প্রথমবার ৪ চাকার গাড়ি দেখলো খালিয়াজুরীবাসী

ঢাকা, শুক্রবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২২,   ১৪ মাঘ ১৪২৮,   ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

প্রথমবার ৪ চাকার গাড়ি দেখলো খালিয়াজুরীবাসী

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৮ ১৩ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৮:৪৪ ১৩ জানুয়ারি ২০২২

প্রথমবারের মতো ৪ চাকার গাড়ি দেখলো নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলাবাসী। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো ৪ চাকার গাড়ি দেখলো নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলাবাসী। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হাওর উপজেলা নেত্রকোনার খালিয়াজুরী। এ উপজেলাটি হাওরদ্বীপ হিসাবেও পরিচিত। হাওর বেষ্টিত এ উপজেলায় বছরের ৮ মাসই পানি থাকে। শুকনো মৌসুমেও প্রবাহমান থাকে খরস্রোতা ধনু নদী। এসব কারণে এতোদিন ৪ চাকার গাড়ি দেখার সৌভাগ্য হয়নি খালিয়াজুরীবাসীর। 

তবে উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্য করোনাভাইরাসের টিকা আনার বদৌলতে এবার এই প্রথমবারের মতো দুটি ৪ চাকার গাড়ি প্রবেশ করল খালিয়াজুরী উপজেলা শহরে। যা দেখে স্থানীয়রা অনেকটাই অবাক হয়েছেন। উৎসুক লোকজন নতুন বর দেখার মতো ভিড় করেন গাড়ি দুটি দেখতে। 

গত বুধবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলা থেকে গাড়ি দুটি নিয়ে আসেন খালিয়াজুরী উপজেলা প্রশাসন।

গাড়ি ২টির মধ্যে লাল রঙের একটি গাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এবং কালো রঙের অন্য গাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বলে জানা গেছে। অনেক আগে থেকেই গাড়ি ২টি তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া ছিল। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় গাড়িগুলো উপজেলা শহরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

প্রথমবার ৪ চাকার গাড়ি দেখলো খালিয়াজুরীবাসী

খালিয়াজুরী উপজেলা শহরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর মাত্র ৩টি অটোরিকশা চলতো পুরো উপজেলা শহরে। যদিও সরকার ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে করে দিয়েছে ডুবন্ত সড়ক। কিন্তু একটি মাত্র সেতুর অভাবে এই শহরে ৪ চাকার গাড়ি দেখেনি কেউ কোনো দিন। 

তিনি বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি, ধনু নদীতে একটি সেতু নির্মাণের। এ নদীতে একটি সেতু হলে বদলে যাবে পুরো অঞ্চলের চিত্র। 

এদিকে শহরে প্রথমবারের মতো ৪ চাকার গাড়ি দেখতে আসা স্থানীয় কয়েকজন জানান, লাল ও কালো রঙের ২টি ৪ চাকার গাড়ি চলার দৃশ্য দেখতে রাস্তার দু’পাশে শত শত মানুষ ভিড় জমে। গাড়িগুলো প্রত্যন্ত হাওরের পথ ধরে যেতে যেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে গিয়ে হাজির হয়। আর এই স্মৃতি ধরে রাখতে অনেকে গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলেছেন।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে কথা হলে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, ফাইজারের টিকা সরবরাহ করতে হয় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রার গাড়িতে করে। কিন্তু রাস্তার অভাবে দুর্গম জনপদ খালিয়াজুরীতে গাড়ি পৌঁছানো সম্ভব নয়। এমন চিন্তা করে খালিয়াজুরীর টিকা কার্যক্রম পার্শ্ববর্তী মদন উপজেলা সদরে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু এতে বাদ সাধে উপজেলার বাসিন্দারা। তারা ৩০ কিলোমিটার দূরে মদনে গিয়ে টিকা গ্রহণে আপত্তি জানান। তারা যেকোনো উপায়ে খালিয়াজুরীতে টিকা পৌঁছানোর অনুরোধ করেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। 

প্রথমবার ৪ চাকার গাড়ি দেখলো খালিয়াজুরীবাসী

তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশেষায়িত গাড়ি দিয়েই খালিয়াজুরীতে টিকা পৌঁছানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। 

দুর্গম পথে গাড়ি ২টি নিয়ে আসার বর্ণনা দিয়ে ইউএনও বলেন, একটি বড় ট্রলারের পাটাতনে কাঠের তক্তা বসিয়ে পার করা হয় গাড়িগুলো। ৩০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে টিকা নিতে অনেকে আপত্তি তোলায় আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলাম। আমরা তাতে সফল হয়েছি। শুধু গাড়ি পৌঁছাইনি, টিকাগুলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখার জন্য আমরা একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষেরও ব্যবস্থা করেছি।

খালিয়াজুরী সদরের বাসিন্দা মহসিন মিয়া বলেন, খালিয়াজুরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই দুর্গম। ২০১৭ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন খালিয়াজুরী উপজেলা সদরে সফর করেন, তখন তার গাড়িও আনা সম্ভব হয়নি। তিনি হেলিকপ্টারে এসেছিলেন। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর একটি সাধারণ রিকশায় চড়েন তিনি। খালিয়াজুরীবাসীর দুঃখ ধনু নদী। ওই নদীতে একটা সেতু খুব জরুরি দরকার।

একই এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ আশা রাণী সরকার বলেন, ‘জীবন কাটিয়ে দিয়েছি, এখানে এতো সুন্দর গাড়ি কখনও দেখিনি। কেউ অসুখে মারা গেলেও কোথাও নিয়ে যাওয়া যায় না। নদীর এপাড়ে ধানের দাম দেড়শ থেকে দুইশ টাকা কমে বিক্রি করতে হয়। এ রকম গাড়ি আসলে আমরা ধানের ঠিক দাম পাইতাম।’

এ বিষয়ে খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সানোয়ারুজ্জামান তালুকদার জোসেপ বলেন, এই প্রথম খালিয়াজুরীতে কোনো ৪ চাকার গাড়ি এলো। আমাদের ধনু নদীতে একটি ফেরি পারাপারের ব্যবস্থা করা হলে কৃষ্ণপুর, নগর, লেইপসিয়া ইউনিয়নে মোটামুটিভাবে গাড়ি চলাচল করতে পারবে। এতে শুকনো মৌসুমেও এখানকার মানুষের খুবই উপকার হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »