ঘরে আছে কাশফুলের গদি, আছে গোপন পথও

ঢাকা, রোববার   ২৩ জানুয়ারি ২০২২,   ৯ মাঘ ১৪২৮,   ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দেশের পাখি

ঘরে আছে কাশফুলের গদি, আছে গোপন পথও

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫০ ১৩ জানুয়ারি ২০২২  

গায়ক পাখি ‘তিলা মুনিয়া’। ছবি : সংগৃহীত

গায়ক পাখি ‘তিলা মুনিয়া’। ছবি : সংগৃহীত

বেশ চঞ্চল তারা। লাফাতে থাকে এ ডাল থেকে ও ডালে। ফসলের ক্ষেত, মাঠ, নল-খাগড়ার বন, বাগান প্রভৃতি স্থানে ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ে বেড়ানোই ছিল এ পাখির স্বাভাবিক স্বভাব। যে পাখির কথা বলছিলাম তার নাম ‘তিলা মুনিয়া’। এর বৈজ্ঞানিক নাম, Lonchura punctulata।

অতিপরিচিত গায়ক পাখি হিসেবে তিলা মুনিয়া (Scally-breasted Munia) এ দেশের শহর-বন্দর-গ্রামে প্রচুর দেখা যেত। তবে এ পাখিটি বর্তমানে এখন আর সচরাচর খুব একটা চোখে পড়ে না।

তিলা মুনিয়া বাদামি রঙের ছোট ছটফটে পাখি। এর দৈর্ঘ্য কমবেশি ১১ দশমিক ৫ সেমি, ডানা ৫ দশমিক ৬ সেমি, ঠোঁট ১ দশমিক ৩ সেমি, পা ১ দশমিক ৫ সেমি, লেজ ৩ দশমিক ৮ সেমি ও ওজন ১৩ দশমিক ৬ গ্রাম। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পুরো পিঠ জলপাই-বাদামি। কোমরে সাদা ডোরা থাকে। লেজ-উপরি ঢাকনি লালচে-কমলা। লেজ খাটো ও সূচালো এবং লালচে-কমলা রঙের। থুতনি কালচে। বুকের উপরের অংশ তামাটে এবং দেহতল সাদা। বগলে ও পেটে কালো আঁশের মতো তিলা থাকে।

গায়ক পাখি ‘তিলা মুনিয়া’। ছবি : সংগৃহীত

এর ত্রিকোণাকার ঠোঁট স্লেট কালো। চোখ কমলা-বাদামি। পা ও পায়ের পাতা স্লেট রঙের। স্ত্রী ও পুরুষ পাখির চেহারা একই রকম। তবে পুরুষ পাখির দেহতল ও থুতনি স্ত্রী পাখির তুলনায় গাঢ়। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ বাদামি, দেহতল লালচে-পীত ও হালকা পীত বর্ণ। ঠোঁট বাদামি ও চোখ বাদামি।

তিলা মুনিয়া ফসলের খেত, মাঠ, নলখাগড়ার বন, বাগান ও ঝোপে ঝাঁকে ঝাঁকে বিচরণ করে। মাঝে মাঝে ১০০ বা তারও বেশি পাখির ঝাঁক দেখা যায়। মাটি, ঘাস বা ধানের মধ্যে এরা খাবার খোঁজে। এদের ঠোঁট খাটো ও বেশ শক্ত। ধান বা অন্যান্য শস্যদানা মুখে রেখেই তা থেকে শক্ত খোসা ছাড়িয়ে নিতে পারে। এছাড়া ঘাসবীচি, রসালো ফল ও কীটপতঙ্গও খায়। অন্যান্য মুনিয়া ও বাবুইয়ের সঙ্গে দল বেঁধে এরা ঝোপ, আখখেত বা ঘাসবনে রাত কাটায়।

গায়ক পাখি ‘তিলা মুনিয়া’। ছবি : সংগৃহীত

সচরাচর শ্রুতিকটু স্বরে ডাকে: কিটি-কিটি-কিটি.....। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এদের প্রজননকাল। খেজুরগাছের পাতার আড়ালে, লতার ঝোপে, বাবলা, ঝাউ, কেয়া, কান্তা, দেবদারু বা অন্যান্য ঝোপাকৃতির গাছে দুই থেকে পাঁচ মিটার উঁচুতে গোলাকৃতির বাসা বোনে। ঘাস-লতা-ধানের পাতা, পালক ইত্যাদি দিয়ে সুন্দর, নরম ও তুলট বাসার ভিত্তি রচনা করে। কাশফুল দিয়ে চারপাশটা মুড়ে নেয়। বাসার ভেতরে থাকে কাশফুলের গদি।

বাসায় ঢোকার জন্য গোপন সরু পথ বানায়, যেন শত্রুরা না দেখে। এছাড়া কার্নিশের নিচে বা খালি কার্টনেও বাসা করে। স্ত্রী মুনিয়া চার থেকে দশটি ধবধবে সাদা ডিম পাড়ে। স্বামী-স্ত্রী মিলে ১৩ থেকে ১৬ দিন তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়।

শহুরে মানুষের কাছে পোষা পাখি হিসেবে পরিচিত মুনিয়া। খাঁচাবন্দী মুনিয়া রাস্তাঘাট ও পেটশপে দেদার বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিক্রেতারা এদের গায়ে নীল, হলুদ, সবুজ বা উজ্জ্বল রং লাগিয়ে দেয়, যা গোসল করালেই উঠে যায়। গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে এদের জাল দিয়ে ধরে টঙ্গী, ঢাকার কাঁটাবন ও অন্যান্য স্থানে বিক্রি করা হয়। এসব কারণে আজ তিলা মুনিয়া পাখি প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »