হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ঘুঘু

ঢাকা, শুক্রবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২২,   ১৪ মাঘ ১৪২৮,   ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ঘুঘু

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৭ ১৫ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৯:০৮ ১৫ জানুয়ারি ২০২২

Columbidae পরিবারের পাখি বাঁশ ঘুঘু। ছবি : সংগৃহীত

Columbidae পরিবারের পাখি বাঁশ ঘুঘু। ছবি : সংগৃহীত

প্রকৃতির অন্যতম প্রধান উপাদান গাছ। আর সেই গোছে বাসা বাঁধে পক্ষীকূল। কিন্তু নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে প্রকৃতিতে গাছগাছালির সংখ্যা দিনকে দিন কমে আসছে। আর আবাসন সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির পাখিও। এমনই এক পাখি বাঁশ ঘুঘু। অনেকে একে সবুজ ঘুঘু বা রাজঘুঘু বলে চেনে। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, জমিতে বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং অবাধ পাখি শিকারের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে এই পাখিটি। অথচ আশির দশকেও গ্রামাঞ্চলের সর্বত্র দেখা মিলতো এই দৃষ্টিনন্দন পাখিটির। তবে এখন আর এই পাখি তেমনটি চোখে পড়ে না।

বাঁশ ঘুঘু Columbidae পরিবারের পাখি। এই ঘুঘুর ইংরেজি নাম Grey-capped Emerald Dove, Emerald Dove, Asian Emerald Dove ev Green-winged Pigeon। এদরে বৈজ্ঞানিক নাম, Chalcophas indica। ২৭ সে.মি. দৈর্ঘ্যের এই পাখি কমবেশি ১৩২ গ্রাম ওজনের হয়ে থাকে। সবুজ ডানার ছোট ভূচর পাখি এরা। ছেলে ও মেয়ে পাখির চেহারায় ভিন্নতা রয়েছে। ছেলে পাখির মাথায় ধূসর চাঁদি, সাদা কপাল ও ভ্রু রেখাসহ পিঠ জ্বলজ্বলে সবুজ রঙের। লেজ ও ওড়ার পালক কালো। মাথার পাশ ও দেহের নিচের দিকটা খয়েরি বা বাদামি বর্ণের। ছেলে ও মেয়ে পাখির দেহের নিচের দিকটা উষ্ণ বাদামি। এদের চোখ বাদামি। ঠোঁট লাল।

Columbidae পরিবারের পাখি বাঁশ ঘুঘু। ছবি : সংগৃহীত

‘কলাম্বিডি’ গোত্রের অন্তর্গত অত্যন্ত সুন্দর সবুজ ঘুঘু কোথাও আবার পাতি শ্যামা ঘুঘু নামেও পরিচিত। ভারতের তামিলনাড়ু প্রদেশের প্রাদেশিক পাখি হিসাবেও পরিচিত এই ঘুঘু। এদের আয়ুষ্কাল ৬ থেকে ৭ বছর। এরা ভোরবেলা খাবারের সন্ধানে বের হয়। এরা ভীষণ লাজুক ও সতর্ক স্বভাবের পাখি।

বাঁশ ঘুঘু শালবন, বাঁশবন ও বনপ্রান্তে বিচরণ করে। সচারচর একা বা জোড়ায় থাকে। মাটিতে হেঁটে হেঁটে খাবার খায়। খাদ্যতালিকায় রয়েছে ঝরা ফল, বীজ, শস্যদানা ও উইপোকা। শত্রু দেখে ভয় পেলে মাথা ওঠা-নামা করে দ্রুত উড়ে ঘন জঙ্গলে ঢুকে যায়। বছরের ১২ মাস এরা প্রজনন করে। প্রজননকালে পুরুষ পাখি হু..হু...হু শব্দ করে গোঙানোর মতো ডাকে। বাঁশঝাড়, ছোট গাছে বা ঝোঁপের ভেতরে ডাল-পাতা দিয়ে এরা বাসা বানায়। নিজেদের বানানো বাসায় মেয়ে পাখি ২-৩টি ডিম পাড়ে। উভয়ে ডিমে তা দিয়ে ১২ দিনে বাচ্চা ফোটায়। মা-বাবা দুজনে মিলে ছানাদের পরিচর্যা করে।

বাঁশ ঘুঘু বা সবুজ ঘুঘু বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট বিভাগের বনে পাওয়া যায়। ভারত উপমহাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এদের বৈশ্বিক বিস্তৃত রয়েছে। বাঁশ ঘুঘু বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বণ্যপ্রাণী আইনে এরা সংরক্ষিত। সুন্দর এ পাখিটি রক্ষায় মানুষের মাঝে প্রকৃতি প্রেম জাগ্রত করা আজ বড় বেশি প্রয়োজন।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »