সাঁকোয় জীবন পার

ঢাকা, রোববার   ২২ মে ২০২২,   ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

সাঁকোয় জীবন পার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪০ ২১ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৭:৪১ ২১ জানুয়ারি ২০২২

সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার

সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার

শত দাবি জানিয়েও মেলেনি একটি সেতু। সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ। কবে কাটবে এ দুর্ভোগ; এর কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে। তাই দুর্ভোগকে সঙ্গী করেই একটি মাত্র বাঁশের সাঁকোতে চলছে হাজারো পরিবারের জীবন।

সাইডুলি নদীতে সেতু না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের ১০-১২টি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। ৫০ বছরেও কাটেনি তাদের এ জনভোগান্তি।

জানা গেছে, হাওড়বেষ্টিত নওপাড়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া ও পাচহার গ্রাম দুটি সাইডুলি নদীর পূর্বপাশে। এছাড়া আশপাশে সড়কপথ না থাকায় কোনাপাড়া খেয়াঘাট পার হয়ে ইউনিয়নের ইটাচকি, শিশূলাটি গনিতাশ্রম, কাউরাট নাপাড়া, পাচহার কুতুবপুরসহ পার্শ্ববর্তী মদন উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ দৈনন্দিন কাজে নদী পারাপার হতে হয়। 

এ নদীতে সেতু না থাকায় প্রতিনিয়ত দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে, কৃষি কাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদ করা, ফসলি জমির সার ওষুধ পরিবহনে অসুবিধা, জমির ফসল ক্রয়-বিক্রয়ে অসুবিধা, শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠগ্রহণে অসুবিধা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছেন তারা।

যুগ-যুগ ধরে কোনো প্রয়োজনে নদীর পশ্চিম পাশে আসতে হলে তাদের নদীতে ভিজে বা খেয়া নৌকা দিয়ে পার হয়ে আসতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে স্থানীয়রা। আবার বর্ষা মৌসুমে তাদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। খেয়া নৌকা দিয়ে নদী পার হতে গিয়ে পানির স্রোতে ডুবে শিক্ষার্থীদের যেমন বই-খাতা হারায়, তেমনি পথচারীদের মূল্যবান সম্পদ হারিয়েও ক্ষতিগ্রস্ত হন। রোগী পারাপারেও পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এছাড়া নদীর পূর্ব তীরে কোনো বাজার বা হাট না থাকায় তারা পশ্চিম তীরের হাটবাজারের ওপর নির্ভরশীল।

নদীর পূর্বপাশে বাজার না থাকায় নদীর পূর্বপাড়ের কোনাপাড়া ও কুতুবপুর গ্রামের লোকজন নিজেদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করতে না পেরে ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধপত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে না পেরে পূর্ব তীরের মানুষ খুব কষ্টে দিনযাপন করছেন।

শুষ্ক মৌসুমে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে নদীতে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে যাতায়াতের সুবিধা সৃষ্টি করেন। কিন্তু বর্ষায় ভারী বর্ষণের ফলে স্রোতে সাঁকো তৈরি করা সম্ভব হয় না। নদী পারাপার হয়ে ১০-১২ টি গ্রামের মানুষ এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। দীর্ঘদিনের এ কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের কাছে বহুবার সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে গ্রামবাসী।

নদীর পূর্বপাড়ের কোনাপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ভূট্টো বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কম থাকে। তাই আমরা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করি। আমাদের দুঃখ-কষ্ট দেখার কেউ নেই। নির্বাচন এলে নদীতে সেতু করার প্রতিশ্রুতি দেন সবাই। কিন্তু নির্বাচন গেলে আর খবর থাকে না।

তিনি আরো বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীতে ৩০ ফুট গাভীর পানি থাকে। স্রোত থাকে প্রচুর। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকা দিয়ে আমরা নদী পার হই। এ সময়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা সময়মতো স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। যাতায়াতের অসুবিধায় আমাদের উৎপাদিত ফসল ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারি না। নদীতে একটি সেতু নির্মাণের জন্য এমপিসহ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

নওপাড়া ইউপির বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল ফারুক ছানা জানান, এ নদীটি ইউনিয়নটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। নদীতে একটি সেতু নির্মাণ হলে নদীর পূর্বপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা ধরন পাল্টে যাবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ভূঁইয়া বলেন, নদীতে সেতু নির্মাণের জন্য এমপি অসীম কুমার উকিলের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই সেতুটি নির্মাণের অনুমোদন পাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

English HighlightsREAD MORE »