বিয়েতে রাজি না হওয়ায় নৃশংসভাবে হত্যা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৮,   ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় নৃশংসভাবে হত্যা

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৬ ২৬ অক্টোবর ২০২১  

আটক শামীম

আটক শামীম

যশোরের অভয়নগরে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় এক নারী শ্রমিককে রড দিয়ে পিটিয়ে ও এসিডে ঝলসে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শামীম হোসেন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে উপজেলার তালতলা এলাকায় যশোর-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন এসএএফ ইন্ডাস্ট্রিজ লি. নামে একটি চামড়ার মিলের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ৩০ বছর বয়সী কেয়া খাতুন উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের কাদিরপাড়া গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে। আটক ৩৫ বছর বয়সী শামীম একই উপজেলার রাজঘাট মাইলপোস্ট এলাকার খন্দকার মোশারফ হোসেনের ছেলে। তারা দুজনই একই মিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানান, সোমবার দুপুরে টিফিনের সময় মিলের ভেতরে ক্যান্টিনে বসে ছিলেন কেয়া। এ সময় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন শামীম। এতে রাজি না হওয়ায় দুজনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে লোহর রড দিয়ে কেয়ার মাথায় আঘাত করেন। কেয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মিলের ভেতর থেকে একটি মগে এসিড এনে শরীর ও মুখে ঢেলে দেন শামীম। কেয়ার চিৎকারে ক্যান্টিনের ভেতরে থাকা শ্রমিকরা এগিয়ে এসে শামীমকে ধরে মিল কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। পরে আহত কেয়াকে খুলনা আদদ্বীন হাসপাতালে পাঠান তারা। একই সঙ্গে শামীমকে অভয়নগর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

নিহত কেয়ার মামা হাবিবুর রহমান মজুমদার বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় খুলনার আদদ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার ভাগ্নি কেয়া মারা যান। ১০ বছর ধরে ১১ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান নিয়ে দিরপাড়া গ্রামে থাকছিলেন কেয়া। একই মিলে চাকরি করায় দীর্ঘদিন ধরে আমার ভাগ্নি কেয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল শামীম। রাজি না হওয়ায় শামীম আমার ভাগ্নিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। খুনি শামীমের ফাঁসি দাবি করেন তিনি।

অভয়নগর থানার ওসি একেএম শামীম হাসান জানান, পরকীয়া প্রেমের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন শামীম। এসিড নিয়ন্ত্রণ আইনে শামীমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর