রোগীদের আস্থার ঠিকানা চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স 

ঢাকা, রোববার   ২২ মে ২০২২,   ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

রোগীদের আস্থার ঠিকানা চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স 

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৯ ২১ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৯:৩৭ ২১ জানুয়ারি ২০২২

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লার চান্দিনায় রোগীদের আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি ঐ হাসপাতালে এখন অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সেবা দিচ্ছে রোগীদের। প্রসূতিদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ উপহার সামগ্রীর প্যাকেট। দীর্ঘদিন ধরে এখানেই হচ্ছে সিজরিয়ান অপারেশন। এছাড়া গর্ভবতীদের স্বাভাবিক ডেলিভারিতো হচ্ছেই।

সরকারি ঐ হাসপাতালটিতে বর্তমানে রোগীদেরকে বিভিন্ন প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ একটি আইসিইউ সুবিধা সম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হয়েছে হাসপাতালটিতে।

১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ৩১ শয্যার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১৮ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। আদৌ ৫০ শয্যার লোকবল না থাকা সত্বেও ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চালু হয়েছে পৃথক ২টি অপারেশন থিয়েটার। মাত্র এক বছরেই ৪ শতাধিক প্রসূতি মায়ের সন্তান ডেলিভারি করতে সক্ষম হয়েছে হাসপাতালটি। যার মধ্যে ৫০টি সিজারিয়ান ও প্রায় সাড়ে ৩০০ নরমাল ডেলিভারি। 

হাসপাতালে প্রসূতিদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা ওষুধের প্যাকেট। সিজারিয়ান ও স্বাভাবিক প্রসূতিরা হাসপাতালে ভর্তি হতেই সুন্দর প্যাকেটে মোড়ানো উপহারের ন্যায় ওষুধ সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। যে প্যাকেটে একজন প্রসূতির চিকিৎসার যাবতীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী রয়েছে। যাতে কোনো প্রসূতিকেই ওষুধ বাহির থেকে কিনে আনতে না হয়। 

আরো পড়ুন >>> ঘোড়া দিয়ে হালচাষ

বর্তমানে হাসপাতালটিতে রয়েছে গাইনি ও সার্জারির জন্য পৃথক দুইটি অপারেশন থিয়েটার ও আধুনিক সুসজ্জিত ৪টি ডেলিভারি অবজারভেশন কক্ষ এবং সেইফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন ইউনিট। বিনোদনের জন্য রয়েছে প্রতিটি কেবিনে এলইডি টিভি। রয়েছে ক্যাঙ্গারো মাদার কেয়ার ইউনিট ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার।

শুধু প্রসূতি মায়ের চিকিৎসাই নয়। চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পার্শ্ববর্তী দেবীদ্বার, বুড়িচং ও বরুড়া উপজেলার কয়েকটি ইউপির রোগীরা সেবা গ্রহণ করে থাকেন প্রতিদিন। দেশের ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন হাসপাতালটিতে প্রায় প্রতিদিনই চিকিৎসা নিচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতরা রোগীরা। আউটডোরেও রোগীর কমতি নেই। গড়ে ৩০০-৪০০ রোগী আউটডোরে চিকিৎসা ও ওষুধ গ্রহণ করছেন নিয়মিত । 

ঐ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ করলেই মনে হবে যেন কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল। আগত কোনো রোগী আসলেই ছুটে আসছে কর্তব্যরতরা। অপেক্ষমান রোগী ও স্বজনদের বসার জন্য রয়েছে বসার আধুনিক আসন। যে কোনো রোগীদের চিকিৎসায় দেওয়া হচ্ছে বিনা মূল্যে ‘ফাস্ট ডোজ’ সেবা। রোগ নির্ণয়ে অধিকাংশ রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ২৪ ঘণ্টা ইসিজি, ডিজিটাল এক্সরে, জিন এক্সপার্ট মেশিনে যক্ষা নির্ণয় ও বিনামূল্যে চিকিৎসা। সাপে কামড়ানো রোগীর জন্য রয়েছে ‘এন্টি ব্ল্যাক ভেনাম’ চিকিৎসা ব্যবস্থা। আরো রয়েছে দাঁতের আধুনিক চিকিৎসা সেবা।

সার্জারি বিভাগে হচ্ছে এপেন্ডিসাইটিস, হার্নিয়া, হাইড্রোসিলসহ অনেক মাইনর অপারেশন। রোগী পরিবহনে রয়েছে ভারতীয় উপহার লাইভ সাপোর্ট আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সসহ ৪টি সচল অ্যাম্বুলেন্স। 

ভর্তিকৃত রোগীদের ওষুধও ট্রলি যোগে প্রতিটি বেডে নিয়ে যাচ্ছেন কর্তব্যরত নার্সরা। রোগীর ওষুধের সময় হলে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছেন তারা। ভর্তিকৃত রোগীর স্বজনদের খাবারের জন্য রয়েছে ডাইনিং রুম। 

নিরাপত্তা ও আধুনিকতায় এগিয়ে রয়েছে হাসপাতালটি। এইচডি ও নাইট ভিশিন ৩২টি সিসি ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে নিরাপত্তা। সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে সেন্ট্রাল ওয়াইফাই। সৌন্দর্য বর্ধণে ফুলের বাগান ও বৈদ্যুতিক বাতিতে আলোকিত হাসপাতাল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত উন্নত মুক্তিযোদ্ধা কেবিন। চিকিৎসা কাজে নিয়োজিতদের সাথে সভা সমাবেশের জন্য রয়েছে সুসজ্জিত আধুনিক হল রোম। এমন সেবায় সন্তুষ্ট রোগী ও এলাকার জনগণ। 

আরো পড়ুন >>> নারীদের নজর কাড়ছে বাণিজ্য মেলা

রোগী সাবিনা আক্তার জানান, গত বৃহস্পতিবার আমার দ্বিতীয় সন্তান এ হাসপাতালে জন্ম নেয়। আসার পর সেবার ধরণ  দেখে আমি তো হতবাক! আগে জানতাম সরকারি হাসপাতালে সেবা নেই। এখন দেখি তার উল্টো।

ঐ রোগীর মাতা নূরজাহান জানান, এখানে আনার পর একটি ওষুধও আমাকে বাহির থেকে কিনতে হয়নি। সময় মত তারাই (নার্সরা) আমার মেয়েকে ওষুধ খাইয়ে দিচ্ছেন। এমন পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ভাল সেবা পেলে মানুষ কখনও প্রাইভেট হাসপাতালে যাবে না। 

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসান জানান, চান্দিনার এমপি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত দেশের একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলমও চান্দিনার। তাদের একান্ত প্রচেষ্টা ও জনগণের সহযোগিতায় চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি একটি আধুনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রূপান্তরের চেষ্টা করছি। 

আমরা চেষ্টা করছি প্রাইভেট হাসপাতালমুখী রোগীদের ফিরিয়ে আনতে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়, আমরা রোগীদের পরিচ্ছন্ন পরিবেশে যথাযথ চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করায় এখন প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোগীর সেবায় আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং পর্যাপ্ত জনবল থাকলে আমাদের সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »