পিতলের বারকে সোনার বার দেখিয়ে অভিনব প্রতারণার ফাঁদ

ঢাকা, সোমবার   ২৯ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৮,   ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

পিতলের বারকে সোনার বার দেখিয়ে অভিনব প্রতারণার ফাঁদ

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৭ ২৭ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ২১:৫৬ ২৭ অক্টোবর ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সিএনজি চালিত অটোরিকশায় আগে থেকেই বসে থাকেন দুজন। তার মধ্যে একজন ডাকতে থাকেন ‘আসেন আসেন, এখনই ছেড়ে দেবে’। 

অন্য একজন চিরকুটে মোড়ানো একটি চকচকে পিতলের বার রাস্তায় ফেলে রাখেন। পথচারীর ভূমিকায় থাকা আরেক যুবক চিরকুট তুলে নিয়ে পড়ে শোনান অটোরিকশায় বসে থাকা যাত্রীকে। 

অভিনব এমন কৌশলে মানুষকে প্রলুব্ধ করে নকল সোনা দেখিয়ে আসল সোনা ও টাকাকড়ি হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। গত প্রায় এক সপ্তাহে ময়মনসিংহের নান্দাইলের বিভিন্ন এলাকায় ১০ জন নারীর কাছ থেকে এমন অভিনব কৌশলে পিতলের বারকে সোনার বার দেখিয়ে নিঃস্ব করা হয়েছে। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই ঘটনা চেপে গেলেও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই খোয়া যাওয়া স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা উদ্ধারে ছোটাছুটি করছেন। 

জানা যায়, নান্দাইল পৌরসভার একটি মহল্লার এক নারী উপজেলার মুশল্লী এলাকায় বেড়াতে যান। অটোরিকশায় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তিনি কাগজে মোড়ানো সোনার বারটি ও চিরকুটের লেখাটি পড়েন। সেখানে লেখা ছিল- ‘শ্রী রিপন বাবু স্বর্ণকার। পত্রে আমার প্রণাম নিবেন। সৌদি আরব থেকে এক নম্বর চার ভরি স্বর্ণ পাঠালাম। আমার ছোট বোনের বিয়ের জন্য চেইন লকেট ও মালা তৈরি করে পৌঁছে দিবেন’। 

প্রথমে যাত্রীবেশী প্রতারকরা চিরকুট পড়ে নকল স্বর্ণের টুকরাটি কিনতে নারীকে প্রলুব্ধ করেন। কিন্তু এতো টাকা তো তার কাছে নেই। একপর্যায়ে ওই নারীর পরনে যতটুকু স্বর্ণ রয়েছে এবং যা টাকা-পয়সা আছে তা দিয়ে সোনার বারটি বিক্রি হবে বলে প্রস্তাব দেয়া হয়। লোভে পড়ে তিনি নিজের শরীর থেকে সোনার চেইন, হাতের বালা, কানের দুল ও নগদ ৬৭০ টাকা দিয়ে কাউকে কিছু না বলে বারটি নিয়ে সোজা বাড়িতে চলে যান। 

পরে চন্ডীপাশা এলাকার মা মনসা জুয়েলার্সে গিয়ে বার দেখালেই দোকানের মালিক জানান, এটা সোনা নয়, পিতল। এভাবে ওই নারী প্রতারণার ঘটনা বুঝতে পারেন। কিন্তু এরই মধ্যে সর্বস্ব চলে গেছে। 

একই ঘটনার শিকার হয়েছেন নান্দাইল পৌরসভার চন্ডীপাশা মহল্লার সবিতা রানী, জাহাঙ্গীরপুর এলাকার আসমা বেগম, নান্দাইলের চামারুল্লাহ পাড়া গ্রামের এক নারী, সিংরুইল ভাটিপাড়া গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের স্ত্রী মমতাজ বেগম, বেতাগৈর ইউনিয়নের রাজিয়া ও আয়েশা বেগম, রসুলপুর গ্রামের একজন, বনাটি গ্রামের দুই কলেজ ছাত্রী এবং শেরপুর ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের রেজিয়া বেগম।  

জানা যায়, ওই চক্রটি সচরাচর নারীদের টার্গেট করে। বিশেষ করে অটোরিকশায় চলাচল করা যাত্রীরাই এদের খপ্পরে পড়েন। সোনার বার দেখানোর পাশপাশি বিশ্বাস স্থাপনের জন্য চিরকুট পড়িয়ে শোনানোর পর যাত্রীরা লোভে পড়ে মূল্যবান বারের জন্য নগদ টাকা ছাড়াও গায়ে থাকা স্বর্ণালঙ্কার নির্দ্বিধায় দিয়ে দেন।

নান্দাইল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, এ সমস্যা নিয়ে একজন নারী এসেছিলেন থানায়। আমি তাকে অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দিয়েছি। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই তদন্তে নামবে পুলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে