গানের ভিডিওতে মিলল ভয়ঙ্কর খুনির সন্ধান

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২,   ৫ মাঘ ১৪২৮,   ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গানের ভিডিওতে মিলল ভয়ঙ্কর খুনির সন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৮ ১৩ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৭:০৮ ১৩ জানুয়ারি ২০২২

গানের ভিডিওতে দুর্ধর্ষ খুনি হেলাল হোসেন (ছবি: সংগৃহীত)

গানের ভিডিওতে দুর্ধর্ষ খুনি হেলাল হোসেন (ছবি: সংগৃহীত)

বছর ছয়েক আগে ‘ভাঙ্গা তরী ছেড়া পাল’ শিরোনামে ইউটিউবে একটি গান প্রকাশিত হয়। ঐ গানের  ভিডিওটিতে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বাউল বেশধারী এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। র‌্যাব বলছে, বাউল বেশধারী ঐ ব্যক্তি আসলে দুর্ধর্ষ এক পলাতক আসামি, তিনি তিনটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজার র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, বগুড়ায় ২০০১ সালে চাঞ্চল্যকর বিদ্যুৎ হত্যাকাণ্ডের আসামি হেলাল হোসেনের চেহারার সঙ্গে ঐ বাউল মডেলের চেহারার মিল রয়েছে। এ সন্দেহের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে র‌্যাব। বিদ্যুৎ হত্যা মামলার এজাহার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারে, এই মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হেলাল হোসেনের কথা।   

তদন্তে নেমে র‌্যাব জানতে পারে গানটির শুটিং হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের রেল স্টেশনে। সেখান থেকে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য পাওয়া যায়। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে র‍্যাব-৩ এর একটি দল গতকাল (বুধবার) রাতে ভৈরব স্টেশন থেকে মিউজিক ভিডিওতে বাউল বেশধারী হেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করে।  

আরো পড়ুন: বাউল ছদ্মবেশী ‘দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলার’ হেলালের যত কুকর্ম

হেলাল হোসেন তার নিজ এলাকা বগুড়ায় বাউল সেলিম, সেলিম ফকির, খুনি হেলাল ও হাত লুলা হেলাল নামে পরিচিত। 

খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল হোসেন আমাদের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। আমরা জানতে পারি, বগুড়ায় ২০০১ সালের বিদ্যুৎ হত্যাকাণ্ডের চার আসামির মধ্যে তিনি একজন। ঐ হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। বগুড়ায় ১৯৯৭ সালে সংঘটিত আরো একটি হত্যা মামলারও আসামি তিনি। একইসঙ্গে ২০০৬ সালে রবিউল হত্যা মামলার আসামিও তিনি। এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের একটি মামলা ও চুরির একটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

র‌্যাব বলছে, হত্যা মামলায় সাজা হওয়ার পর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনের জন্য বাউলের বেশ বেছে নেয় হেলাল। এভাবেই দেশের বিভিন্ন স্টেশনে গত সাত বছর আত্মগোপনে ছিলেন হেলাল। বাউলের বেশ ধরে গান গেয়ে জীবিকাও নির্বাহ করেছেন তিনি।  

র‌্যাব কর্মকর্তা আরো বলেন, ১৯৯৭ সালে ২১ বছর বয়সে বিশু হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে অপরাধ জগতে পা রাখেন হেলাল হোসেন। পরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মারামারিতে যোগ দেন তিনি। এর ফলে তিনি এলাকায় দুর্ধর্ষ হেলাল নামে পরিচিতি পায়। ২০০০ সালে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় তার বাম হাত প্যারালাইজড হয়ে যায়, যার ফলে তার নাম হয়ে যায় ‘হাত লুলা হেলাল’।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে একটি চুরির মামলায় তিনি জেলে যায়। ২০১১ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। চুরির মামলায় জামিনে বের হওয়ার সময়ই বিদ্যুৎ হত্যা মামলার রায়ে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়। এই রায়ের পর তিনি পালিয়ে যান এবং ফেরারি জীবন শুরু করেন। মূলত ২০১৫ সাল থেকে তার এই ফেরারি জীবন শুরু হয়।

আরো পড়ুন: দোকানি থেকে সিরিয়াল কিলার, পরে হন বাউল মডেল 

তিনি আরো বলেন, প্রথমে হেলাল বগুড়া থেকে ট্রেনে ঢাকায় আসেন। সেখান থেকে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামে পৌঁছে শাহ-আমানত বাজারে কিছু দিন ছিলেন তিনি। এরপর সেখান থেকে যান সিলেটের হজরত শাহজালালের মাজারে। সেখানে বেশ কিছু দিন ছিলেন। তারপর বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে ফেরারি জীবন শুরু হয় তার। শাহজালালের মাজার থেকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ স্টেশনে যান। বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে ঘুরে বাউল গান গাইতেন তিনি। এভাবে গান গেয়ে মানুষজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।

জানা যায়, আনুমানিক ৫ বছর পূর্বে  হেলাল নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনে কিশোর পলাশ ওরফে গামছা পলাশ এর একটি গানের শুটিং চলাকালে রেললাইনের পাশে বাউল গান গাচ্ছিল। তখন শুটিংয়ের  একজন ব্যক্তি তাকে গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিলে বহুল জনপ্রিয় ‘ভাঙ্গা তরী ছেড়া পাল’ শিরোনামের গানের বাউল মডেল হিসেবে তিনি অভিনয় করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএডি

English HighlightsREAD MORE »