মশা আতঙ্কে লক্ষ্মীপুরবাসী

ঢাকা, বুধবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৮,   ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

মশা আতঙ্কে লক্ষ্মীপুরবাসী

শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩০ ২৫ নভেম্বর ২০২১  

মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ লক্ষ্মীপুরবাসী।  ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ লক্ষ্মীপুরবাসী।  ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বেশ কিছুদিন করোনা আতঙ্কে থাকলেও সেই আতঙ্ক মানুষের মাঝে আর কাজ করছেনা। বর্তমানে আতঙ্কের নাম মশা। এই মশা যেন পরিবারের একজন সদস্য।

বাসায় হাট বসতে, ঘুমাইতে কিংবা আহার গ্রহণের সময় চুমুক দিবেই। এ যেন তারা খুবই আত্বীয় আর পরিবারের একজস সদস্য। দিন কিংবা রাত, মশার কামড়ে নাজেহাল মানুষ। কেড়ে নিয়েছে মানুষের স্বস্তি। এডিস মশার আতঙ্কও কাজ মানুষের মনে। মশার এমন অত্যাচারে অতিষ্ঠ লক্ষ্মীপুরবাসী। 

জেলা শহরে বর্ষা মৌসুমের আগেই বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব। নালা-নর্দমা পরিষ্কার না করাসহ মশা নিধন কার্যক্রম যথেষ্ট নয়- অভিযোগ পৌরবাসীর। 

তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন, নানা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। মশার হাত থেকে রক্ষা পেতে দিনে কয়েল জ্বালিয়ে লক্ষ্মীপুর শহরের গৃহিণীরা এভাবেই সেরে নিচ্ছেন তাদের নিত্যদিনের কাজ। স্কুলের শিক্ষার্থীরাও নেই স্বস্তিতে। পড়ার টেবিলের নিচে সারাক্ষণ কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে তাদের। শিশুদের রাখতে হচ্ছে মশারির ভেতর। 

দিন কিংবা রাত, মশার কামড়ে নাজেহাল মানুষ। কেড়ে নিয়েছে মানুষের স্বস্তি। এডিস মশার আতঙ্কও কাজ মানুষের মনে। মশার এমন অত্যাচারে অতিষ্ঠ লক্ষ্মীপুরবাসী। 

পৌর এলাকার বাসাবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালতসহ সর্বত্রই প্রচণ্ড মশার উপদ্রব। কয়েল জ্বালিয়ে, ওষুধ ছিটিয়ে, মশারি টাঙিয়ে এ উপদ্রব থেকে নিস্তার পাওয়ার চেষ্টা করছেন পৌরবাসী। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। দিনেও বাচ্চাদের মশারি টাঙিয়ে ঘুম পাড়াতে হয়। কিন্তু মশার উপদ্রবের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের কোনো খেয়াল নেই। এই কারণে ক্ষুব্ধ মনোভাব প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী। 

শুধু তাই নয় কিছুদিন ধরে এ এলাকায় মশার উপদ্রব এত বেড়েছে যে, বাসায় থাকাই দুষ্কর। রুমের ভেতর কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। এলাকায় বিভিন্ন সড়কে ময়লা পানি জমে আছে। সেসব ময়লা পানিতে মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে। সড়কের পাশে নালা, ড্রেন ও ময়লার স্তূপ। বাড়ির আঙ্গিনাসহ বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়াসহ নানা রোগের ভঙ্কর সব মশা। 

জানা যায়, মশা নিধনে দু’ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। সকালে লার্ভিসাইড নামক ওষুধ ছিটানো হয় আর বিকেলে এডালার্ভিসাইড নামক ওষুধ যা ধোঁয়ার সঙ্গে দেয়া হয়। তবে বাস্তবে এসব ওষুধ ঠিকমতো ছিটানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ অভিযোগ মানতে নারাজ। 

দিন কিংবা রাত, মশার কামড়ে নাজেহাল মানুষ। কেড়ে নিয়েছে মানুষের স্বস্তি। এডিস মশার আতঙ্কও কাজ মানুষের মনে। মশার এমন অত্যাচারে অতিষ্ঠ লক্ষ্মীপুরবাসী। 

তারা বলছেন, প্রতিদিন এলাকাগুলোতে মশা নিধনের ওষুধ দেয়া হচ্ছে। যে ওষুধ দেয় তাতে তো মশা মরে না, খালি ধোঁয়া হয়। এভাবে না করে মশা মারার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ আমরা ঘরেও বসতে পারি না। বাচ্চারা পড়তে পারে না। সন্ধ্যা হলেই মশারির মধ্যে ঢুকতে হয়। তারপরও তো আতঙ্ক থাকে। 

মশা নিধনে করা স্প্রের ওষুধ কাজে আসছে না দাবি করে তারা বলেন, আমরা দেখি বিকেলে বা সন্ধ্যায় স্প্রে করছে, কিন্তু মশার তো কিছুই হয় না। তা নাহলে রাত হতেই মশার উপদ্রব শুরু হবে কেন? 

আমরা বলতে চাই, মশা নিধনে যে স্প্রে (ওষুধ) ব্যবহার করা হয় তা কার্যকর কি-না আগে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করে ছিটাতে হবে। এছাড়া নগরীতে মশার বৃদ্ধি যাতে না হয় এজন্য কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন। 

পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজু আহম্মেদ বলেন, তিন মাস ধরে মশার কামড়ে অস্থির। গত কয়েক মাসে সেই উপদ্রব বেড়েছে কয়েক গুণ। নিয়মিত ওষুধ না দেওয়া এবং ড্রেন বা নালা পরিষ্কার না করার কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে। লক্ষ্মীপুর পৌরসভা মশক নিধন কার্যক্রম চালালেও মশার দাপট থেকে মুক্তি মিলছে না মানুষের। চিকিৎসকরা অবশ্য এ জন্য নাগরিকদের আশ-পাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। 

পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খালেদা আক্তার মিতু বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। লক্ষ্মীপুর শহরে দিন দিন মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

তিনি বলেন, আগের তুলনায় মশার উৎপাত বাড়ছে। কিছু মশা ছোট আকারের এবং কিছু মশা বড়। এসব মশার কামড়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। আর বাচ্চাদের জন্য এ মশা এক ভয়ঙ্কর প্রাণী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলে তারা এখানে ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া দেয়। এটা দিলে কিছুক্ষণ মশার হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায়। পরে আবার মশার উপদ্রব আগের মতোই দেখা দেয়। 

পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাবু বলেন, লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানের ডোবায়, ড্রেন কিংবা পুকুরে ময়লার স্তুপ পড়ে আছে। যার ফলে এসব ডোবায়, ড্রেনে মশার জন্ম হয়। এসব ময়ল নিঃস্কাশন করে পরিষ্কার রাখলে হয়তো মশার জন্ম হতোনা মশার উপদ্রবও বাড়ত না। দ্রুত এসব স্থান থেকে ময়লা পরিস্কার করার দাবি  জানান তিনি। 

মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আবুল খায়ের স্বপন বলেন, মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মশা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ প্রকৃতির বৈরিতা। তারা বলছেন, সারা বছরই কম বেশি মশার উপদ্রব থাকে। তবে মশা নিধনে পৌরসভা যতেষ্ঠ কাজ করেছে। যেহেতু এখন সামনে নির্বাচন নির্বাচনী পরবর্তীতে অবশ্যই মশা নিধনে আরো ভূমিক রাখবে পৌরসভা। এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। 

পৌর মেয়র আবু তাহের বলেন, মশা নিধনে টানা দুই মাস ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় মশা নিধনে স্প্রে করা হয়েছে। জীবানুনাশক ওষুধ দিয়ে প্রতিটি নর্দমা ময়লা ট্রেনে মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও ময়লা পরিষ্কার করা হয়নি বিধায় সেখানে হয়তো কিছু মশার উপদ্রব বাড়তে পারে। আমরা সেখানেও মশা নিধনের ব্যবস্থা করেছি। আশা করছি, লক্ষ্মীপুর পৌরসভা মশা উপদ্রব থাকবে না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে