চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু, শাস্তি চাওয়ায় হুমকি-হয়রানি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২২,   ৫ মাঘ ১৪২৮,   ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু, শাস্তি চাওয়ায় হুমকি-হয়রানি

পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৭ ৩০ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৯:২১ ৩০ নভেম্বর ২০২১

কাঠালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, নরসিংদী

কাঠালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, নরসিংদী

নরসিংদীতে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকেলে মাধবদী থানাধীন কাঠালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তি চাওয়ায় উল্টো হুমকি-হয়রানির শিকার হতে হয়েছে ভুক্তভোগীদের। 

ভুক্তভোগী প্রসূতি কুলসুম বেগম কাঠালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

তিনি অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার রাতে আমার প্রসব ব্যথা শুরু হয়। রাতেই চিকিৎসক ফৌজিয়ার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করি। তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেন এবং রিপোর্ট নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। তার কথা মতো পরীক্ষা করিয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিপোর্ট নিয়ে দেখা করি। তখন তিনি আমাকে দেখে সব ঠিক আছে বলে দুটি ইনজেকশন দেন এবং স্যালাইন লাগিয়ে দিয়ে বিশ্রামে থাকতে বলেন।

কুলসুম বেগম বলেন, দুপুরের পর কোনো ধরনের পরিবর্তন না হলে ডা. ফৌজিয়া এবং তার সহকর্মীরা আমার পেটে চাপ প্রয়োগ করেন। তাদের চাপ সহ্য করতে না পেরে আমি চিৎকার শুরু করি এবং নরমাল ডেলিভারি না করিয়ে সিজার করানোর কথা জানাই। কিন্তু তারা আমার কথা না শুনে পেটে চাপ দিতে করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আমি জীবন বাঁচাতে জোরপূর্বক সেখান থেকে বেরিয়ে অটোরিকশায় উঠে পড়লে তারা আবার আমাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর পেটে চাপ দিয়ে মৃত বাচ্চা প্রসব করান।

কুলসুমের বৃদ্ধা মা বলেন, ডা. ফৌজিয়া আমার মেয়ের সঙ্গে কসাইয়ের মতো ব্যবহার করেছেন। তার কারণেই আমার মেয়ের অনাগত সন্তান মারা গেছে। আমরা ডা. ফৌজিয়া ও তার সহকর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

আরেক ভুক্তভোগী জয়দেব ভৌমিক বলেন, কয়েকদিন আগে একইভাবে আমার সন্তানকেও মেরে ফেলেছেন কাঠালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডা. ফৌজিয়া। সেই থেকে আমার স্ত্রী অসুস্থ। সে এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি। আমি ডা. ফৌজিয়ার বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো হুমকি-হয়রানির শিকার হয়েছি।

নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ডা. ফৌজিয়া প্রসূতিদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ওষুধ লিখে দেন এবং তার পছন্দের লোক মিজানের ফার্মেসি থেকে সেই ঔষধ চড়া দামে কিনতে বাধ্য করেন। অন্য কোনো ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনলে তিনি ডেলিভারি করান না। এছাড়া রোগীদের জন্য আনা অতিরিক্ত ওষুধ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সরকারি ওষুধ ডা. ফৌজিয়া গোপনে মিজানের কাছে বিক্রি করে দেন।

এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাঠালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডা. ফৌজিয়া।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/জেএইচ

English HighlightsREAD MORE »