্দিন সুলতুর ছেলে তিনি। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবন চালানো মোশারফ টার্গেটে পরিণত হন ছিনতাইকারী দলের। গত বছরের ২ নভেম্বর নিজের গ্রাম থেকে অটোরিকশা নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের বটতলা বাজারের স্টেশনে অবস্থান করার সময় হন টার্গেট। 

রোগী পরিবহনের জন্য চার যাত্রী ভাড়া করে মোশারফের অটোরিকশাটি। সে রাতে জাহাঙ্গীরপুর ইউপির রোসাটি বাজারের কাছে নিয়ে বাড়ি থেকে রোগী আনার জন্য বলা হয়। কিন্তু চালক রাজি না হলে চক্রটি ধস্তাধস্তি শুরু করে। এর পর চালকের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করেন। ঐ অবস্থায় চালককে ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশাটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে চার সদস্যের চক্রটি। 

স্থানীয় লোকজন চক্রটিকে ধাওয়া করায় প্রায় ধরা পড়ে যাওয়া একজন নিজের গেঞ্জি খুলে ও একজন নিজের জুতা রেখে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত চালকের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই। এ খবরে ঘটনাস্থলের কিছুদূর আবদুল্লাহপুর গ্রামে অটোরিকশাটি ফেলে যায় দলটি। চাবি পুঁতে রেখে যায় মাটির নিচে। পুলিশ পরে গেঞ্জি, জুতা ও অটোরিকশাটি হেফাজতে নেয়।
 
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ৫ নভেম্বর অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে নান্দাইল মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটির তদন্তভার পায় ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশ। 

গেঞ্জি ও জুতার সূত্র ধরে ডিবি পুলিশের দল জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রচেষ্টা শুরু করে। প্রায় তিন মাসের মাথায় হত্যা রহস্য উন্মোচন করতে পেরেছে ডিবি পুলিশ।

সোমবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নান্দাইলের জাহাঙ্গীপুর এলাকা ও গাজীপুরের মাওনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক করা হয় চার ব্যক্তিকে। 

গ্রেফতার চারজন হলেন নান্দাইলের তারাপাশা গ্রামের মো. শাহ জালাল সিকদার, বারোগড়িয়া গ্রামের মো. শান্ত মন্ডল, উত্তর জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম মানিক ও রহিমপুর গ্রামের মো. মনির উদ্দিন। 

জানা যায়, অটোরিকশা চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর অটোরিকশাটি নিয়ে পালানোর সময় মনির ও শান্ত ধাওয়ার শিকার হন। মনির নিজের গেঞ্জি ও শান্ত নিজের জুতা ফেলে যান ঘটনাস্থলের কাছে। ধরা পড়ার পর সেগুলো নিজেদের বলেও শনাক্ত করে। ঐ অবস্থায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তিন বিচারকের আদালতে হাজির করা হয়। পরে সন্ধ্যায় চার আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ময়মনসিংহ ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুর রহমান বলেন, গেঞ্জি ও জুতার সূত্র ধরেই চার আসামিকে তারা গ্রেফতার করেন। হুট করে টাকার অভাব অনুভব করায় ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাটি করে ঐ চারজন। আদালতেও তারা এ বিষয়টি জানিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »