ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের বর্ণনা দিলেন বেঁচে ফেরা যাত্রীরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১৪ আশ্বিন ১৪২৯,   ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের বর্ণনা দিলেন বেঁচে ফেরা যাত্রীরা

হাফিজুর রহমান,বরগুনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৬ ২৪ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ২০:৩৫ ২৪ ডিসেম্বর ২০২১

আগুনে পুড়ে যাওয়া লঞ্চের ভেতরের অংশ (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

আগুনে পুড়ে যাওয়া লঞ্চের ভেতরের অংশ (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কবলিত এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী নেয়া  হয়েছিল। এছাড়া লঞ্চটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না বলে অভিযোগ করেছে বেঁচে ফিরে আসা যাত্রীরা। 

তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে জানানো হয়েছে, ৩১০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে বরগুনা যাচ্ছিল লঞ্চটি। যাত্রীরা বলছেন, প্রায় এক হাজারের মতো মানুষ ছিল লঞ্চে।  লঞ্চটি ৯০০ যাত্রী বহনে সক্ষম।

প্রাণে বেঁচে ফেরা সাদিক জানান, লঞ্চটি ঢাকা থেকে ছাড়ার পরপরই ডেকের ফ্লোর গরম হতে থাকে। তখন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি যাত্রীরা জানালেও তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিবৃত করতে কম্বল বিছিয়ে দিয়েছিল ফ্লোরে। এরপর ক্রমান্বয়ে গরম হতে থাকলেও শীতের তীব্রতায় তা টের পাননি যাত্রীরা। শুরুতেই যখন ফ্লোর গরম হচ্ছিল, তখন ব্যবস্থা নিলে হয়তো এত প্রাণহানি দেখতে হতো না বলে দাবি করেন এ যাত্রী।

আরেক যাত্রী মোশারফ বলেন, আমি ঢাকা থেকে বরগুনা যাচ্ছিলাম। লঞ্চে দেরিতে আসায় কেবিন না পেয়ে নিচতলার ডেকে অবস্থান নিয়েছিলাম। ফ্লোর যখন গরম হতে শুরু করে, তখন সরে লঞ্চের সম্মুখভাগে যাই। এরপর মাঝখানে একবার ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ মানুষের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায়। আগুন লাগার কথা শোনার পরই লাফিয়ে নদীতে পড়ে তীরে উঠি। এরপর স্থানীয়দের মাধ্যমে স্বজনদের খবর দিলে তারা গিয়ে আমাকে নিয়ে আসে।

সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় ৩১০ যাত্রীর বহনের ঘোষণা দেয় অভিযান-১০। তবে এর ২/৩ গুণ বেশি যাত্রী ছিল লঞ্চটিতে, দাবি উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের। কর্তৃপক্ষের দাবি, লঞ্চটির ধারণ ক্ষমতা ৯০০ জন।

নৌপথে দক্ষিণাঞ্চলের ঢাকা-বরগুনা রুটের যাত্রী পরিবহনে বছর দুয়েক আগে চালু হয় বিলাসবহুল এমভি অভিযান-১০ লঞ্চ। বরিশালসহ, বরগুনার, বেতাগী, কাঁকচিড়া ঘাটে যাত্রী বহন করতো নৌযানটি। মাত্র ১৫ দিন আগে মেরামত কাজ হয় এটির। এরপর চারটি ট্রিপ সম্পন্ন করে।

অভিযান-১০ লঞ্চের বেশিরভাগ যাত্রী বরগুনা জেলা ও এর আশপাশের এলাকার। তাই আগুনের ঘটনায় হতাহতের বেশিরভাগই বরগুনা জেলার, বলছেন স্বজনেরা।

এ বিষয়ে জানতে লঞ্চ মালিক হাম জালালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, লঞ্চটি এর আগেও একবার চরে উঠিয়ে দিয়েছিল। আমার মনে হয়, লঞ্চ কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এত প্রাণ একসঙ্গে গেলো।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএডি

English HighlightsREAD MORE »