কলেজছাত্রীর চিরকুটে যা লেখা ছিল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ জানুয়ারি ২০২২,   ৭ মাঘ ১৪২৮,   ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কলেজছাত্রীর চিরকুটে যা লেখা ছিল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৫ ৭ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ২০:০৬ ৭ নভেম্বর ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে হাদিসা আক্তার পপি নামে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। তবে তিনি লিখে গেছেন একটি চিরকুট। সেখানে উঠে এসেছে, এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর প্রতারণার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন ওই তরুণী। 

তরুণী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে টাকার পরিমাপে মীমাংসার চেষ্টা করে। এতে ক্ষোভে রোববার সকাল ১০ টার দিকে নিজ বাড়ির টয়লেটে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই তরুণী। 

নিহত পপি ময়মনসিংহ নগরীর মুমিনুন্নেসা সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউপির মরিচারচর নামাপাড়া গ্রামের তহুর উদ্দিনের মেয়ে। তার সঙ্গে প্রতিবেশী চাচা সম্পর্কের মোনায়েম মিয়া নামে এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মোনায়েম একই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আমীর আলীর ছেলে।

মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া একটি চিরকুট পেয়েছে পুলিশ। তাতে লেখা রয়েছে- ‘মোনায়েম তুমিই ভালো থেকো। সরল মনে তোমাকে ভালোবাসছিলাম। কিন্তু তুমি আমার ভালোবাসাটা বুঝলে না। আমি আমার এই কলঙ্কিত মুখ নিয়ে আর বেঁচে থাকতে চাই না। তোমাকে সরল মনে ভালোবেসে কি অপরাধ করছিলাম আমি জানি না। তুমি ভালো থেকো। আমি তো তোমার কাছে আগে যায়নি, তুমিই তো আমাকে আগেই ভালবাসছো। আমি বুঝতে পারিনি তোমার অভিনয়। সুখে থেকো। সারাটা জীবন অনেক ভালো থেকো, এটাই চাই’।

চিঠিতে আরও লেখা হয়- ‘আমি বুঝতে পারিনি, তুমি আমার সঙ্গে কেনো এমন করলা। কি ক্ষতি করেছিলাম তোমার এমন জানি না। আমি জীবন দিয়ে তোমাকে ভালোবাসছিলাম। দেহ দিয়ে নয়। তুমি শুধু আমার দেহটাই বেছে নিয়েছিলে। আমি তো তোমায় সরল মনে ভালোবেসেছিলাম।’

তরুণীর স্বজনরা জানান, গত কয়েকদিন আগে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হয়। মেয়েটি বিয়ের দাবি জানায়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ভাবে সালিশও বসে। এতে ৫ লাখ টাকা বিষয়টি মীমাংসার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয় মেয়েটির পরিবারকে। কিন্তু মেয়েটি তাতে রাজী হয়নি। ওই অবস্থায় রোববার আত্মহত্যা করেন। 

ঘটনার পর থেকে মোনায়েমের পরিবারের লোকজন পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তরুণীর বাবা তহুর উদ্দিন বলেন, আমি আমার মেয়েকে হারিয়েছি। আমার মেয়ের সঙ্গে যে এমন কাজ করলো তার কঠিন শাস্তি চাই। 

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. আবদুল কাদের মিয়া বলেন, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করতে রাজী না হওয়ায় ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »