স্ত্রীকে দিয়ে প্রেম, টর্চার সেলে এনেই পরপুরুষের সঙ্গে তুলতেন অশ্লীল ছবি

ঢাকা, বুধবার   ১৮ মে ২০২২,   ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

স্ত্রীকে দিয়ে প্রেম, টর্চার সেলে এনেই পরপুরুষের সঙ্গে তুলতেন অশ্লীল ছবি

রংপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৮ ৩ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২০:৩৯ ৩ জানুয়ারি ২০২২

টর্চার সেল থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার (ইনসেটে অনিক-আসমানী দম্পতি)

টর্চার সেল থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার (ইনসেটে অনিক-আসমানী দম্পতি)

মোটামুটি টাকাওয়ালাদের করতেন টার্গেট। তবে মূল টার্গেট ধনাঢ্যরা। এরপর টার্গেট করা লোকের সঙ্গে পরিচয়। ধীরে ধীরে গড়ে তোলে বন্ধুত্ব-প্রেম। একপর্যায়ে বাসায় নিমন্ত্রণ। বন্ধুত্ব বা প্রেম ভেবে অনেকেই দিয়েছেন সাড়া। তবে খালি হাতে ফিরতে পারেননি। খুইয়েছেন লাখ লাখ টাকা। আবার কেউ ভুগেছেন টর্চার সেলের নির্মম নির্যাতন।

ভদ্রতার লেবাসে প্রেম-প্রতারণার এমন অভিনব ফাঁদ পেতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছেন রংপুর নগরের এক যুব দম্পতি। সম্প্রতি একটি মামলার ছায়া তদন্ত করতে গিয়ে এ দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতার দম্পতি হলেন- ৩৪ বছর বয়সী শাহারুখ করিম অনিক ও তার স্ত্রী ২৪ বছরের আসমানী আক্তার। তারা রংপুর নগরের গ্র্যান্ড হোটেল মোড় সেনপাড়া রোড এলাকায় থাকতেন।

সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করে র‍্যাব-১৩-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদ বশির আহমেদ জানান, নগরের বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে পরিচিত হয়ে কৌশলে নিজেদের আস্তানায় নিয়ে যেত ওই দম্পতিসহ তাদের একটি চক্র। এরপর সেখানে অশ্লীল ছবি তুলে জিম্মি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করতো। এছাড়া হত্যার ভয় দেখিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করাসহ বিভিন্ন কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

গতকাল রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরের গ্র্যান্ড হোটেল মোড় এলাকায় অভিযান চালায় র‍্যাব। এ সময় নিজ বাসা থেকে শাহারুখ করিম অনিক ও তার স্ত্রী আসমানী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

মাহমুদ বশির আরো জানান, অভিযানের সময় ওই বাসার ষষ্ঠ তলায় একটি টর্চার সেলের সন্ধান মেলে। সেখানে প্রতারণার ফাঁদে পড়া ব্যক্তিদের জিম্মি করে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন অনিক-আসমানী দম্পতি। ওই টর্চার সেল থেকে দুটি চাপাতি, ইলেকট্রিক তার, মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি, হাতুড়ি, ছুরি, স্ট্যাম্প, ভিডিও ধারণের দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই দম্পতি বিভিন্ন ব্যক্তিদের জিম্মি করে টাকা আদায় ও নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার জন্য র‍্যাবের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

English HighlightsREAD MORE »