মায়ের পরকীয়া প্রেমের বলি শিশু শিহাব

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২২,   ৫ মাঘ ১৪২৮,   ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মায়ের পরকীয়া প্রেমের বলি শিশু শিহাব

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৮ ৫ ডিসেম্বর ২০২১  

শিশু শিহাব। ফাইল ছবি

শিশু শিহাব। ফাইল ছবি

মায়ের পরকীয়ার বলি আট বছরের শিশু শিহাব হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ধার করেছে ঝিনাইদহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

প্রায় ৬ বছর পর পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সিআইডির হাত ঘুরে ঝিনাইদহ পিবিআই মামলাটির রহস্যের জট খুলতে সক্ষম হলো। সেই সঙ্গে আসামিদের গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি ও সুনিদ্দিষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ সন্নিবেশিত করা হয়েছে। 

রোববার দুপুরে ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক সরদার বাবর আলী ও পরিদর্শক মো. আমির আব্বাস উপস্থিত ছিলেন। 

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের প্রবাসী তোয়াজ উদ্দীনের শিশু সন্তান শিহাব নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর ৩০ অক্টোবর শিহাবের লাশ পাওয়া যায় পার্শ্ববর্তী শিবপুর গ্রামের ওসমান আলীর জমিতে। এ ঘটনায় নিহতর মা বিলকিস খাতুন পরকীয়া প্রেমিক জমির উদ্দীন পিন্টুর ইন্ধনে ৬ জনকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করে চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। 

সর্বশেষ পুলিশ হেড কোয়াটারের নির্দেশে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করে হত্যার প্রধান আসামি লাল্টুকে বাদ দিয়ে আদালতে নিহতের চাচাতো ভগ্নিপতি ঘাতক পিন্টুকে আসামি করে ক্রটিপুর্ণ ও দায়সারা চার্জসিট প্রদান করে।

পরকীয়া প্রেমিকাকে রক্ষা করতে এই চার্জসিটের বিরুদ্ধে বাদী আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন বিলকিস খাতুন। আর এতেই কপাল পোড়ে পিন্টুসহ অন্যান্য আসামিদের। চুয়াডাঙ্গার একটি আদালত মামলাটি নতুন ভাবে তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ আদালত ঝিনাইদহ পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের এসআই তহিদুল ইসলাম মামলাটির তদন্তভার নিয়ে হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ধারের পর প্রধান আসামি ও তার সহায়তাকারীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। দায় স্বীকার করে আসামি লাল্টু ও নয়ন আদালতে তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জানা গেছে, ঘটনার দিন শিহাব বাড়ির পাশে ইমরানের দোকানে মিষ্টি কিনতে যায়। ফেরার পথে কিশোর আসামি নয়ন শিহাবকে তার চাচাতো ভগ্নিপতি জমির উদ্দীন পিন্টুর কাছে নিয়ে যায়। সাবেক চরমপন্থি ক্যাডার পিন্টু নয়নকে ৫০০ টাকা দিয়ে শিহাবের বিষয়ে কাউকে কিছু না জানাতে শাসিয়ে দেয়। পিন্টুর ঘরে শিহাবকে আটকে রেখে চক্রটি গ্রামে নিখোঁজ মাইকিং করে। 

কুতুবপুর গ্রামের শ্রী অসিত কুমারের ভ্যান যোগে কলম ও শাহাবুদ্দীন এই প্রচার কাজে অংশ নেয়। পরিকল্পনা মাফিক রাতে আসামি লাল্টু শিশু শিহাবের মালয়েশিয়া প্রবাসী বাবা তোয়াজ উদ্দীনের কাছে মুক্তপণ দাবি করার পরিকল্পনা নেয়। এ সব দেখে শিশু শিহাব কান্নাকাটি শুরু করলে লাল্টু শিহাবের কানে জোরে থাপ্পড় মারে। এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে শিহাব। চাচাতো ভগ্নিপতি পিন্টুর ঘরের মধ্যে শিশু শিহাবকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর অসিতের ভ্যানে করে লাশ শিবপুর গ্রামের মাঠে ফেলে আসে। লাশ টানার কাজে ব্যবহৃত ভ্যানটিও পিবিআই উদ্ধার করেছে।

ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের এসআই তহিদুল ইসলাম জানান, মূলত মায়ের সঙ্গে পিন্টুর অনৈতিক কাজ দেখে ফেলা ও পরবর্তীতে শিশু শিহাবের প্রবাসী বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করার জন্যই অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটনায়। এই মামলার মূল আসামি লাল্টুকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জসিট দেয়া হয়েছিল। পিবিআইয়ের তদন্তে এজাহারের বাইরে আরো তিনজন আসামির সন্ধান মেলে।

এসআই তহিদুল জানান, মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর প্রধান আসামি শিবপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে লাল্টুকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমোশপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক কুতুবপুর গ্রাম থেকে জিয়ারত আলীর ছেলে জমির উদ্দীন পিন্টু ও ১৩ জুন মথুর দাসের ছেলে অসিত দাসকে গ্রেফতার করা হয়। প্রায় ৬ বছর পর শিশু শিহাব হত্যার প্রকৃত ঘাতকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারায় ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের আরেকটি সাফল্য বলে তিনি দাবি করেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »