বই পাঠের অভ্যাস গড়তে ইবির তারুণ্যের অনন্য উদ্যোগ

ঢাকা, রোববার   ২৩ জানুয়ারি ২০২২,   ৯ মাঘ ১৪২৮,   ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বই পাঠের অভ্যাস গড়তে ইবির তারুণ্যের অনন্য উদ্যোগ

ইবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৭ ১৫ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১২:৫৩ ১৫ জানুয়ারি ২০২২

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন `তারুণ্য

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন `তারুণ্য

বই মানুষের সব থেকে শ্রেষ্ঠ বন্ধু। তবে এই বন্ধুত্বের ধরন যেন একপাক্ষিক। বই মানুষকে শুধু দিয়েই যায়। নতুন জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষের জ্ঞানের পাল্লা ভারী করতে বই পড়ার থেকে উত্তম আর কিছুই হতে পারে না। বই মানুষের অজ্ঞতার অন্ধকার প্রাচীরকে দূর করে আত্মাকে করে পরিশুদ্ধ ও আলোকিত। 

আর এই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'তারুণ্য'। প্রতি বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবন ও বিজ্ঞান ভবনের মাঝের বটতলায় বইয়ের মেলা নিয়ে বসে 'তারুণ্য লাইব্রেরি'। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এটি।

আরো পড়ুন: ইবিতে উচ্চশব্দে গান বাজনা; ক্লাস-পরীক্ষায় ভোগান্তি

এসময় বটতলায় গেলে দেখা যায় কাঠের তাকে আর টাইলসের উপর সাজিয়ে রাখা আছে নানান রকমের বই। ক্লাসের ফাকে বইপ্রেমীরা এসে কখনো বটের ছায়াতেই পড়তে বসেন আবার অনেকে বসেন আড্ডায়। লাইব্রেরিটি হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস জুড়ে বইপ্রেমীদের মিলন মেলা। 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুন উর রশিদ আসকারী এ লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন। শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে ২০১৯ সালের ২০ মার্চ প্রতিষ্ঠা করা হয় এটি। তারুণ্যের নিজস্ব ফান্ডিং, বিভিন্ন প্রকাশনা এবং শিক্ষকদের সহায়তায় ১লক্ষ টাকার বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে এ লাইব্রেরিতে। 

আরো পড়ুন: কৃষ্ণচূড়ায় আর রক্তিম হবে না ইবির প্রধান ফটক 

এবিষয়ে তারুণ্যের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফারদিন সানি ডেইলি-বাংলাদেশকে জানান, তারুণ্য লাইব্রেরিতে নিয়মিত পাঠক রয়েছে প্রায় ২০০ জন এবং বই রয়েছে প্রায় ১০০০। নিজস্ব রুম না থাকায় এখন বাহিরে আয়োজন করতে হচ্ছে। নিজের রুম পেলে সুন্দর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের জন্য লাইব্রেরির ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে এ বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ব্যবস্থা করা। 

ফারদিন জানান, ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা ফি প্রদানের মাধ্যমে যে কেউ হতে পারে তারুণ্য লাইব্রেরির সদস্য। একটি বই নিয়ে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ রাখা যায় এবং জমা দিয়ে আবার নতুন বই নেয়া যায়। বই পড়া কে উৎসাহিত করতে প্রতি মাসে সেরা বই রিভিউকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। 

আরো পড়ুন: খাদ্য-আশ্রয় নিয়ে পাখিদের পাশে ইবির ‘অভায়ারণ্য’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ল' এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী সনেট শেখ বলেন, বই পড়া নিজেকে এক উন্নত আমি গঠনে সহায়তা করে। এছাড়া বই পড়া শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধিতে অনেক বেশি সাহায্য করে। তারুণ্যের এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছে। 

‌অবারিত সম্ভাবনা নিয়ে জাগ্রত তারুণ্য' স্লোগানকে সামনে রেখে ২০০৯ সালের ২৯ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে 'তারুণ্য' প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি ক্যাম্পাসে ক্যারিয়ার বিষয়ক বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালা আয়োজনের পাশাপাশি বিনামূল্যে রক্তদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অংশগ্রহণ, বনায়ন, রক্তদান, শীতবস্ত্র বিতরণ ও অসহায় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »