গোপনে সরকারি বই বিক্রি, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে বইসহ পিকআপ ভ্যান আটক

ঢাকা, শুক্রবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২২,   ১৪ মাঘ ১৪২৮,   ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

গোপনে সরকারি বই বিক্রি, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে বইসহ পিকআপ ভ্যান আটক

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:২২ ১৩ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ০৯:১৪ ১৩ জানুয়ারি ২০২২

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরে ২৫ মণ সরকারি বই বিক্রিকালে একটি মালবাহী পিকআপ ভ্যান আটক করেছে পুলিশ। ৯৯৯ এ সংবাদ পেয়ে রায়পুর উপজেলার মিরগঞ্জ এলাকা থেকে ওই পিকআপ ভ্যানটি আটক করা হয়। স্থানীয় মিরগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামছুত্তাওহীদ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সময়ের পরীক্ষার খাতা ও কার্টনের সাথে গোপনে ওই বইগুলো বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক জানান, গেল ২৮ বছর আগে ১৯৯৪ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে শামছুত্তাওহীদ বিদ্যালয়ের বিদ্যমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ দেখিয়ে বছর বছর দ্বিগুণ বই উত্তোলন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের মাঝে অর্ধেক বই বিতরণ করে বাকি বই গোপনে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। একইভাবে ১২ জানুয়ারি বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বিরতির সময় দেখতে পান বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আবদুল হাদি ২০ বস্তা বই পিকআপ গাড়িতে তুলছেন। এ সময় তার কাছে বই কোথায় নিয়ে যাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান– হেড স্যার জানেন। তিনিও বইয়ের বস্তাগুলো গাড়িতে তুলে দিচ্ছেন। বইগুলো হেড স্যার বিক্রি করে দিয়েছেন। সরকারি বই গোপনে বিক্রি করার সংবাদটি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী এসে পিকআপ ভ্যানটি আটক করে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন ৯৯৯ এ ফোন করলে রায়পুর থানা পুলিশ এসে বইসহ পিকআপ ভ্যানটি আটক করে।

আরো পড়ুন: বিদ্যমান ভাড়াতেই অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলবে লঞ্চ

খবর পেয়ে রায়পুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম সাইফুল হক ও রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের চার্জে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল ইকবাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি আইনসম্মতভাবে সুরাহা করার আশ্বাস দিয়ে উপস্থিত উত্তেজিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকাবাসীকে নিভৃত করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক ঐতিহ্যবাহী মীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের বিপুল টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে। বিদ্যালয়ের জিনিসপত্র যখন যা হাতের কাছে পায় সেটিই তিনি বিক্রি করে টাকা নিজের পকেটে নেন। শিক্ষক-কর্মচারীসহ এলাকাবাসী তার এসব দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে তিনি রাজনৈতিক প্রভাবের ভয় দেখিয়ে থাকেন।

অভিযোগকারীর মতে, আনুমানিক ২৫ মণ বই বিক্রি করে প্রায় ২০ হাজার টাকা হাতিয়েছেন প্রধান শিক্ষিক।

গোপনে বই বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে মীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক শামছুত্তাওহীদ জানান, বই বিক্রির বিষয়ে তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। মৌখিক অনুমতি নিয়ে বই বিক্রি করেছেন তিনি। অন্য অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি চক্র তাকে হয়রানি করছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কি ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে রায়পুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম সাইফুল হককে মুঠো ফোনে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সুরাহা হয়ে গেছে।

আরো পড়ুন: জামিন নিয়ে বাড়ি ফেরার পর যুবককে কুপিয়ে হত্যা

কি ধরণের সুরাহা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষককে সরকারি বই বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক বিনা অনুমতিতে, বিনা নিলামে সরকারি বই বিক্রি করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে একেএম সাইফুল হক উত্তেজিত হয়ে অন্যকাজের ব্যস্ততার অজুহাত দেখান।

এদিকে অবণ্টিত এসব বই বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকারি নিয়মে বই বিক্রি করা নিষিদ্ধ। কোনও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের পর বই অবশিষ্ট থাকলে প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে বইয়ের সংখ্যা জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা যথাযথ মাধ্যমে শিক্ষা অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানাবেন। অবণ্টিত বই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।

অধিদপ্তর বিক্রির অনুমতি দিলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে নিলাম কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি উন্মুক্ত নিলামে প্রতিযোগিতামূলক দরে বই বিক্রি করতে পারবেন। সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। প্রধান শিক্ষক কোনোভাবেই নিজে বই বিক্রি করতে পারবেন না সেটি গোপনে হোক বা প্রকাশ্যে। প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মতিন বলেন, প্রধান শিক্ষকের সরকারি বই বিক্রির অনুমতি নেই। বিষয়টি সম্পর্কে রায়পুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একটু আগে আমাকে জানিয়েছেন। আগামীকাল একজন অফিসার পাঠিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ/এমআর

English HighlightsREAD MORE »