জনশূন্য বকশীগঞ্জের ৪ গ্রাম

ঢাকা, বুধবার   ১৮ মে ২০২২,   ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

জনশূন্য বকশীগঞ্জের ৪ গ্রাম

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ৮ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৬:৫২ ৮ জানুয়ারি ২০২২

পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে পুরুষের পাশাপাশি গ্রাম ছাড়ছে নারী-শিশুরা

পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে পুরুষের পাশাপাশি গ্রাম ছাড়ছে নারী-শিশুরা

জামালপুরের বকশীগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা ও ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গাড়ি ভাংচুর ও পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ১ হাজার ৬৯২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে মেরুরচর, ফকিরপাড়া, বাঘাডুবা ও ভাটি কলকীহারা গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি নারী-শিশুরাও পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

জানা গেছে, ঐ উপজেলার ৪টি গ্রামের ১৫টি মসজিদে আজান-নামাজ বন্ধ রয়েছে। শুক্রবারের জুম্মার নামাজের সময়ও মসজিদগুলো ছিল ফাঁকা। গত ২৪ ঘণ্টায় অসুস্থতাজনিত কারণে মেরুরচর গ্রামে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের দাফন-কাফনেও কেউ শরীক হওয়ার সাহস পায়নি। ফলে বকশীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার ও মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগরের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় লাশ দাফন করা হয়েছে।

পুলিশের ওপর হামলা ও ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গাড়ি ভাংচুর ও পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গত ৬ জানুয়ারি বকশীগঞ্জ থানার এসআই আবু শরিফ মামলা করেন।

এসআই আবু শরীফ মামলায় উল্লেখ করেছেন, ৫ জানুয়ারি বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের মেরুরচর হাসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চলছিল। এক পর্যায়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ার হোসেন হকের নেতৃত্বে একদল লোক দায়িত্বরত পুলিশের ওপর হামলা ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। ঐ সময় হামলাকারীরা পুলিশের ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নিয়ে একটি পিকআপ পুড়িয়ে দেয়।

হামলায় বকশীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহিম, মামলার বাদী এসআই আবু শরীফ, এসআই রাজু আহমেদ, এএসআই মজনু মিয়া, আশরাফুল মৃধা, কনস্টেবল আতোয়ার রহমান, রঞ্জু শেখ, আব্দুল মজিদ, আব্দুল আলীম, শাহজাহান, শাহিন, সুজন মিয়া, আলাল উদ্দিন, রবিউল, আবু তাহের, রিফাত হোসেন, নায়েক মাজেদুল ইসলাম, আনসার পিসি সুমন মিয়া ও এপিসি আল মাহমুদসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর ১৯ সদস্য গুরুত্বর আহত হন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৬০ রাউন্ড গুলি ও ৩২ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

এছাড়া স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ার হোসেন হককে হুকুমের আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়েছে। ঐ মামলায় ৭ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ৭ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুস সালাম।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর

English HighlightsREAD MORE »