থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে জামাইয়ের ঘরে আগুন, পুড়ল ৪০ কবুতর

ঢাকা, সোমবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২২,   ১০ মাঘ ১৪২৮,   ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে জামাইয়ের ঘরে আগুন, পুড়ল ৪০ কবুতর

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৩ ২৭ নভেম্বর ২০২১  

আগুনে জামাইয়ের ঘর পুড়ে গেছে

আগুনে জামাইয়ের ঘর পুড়ে গেছে

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে রাতের আঁধারে মেয়ের জামাইয়ের ঘরে আগুন দিয়েছেন শ্বশুর বাসু মাঝি। এতে পুরো ঘর পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে পুড়েছে ৪০টি কবুতর।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরকলাকোপা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলাকোপা গ্রামে। ভুক্তভোগী মো. মমিন একই গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে। বাবা-ছেলে ফেনীর দাগনভূঞায় রিকশা চালান।

এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় জীবনের নিরাপত্তা ও ঘর পোড়ানোর বিচার চেয়ে গণমাধ্যমের কাছে জানান আবদুল মতিন। পুড়ে যাওয়া ঘরটি ছাড়া মতিনের থাকার আর কোনো ব্যবস্থা নেই। এতে পরিবার নিয়ে তিনি দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন। এছাড়া অভিযুক্তদের হুমকিতে তিনি পরিবার নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের কাছে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, স্ত্রী শিল্পী বেগমের সঙ্গে মমিনের কলহ রয়েছে। এ নিয়ে স্ত্রীকে থাপ্পড় দেন মমিন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ১৭ নভেম্বর বাড়িতে এসে মমিনকে পিটিয়ে আহত করেন শিল্পীসহ তার বাবা বাসু মাঝি, মা হোসনেয়ারা বেগম, আত্মীয় শাহিনুর আক্তার, আবদুর রহিম ও জসিম উদ্দিন। মমিন চিকিৎসা না নিয়েই ঘটনার দিন দাগনভূঞায় চলে যান। সেখানে সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। পরদিন আবদুল মতিন বাড়িতে এসে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর তিনি দাগনভূঞায় চলে যান।

মামলার বিষয়টি জানতে পেরে ২৪ নভেম্বর বাসু মাঝিসহ অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে আবদুল মতিনের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন। এতে তিন কক্ষের টিনের ঘরটি পুড়ে যায়। ছাই হয়ে যায় ঘরের আসবাবপত্র। পুড়ে যায় ঘরের বাইরে চালার সঙ্গে ঝুলানো কাঠের খাঁচায় থাকা ৪০টি কবুতরও। তবে ঘরে কেউ না থাকায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে বাড়িতে এসে রামগতি থানায় বসু মাঝিসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত আবেদন করেন মতিন।

আবদুল মতিনের স্ত্রী আক্তারা বেগম বলেন, বাসু মাঝির লোকজন আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এতে ভয়ে ওই রাতে আমি ঘরে ঘুমাইনি। প্রতিবেশীদের ঘরে ঘুমিয়েছি। হঠাৎ ভাঙচুরের শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণ পরই দাউ দাউ করতে আগুন জ্বলতে শুরু করে। পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করার আগেই সব পুড়ে যায়।

মতিনের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান সুজন বলেন, মমিনকে মারধরের ঘটনার অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য জেলা ডিবি পুলিশের ওসিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রামগতি থানার এসআই মনির হোসেন বলেন, আগুনের ঘটনায় লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাইনি। ঘটনাটি তদন্ত চলছে। প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। মারধরের অভিযোগটিও তদন্তাধীন রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

English HighlightsREAD MORE »